×
ঢাকা, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

‘পরীক্ষার প্রশ্নে’ কংগ্রেসের বদলে ককরোচ!

২০২৬ অক্টোবর ১১ ১২:৫১:৪৩
‘পরীক্ষার প্রশ্নে’ কংগ্রেসের বদলে ককরোচ!

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের সামনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামে পরিচিত একটি তরুণদের আন্দোলন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট দিয়ে যাত্রা শুরু করা এই উদ্যোগ এখন বেকারত্ব, শিক্ষাব্যবস্থার সংকট এবং ভোটার তালিকার স্বচ্ছতার মতো ইস্যুতে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। প্রতিষ্ঠিত বিরোধী দলগুলোর বাইরেও তরুণদের এমন আন্দোলন ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নজর কেড়েছে।

জুগান্তরের প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স, আল জাজিরা ও দ্য গার্ডিয়ানের বরাতে বলা হয়েছে, আন্দোলনটির প্রতিষ্ঠাতা ৩১ বছর বয়সী অভিজিৎ দীপকে ১০ অক্টোবর দিল্লিতে একটি বিক্ষোভে যোগ দিতে যাওয়ার সময় আটক হন। নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ওই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্কের মধ্যে দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বিক্ষোভ ঘিরে বিপুলসংখ্যক মানুষকে আটকের খবরও প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে বেকার তরুণদের ‘তেলাপোকা’ বলে তুলনা করার একটি মন্তব্যের জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট দেন অভিজিৎ দীপকে। তাঁর পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে একটি উদ্যোগ গড়ে ওঠে।

শুরুতে অনলাইনভিত্তিক ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ হিসেবে পরিচিতি পেলেও পরবর্তী সময়ে এটি তরুণদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরার প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়। কর্মসংস্থান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহির মতো বিষয় নিয়ে প্রচার চালিয়ে আসছেন আন্দোলনটির সমর্থকেরা।

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করেও আন্দোলনটি সক্রিয় হয়ে ওঠে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রায় ২০ লাখ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে পরীক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবি সামনে আসে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিও জোরালো হয়েছিল এবং ২৫ জুলাই তাঁর পদত্যাগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ, আন্দোলনের প্রভাব এবং পদত্যাগের কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের ভিত্তিতে তথ্য যাচাই করা জরুরি।

বর্তমানে আন্দোলনটির অন্যতম প্রধান ইস্যু ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন। বিরোধী দল ও আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সংশোধনপ্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, এর ফলে যোগ্য ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগে সমস্যা তৈরি হতে পারে।

প্রতিবেদনে খসড়া তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ পড়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই সংখ্যা কোন সময়সীমা, কোন অঞ্চল এবং কী ধরনের তালিকা সংশোধনের সঙ্গে সম্পর্কিত, তা স্পষ্টভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, তালিকা সংশোধনের সময় বিভিন্ন অসংগতি শনাক্ত করা হয়েছে এবং ভুলভাবে বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের পুনরায় নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিজিৎ দীপকে ও তাঁর সমর্থকেরা নির্বাচন কমিশনের প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, ভোটার তালিকার পরিবর্তন ক্ষমতাসীন বিজেপির নির্বাচনী সুবিধা বাড়াতে পারে। তবে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ভারতের রাজনীতিতে কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে মোদি সরকারের অন্যতম প্রধান বিরোধী দল। তবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে পরিচিত আন্দোলনটির উত্থান তরুণদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের নতুন একটি দিক সামনে এনেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের বাইরে থেকেও কর্মসংস্থান, শিক্ষাব্যবস্থা ও নির্বাচনপ্রক্রিয়ার মতো বিষয়ে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করছে আন্দোলনটি।

অভিজিৎ দীপকে তাঁর উদ্যোগকে প্রচলিত রাজনৈতিক দলের পরিবর্তে সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনার একটি চাপ সৃষ্টিকারী আন্দোলন হিসেবে তুলে ধরেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে আটক ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে ঘটনাটি ভারতের রাজনৈতিক পরিসর, প্রতিবাদের অধিকার এবং নির্বাচনপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে বৃহত্তর আলোচনার অংশ হয়ে উঠেছে। তবে আন্দোলনটির প্রকৃত সাংগঠনিক শক্তি, জনসমর্থনের ব্যাপ্তি এবং রাজনৈতিক প্রভাব নির্ধারণে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর

উ
প
রে