×
ঢাকা, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

নেপাল-শ্রীলংকা পারলেও বাংলাদেশ পারছে না

২০২৬ অক্টোবর ১৮ ১৮:৪২:৩৫
নেপাল-শ্রীলংকা পারলেও বাংলাদেশ পারছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হলো প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স। দেশের অর্থনীতিকে সচল ও চাঙ্গা রাখার মূল কারিগর হিসেবে এই ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের’ বিশেষ সম্মান জানানো হলেও, তাদের প্রকৃত অবস্থা ও নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগের অবকাশ রয়েছে।

সদ্য প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের নতুন শ্রমবাজার খোঁজার ক্ষেত্রে গতি অনেকটাই শ্লথ। নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভারত এমনকি পাকিস্তানের তুলনায় নতুন কর্মসংস্থানের তালিকায় বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে পড়েছে। যেখানে অন্য দেশগুলো প্রতিনিয়ত নতুন নতুন আন্তর্জাতিক গন্তব্য খুঁজছে, সেখানে বাংলাদেশ এখনও অনেকটা সৌদি আরবের মতো গুটিকয়েক দেশের ওপরই অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে আছে।

গত বছর বাংলাদেশ থেকে বিদেশে গেছেন ১১ লক্ষ ৩২ হাজার ৩৬০ জন শ্রমিক, যার মধ্যে সিংহভাগই গেছেন সৌদি আরবে (৭ লক্ষ ৫৫ হাজার ১৯৪ জন)। অন্যান্য দেশের মধ্যে কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে শ্রমিকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হলেও সামগ্রিক গন্তব্য বৈচিত্র্য নেই বললেই চলে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশে শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়া ও সংখ্যা খুবই সীমিত। জাপান সরকার আগামী পাঁচ বছরে এক লক্ষ কর্মী নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও, বাস্তবতা হলো—দক্ষতা ও ভাষাগত দক্ষতার অভাবে বাংলাদেশ এখনও প্রত্যাশা অনুযায়ী শ্রমিক পাঠাতে হিমশিম খাচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আমাদের শ্রমবাজারের এই সংকটের মূল কারণ হলো নীতিগত সিদ্ধান্তের অভাব। কারিগরি প্রশিক্ষণের অভাব, বিদেশি ভাষার অজ্ঞতা এবং সঠিক বাজার গবেষণার অভাবে শ্রমিকরা বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। দেশের প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো (টিটিসি) যে মানসম্পন্ন দক্ষতা অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে, তা এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট। এছাড়া দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও কর্মসংস্থানমুখী কারিগরি শিক্ষায় পর্যাপ্ত অবদান রাখতে পারছে না।

প্রবাসীদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকির কারণ হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতির ওপর নজর রাখলে দেখা যায়, নতুন বাজার তৈরির কার্যকর কোনো উদ্যোগ না থাকায় বাংলাদেশ শুধু গুটিকয়েক দেশের শ্রমবাজারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে, যা ভবিষ্যতে জাতীয় অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের সংকটের কারণ হতে পারে।

রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের নিয়ে গর্বের পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শ্রমবাজারের বৈচিত্র্য আনা এখন সময়ের দাবি। নীতিনির্ধারকদের দ্রুত এই বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, নতুবা অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হবে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর

উ
প
রে