×
ঢাকা, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

বেক্সিমকোর বন্ধ কারখানা খুলতে ২৩ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব

২০২৬ অক্টোবর ০৭ ১৮:১৬:৩৫
বেক্সিমকোর বন্ধ কারখানা খুলতে ২৩ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যাংক ঋণের বড় বোঝা এবং দীর্ঘদিনের বন্ধ কার্যক্রমের মধ্যে বেক্সিমকো গ্রুপ তাদের একটি কারখানা নতুন ব্যবসায়িক মডেলে চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এ উদ্যোগে ব্রিটিশ ও চীনা দুটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মোট ২৩ মিলিয়ন ডলার বা ২ কোটি ৩০ লাখ ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে। প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন পাওয়া গেলে আগামী বছরের এপ্রিলেই কারখানাটিতে পুনরায় উৎপাদন শুরু হতে পারে।

গাজীপুরের কাশিমপুরে বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে বন্ধ থাকা ১৬টি তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল ইউনিটের মধ্যে প্রথমে ‘প্রিফিক্স ফ্যাশনস লিমিটেড’ চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত বিনিয়োগে অর্থায়ন করবে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান ‘চার্টার এইচসিপি লিমিটেড’ এবং চীনা প্রতিষ্ঠান ‘বেস্টিং লিমিটেড’। আর পুরো উদ্যোগে অ্যাসেট ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে জাপানি-বাংলাদেশি যৌথ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠান ‘রিভাইভাল গ্লোবাল’।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বেক্সিমকো গ্রুপের সঙ্গে পাঁচ বছরের জন্য একটি লিজ বা চুক্তিতে যাবে। এই ব্যবস্থায় রপ্তানি থেকে অর্জিত অর্থ সরাসরি ব্যাংক হিসাবে জমা হবে। এরপর লিয়েনধারী ব্যাংকগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই অর্থ থেকে ঋণের কিস্তি কেটে নেবে। ফলে ঋণ পরিশোধের অর্থ ব্যবস্থাপনায় বেক্সিমকো গ্রুপের সরাসরি হস্তক্ষেপ থাকবে না। উদ্যোক্তারা মনে করছেন, এতে ঋণ পরিশোধের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সহজ হবে।

এ উদ্যোগের অগ্রগতি নিয়ে আগামী ১১ অক্টোবর বিনিয়োগ সুবিধা প্রদানকারী শীর্ষ সংস্থা ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’-এর চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে বেক্সিমকো ও রিভাইভাল গ্লোবালের কর্মকর্তাদের। এরপর বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া গেলে প্রিফিক্স ফ্যাশনস চালুর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

কারখানাটি চালু হলে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ২ হাজার ৫০০ শ্রমিকের কর্মসংস্থান তৈরি হবে। এখানে উৎপাদিত পোশাকের প্রধান অংশই আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য তৈরি করা হবে। মোট উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশ জ্যাকেট হবে বলে পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে। উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা, উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হওয়ার পরবর্তী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে এ কারখানা থেকে প্রায় ৫০ কোটি বা ৫০০ মিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করা সম্ভব হবে।

প্রিফিক্স ফ্যাশনসের মাধ্যমে নেওয়া উদ্যোগ সফল হলে পর্যায়ক্রমে বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের বাকি ১৫টি বন্ধ ইউনিটও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর চাকরি হারানো ৩০ হাজারের বেশি শ্রমিকের পুনরায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বেক্সিমকো গ্রুপের কারখানাগুলো ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতার পরিবর্তনের পর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার মুখে পড়ে। এর পর শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে ব্যর্থতার প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সালের মার্চে অন্তর্বর্তী সরকার কারখানাগুলো বন্ধ ঘোষণা করে। এর আগে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের জন্য সরকার ৫২৬ কোটি টাকা অর্থ সহায়তা দিয়েছিল।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বেক্সিমকো গ্রুপের মালিকানার সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে তিনি কারাবন্দী রয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেক্সিমকো গ্রুপের মোট ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ৪০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এর মধ্যে শুধু গাজীপুরের ওই ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের ৩২টি কারখানার বিপরীতে ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ২৯ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা। এই ঋণের সবচেয়ে বড় অংশ রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের কাছে। ব্যাংকটির পাওনা প্রায় ২৩ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা।

এ অবস্থায় বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রথমে একটি কারখানা চালু করে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে বেক্সিমকো। প্রিফিক্স ফ্যাশনসের উদ্যোগ সফল হলে একই মডেলে পার্কের অন্যান্য বন্ধ ইউনিট চালুর পথও তৈরি হতে পারে।

এসউদ্দিন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে