×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

পোশাক টেনে অপমান ও মারধরের অভিযোগ নিয়ে নতুন বিতর্ক

২০২৬ অক্টোবর ১৫ ১২:০৮:৪৮
পোশাক টেনে অপমান ও মারধরের অভিযোগ নিয়ে নতুন বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারতের দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলাকালে আটক হওয়া একাধিক শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারী পুলিশের বিরুদ্ধে মারধর, দুর্ব্যবহার এবং ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ তুলেছেন। কয়েকজন বিক্ষোভকারী তাঁদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখিয়ে আটকের সময় নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে বিবিসি বাংলা। অভিযোগের বিষয়ে দিল্লি পুলিশের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ১০ ও ১১ অক্টোবরের কর্মসূচিতে তাঁদের আটক করে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় কয়েকজনকে ধাক্কা দিয়ে বাসে তোলা, চুল টানা, পোশাক টেনে অপমান করা এবং শারীরিকভাবে আঘাত করার ঘটনা ঘটে। তাঁদের দাবি, আটকের পর পর্যাপ্ত খাবার, পানীয় জল ও শৌচাগারের সুবিধাও পাওয়া যায়নি। এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।

আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী এবং স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার (এসএফআই) সদস্য শরণ্যা শর্মাকে ১১ অক্টোবরের বিক্ষোভ চলাকালে আটক করা হয়। তাঁর অভিযোগ, নারী পুলিশ সদস্যরা তাঁর পোশাক টেনে তোলেন এবং পুরুষ কমান্ডোরা জোর করে তাঁকে বাসে তোলেন। এ সময় তাঁর চুলও টানা হয় বলে দাবি করেন তিনি। শরণ্যার ভাষ্য অনুযায়ী, বাসে তোলার সময় দরজা বন্ধ করতে গিয়ে তাঁর পা আটকে যায়। ভেতরে থাকা অন্য নারীরা দরজা খোলার অনুরোধ জানালেও পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শরণ্যা জানান, সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে তাঁকে আটক করে নাঙ্গলোইয়ের একটি আটককেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। গভীর রাতে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয় বলে তাঁর দাবি। আটককেন্দ্রে খাবার, পানীয় জল ও শৌচাগারের মতো ন্যূনতম সুবিধার অভাব ছিল বলেও অভিযোগ করেন এই শিক্ষার্থী।

এসএফআইয়ের দিল্লি সভাপতি ও ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের শিক্ষার্থী নাদিয়াকেও ১০ অক্টোবরের বিক্ষোভ থেকে আটক করা হয়েছিল। পরে তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নাদিয়ার অভিযোগ, আটকের সময় নারী পুলিশ সদস্যরা তাঁর চুল টানেন, চিমটি কাটেন এবং তাঁকে মারধর করেন। মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলে একজন পুলিশ সদস্য তাঁর ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও দাবি করেন তিনি।

নাদিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, বাসে তোলার পর কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাঁকে টানাহেঁচড়া করেন এবং শারীরিকভাবে আঘাত করেন। এ সময় তাঁকে ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নাদিয়ার দাবি, এ ধরনের আচরণের মাধ্যমে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে তাঁর অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দিল্লিতে পিএইচডি গবেষণারত নোভেল নামের এক বিক্ষোভকারীও আটকের সময় মারধরের অভিযোগ করেছেন। তাঁর হাতে ভগৎ সিংয়ের পোস্টার ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাঁকে আটক করার দৃশ্য দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নোভেলের দাবি, তাঁকে দিল্লি ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনের একটি বাসে তুলে প্রায় তিন ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। এ সময় বারবার তাঁকে চড় মারা হয় এবং শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়।

নোভেল অভিযোগ করেন, বাসে তোলার পর কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাঁকে মারধর করেন। তাঁর দাবি, একপর্যায়ে একজন পুলিশ সদস্য তাঁর যৌনাঙ্গে বুট দিয়ে আঘাত করেন, আরেকজন বুকে লাথি মারেন এবং অন্য একজন তাঁর গলা চেপে ধরেন। নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন বলেও জানান তিনি। নোভেলের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন ঘণ্টা পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এসব অভিযোগও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিক্ষোভের সময় আটক হওয়া কয়েকজনের দাবি, সেখানে অপ্রাপ্তবয়স্করাও ছিল এবং তাদের কেউ কেউ আহত হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা তথ্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

এদিকে, ১০ ও ১১ অক্টোবর বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে একাধিক সাংবাদিকও আটক হয়েছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টসের (সিপিজে) তথ্য অনুযায়ী, দিল্লি, আহমেদাবাদ ও পুনেতে অন্তত ৩৭ জন সাংবাদিককে আটক করা হয়েছিল, যাঁদের মধ্যে ৩৫ জনের বেশি দিল্লির সাংবাদিক ছিলেন। আটক সাংবাদিকদের মধ্যে স্ক্রল, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, নিউজলন্ড্রি ও দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস হিন্দির সাংবাদিকরাও ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিউজলন্ড্রির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটক কয়েকজন সাংবাদিকের মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছিল। সাংবাদিকদের আটকের ঘটনা এবং বিক্ষোভকারীদের নির্যাতনের অভিযোগের ফলে প্রতিবাদ কর্মসূচি চলাকালে পুলিশের ভূমিকা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, নির্বাচনি তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে তাঁদের আপত্তি এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের জবাবদিহির দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে, আটক ও নির্যাতনের অভিযোগগুলোর বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য এবং স্বাধীন তদন্তের ফল পাওয়া গেলে ঘটনাগুলোর প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর

উ
প
রে