×
ঢাকা, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

কলকাতায় পূজামণ্ডপে ভিড়ের চাপে পদদলিত হয়ে ১৭ জনের মৃত্যু

২০২৬ অক্টোবর ১৮ ০০:২১:৩২
কলকাতায় পূজামণ্ডপে ভিড়ের চাপে পদদলিত হয়ে ১৭ জনের মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট: পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার একটি দুর্গোৎসবের মণ্ডপে অতিরিক্ত জনস্রোত ও ভিড়ের ধাক্কায় পদদলিত হয়ে শিশুসহ অন্তত ১৭ জনের প্রাণহানির সংবাদ পাওয়া গেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ১৩ জন নারী ও একটি শিশু প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও অনেক দর্শনার্থী। গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে উত্তর কলকাতার গিরিশ পার্ক থানার অন্তর্গত সারদা পার্ক বা চোরবাগান পূজামণ্ডপে এই বিপর্যয় ঘটে।

কলকাতা পুলিশের দাপ্তরিক ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় মুষলধারে বৃষ্টির কারণে মণ্ডপে সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় তৈরি হয়। ফলশ্রুতিতে সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে প্যান্ডেল থেকে বের হওয়ার মূল ফটকে চরম বিশৃঙ্খলা ও পদদলনের ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ জানায়, এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৫ জন আহত ব্যক্তিকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল কন্ট্রোল রুম, দমকল বাহিনী, ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট টিম এবং মেডিকেল দলসহ পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে যেকোনো ধরনের অনভিপ্রেত পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন সংশ্লিষ্ট পূজামণ্ডপটি সর্বসাধারণের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে।

দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্যের মুখ্য সচিব মনোজ আগরওয়াল দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যান এবং আহতদের চিকিৎসাসেবা ও সামগ্রিক পরিস্থিতি সরেজমিন খতিয়ে দেখেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মণ্ডপের যাতায়াতের পথ এবং বের হওয়ার প্রধান ফটকটি অত্যন্ত সংকীর্ণ হওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বার্তা সংস্থা এএনআইকে এক প্রত্যক্ষদর্শী বর্ণনা করেন যে, অতিরিক্ত মানুষের ধাক্কায় অনেকেই সংজ্ঞা হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। অনেক আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে দ্রুততার সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ওই প্রত্যক্ষদর্শী আরও বলেন, ‘মণ্ডপের প্রবেশপথ এবং প্রস্থান পথ—দুটিই ছিল অত্যন্ত সরু। তাছাড়া ওই নির্দিষ্ট এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও ছিল না। আমার নিজের মেয়ে ও নাতনিকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছে।’

দুর্ঘটনা ঘটার পরপরই পূজার আয়োজক কতৃপক্ষ প্যান্ডেলে দর্শনার্থী প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয় এবং প্যান্ডেলের বাতি নিভিয়ে অন্ধকার করে দেয়। তবে ঠিক কী কারণে বা কোন পরিস্থিতির শিকার হয়ে এই পদদলনের ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো কারণ জানাতে পারেনি কেউ।

সংবাদ সংস্থা আইএএনএস-এর সঙ্গে আলাপকালে পূজার আয়োজক কমিটির সদস্য বিকাশ দাস বলেন, ‘এই মুহূর্তে সুনির্দিষ্ট করে বলা অসম্ভব যে ঘটনাটি আদতে কীভাবে ঘটল। আমাদের প্রধান ও একমাত্র লক্ষ্য হলো দ্রুত উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা এবং আহতদের হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া। পুলিশ, দমকল ও দুর্যোগ মোকাবিলা বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণেই পদদলিত হয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা আমরা তদন্ত সাপেক্ষে বলতে পারব।’

এদিকে এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে দুই লাখ রুপি করে এবং আহতদের প্রত্যেকের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে অন্তর্বর্তীকালীন আর্থিক অনুদান ঘোষণা করেছেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদি উল্লেখ করেন, ‘কলকাতার পদদলনের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। যাঁরা তাঁদের প্রিয়জনদের হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা রইল। আহতরা যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় স্থানীয় প্রশাসন সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও এ দুর্ঘটনায় তীব্র শোক প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ সফরে থাকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোববারের পূর্বনির্ধারিত সমস্ত রাজনৈতিক কর্মসূচি বাতিল করেছেন এবং আহতদের দেখতে সরাসরি হাসপাতালে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক বার্তায় অমিত শাহ জানান, ‘চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপূজার মণ্ডপে পদদলনের ফলে একাধিক মানুষের প্রাণহানির অত্যন্ত মর্মান্তিক খবর আমার গোচরীভূত হয়েছে। এ বিষয়ে আমি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ফোনে আলোচনা করেছি। যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা জানাই। আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কাজ করছে। তাদের হাসপাতালে দেখতে যাওয়ার সুবিধার্থে আগামীকালের পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত নির্ধারিত রাজনৈতিক কর্মসূচি স্থগিত করলাম। মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা করি, আহতরা যেন দ্রুত আরোগ্য লাভ করেন।’

অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই অনভিপ্রেত দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক্সে দেওয়া নিজের বার্তায় তিনি লেখেন, ‘চোরবাগান পূজামণ্ডপে ঘটা পদদলনের আকস্মিক ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত ও ব্যথিত। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করি। এই চরম দুঃসময়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সদস্যরা যেন পর্যাপ্ত মানসিক শক্তি ও সাহস পান, দেবী দুর্গার চরণে সেই প্রার্থনা জানাই।’

মিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর

উ
প
রে