×
ঢাকা, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে নতুন কড়াকড়ি, যেসব নিয়ম জানতেই হবে

২০২৬ অক্টোবর ০৩ ০৯:০১:২৯
অস্ট্রেলিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে নতুন কড়াকড়ি, যেসব নিয়ম জানতেই হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক: অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করে বারবার স্টুডেন্ট ভিসা নেওয়া এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সুযোগ আরও সীমিত করেছে দেশটির সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ায় থাকা স্টুডেন্ট ভিসাধারীরা নতুন করে স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন করতে চাইলে তাদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা ও নির্ধারিত শর্ত পূরণের বিষয়টি দেখাতে হবে। শর্ত পূরণ না হলে অস্ট্রেলিয়া ছেড়ে দেশের বাইরে থেকে নতুন ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।

নতুন বিধান ২ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, যেসব স্টুডেন্ট ভিসাধারী দেশটির ভেতর থেকে নতুন স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন করার যোগ্য হবেন না, তাদের অস্ট্রেলিয়া ত্যাগ করে আবেদন করতে হবে। শুধু আবেদন করলেই হবে না, ভিসা মঞ্জুর হওয়ার সময়ও আবেদনকারীকে অস্ট্রেলিয়ার বাইরে অবস্থান করতে হবে। এ ধরনের আবেদনের ক্ষেত্রে ব্রিজিং ভিসা দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকছে না।

তবে কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করেই নতুন স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে, কোনো বিষয়ে অকৃতকার্য হলে কিংবা তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে চলমান কোর্স শেষ করতে অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট শর্তে দেশটির ভেতর থেকেই আবেদন করা যাবে।

পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থী এবং একটি কোর্স শেষ করে উচ্চতর পর্যায়ে পড়াশোনা করতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট শর্তে অস্ট্রেলিয়ায় থেকেই নতুন স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন করার সুযোগ থাকবে। তবে উচ্চতর পর্যায়ের পড়াশোনা থেকে অপেক্ষাকৃত নিচের স্তরের ভোকেশনাল কোর্সে গিয়ে নতুন স্টুডেন্ট ভিসা নেওয়ার সুযোগ সীমিত করা হয়েছে।

শুধু বর্তমান স্টুডেন্ট ভিসাধারীরাই নন, অস্ট্রেলিয়ায় থাকা কয়েক ধরনের অস্থায়ী ভিসাধারীর জন্যও নতুন নিয়ম করা হয়েছে। ওয়ার্কিং হলিডে, ট্রেনিং এবং স্কিলস ইন ডিমান্ডসহ কিছু অস্থায়ী ভিসার অধীনে থাকা ব্যক্তিরা এখন অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করে স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন করতে পারবেন না। তাদের দেশটির বাইরে গিয়ে নতুন ভিসার আবেদন করতে হবে।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হয়েছে। ২ অক্টোবর থেকে স্কুলের বাইরে থাকা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মূল কোর্সে অন্তত ১২ মাস পূর্ণ হওয়ার আগে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার সুযোগ সীমিত করা হয়েছে। আগে এ ক্ষেত্রে ছয় মাসের সময়সীমা ছিল।

নতুন স্টুডেন্ট ভিসা ট্রান্সফার ব্যবস্থা চালু না হওয়া পর্যন্ত এই অন্তর্বর্তী নিয়ম কার্যকর থাকবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের জন্য আলাদা স্টুডেন্ট ভিসা ট্রান্সফার ব্যবস্থা চালু হতে পারে। তখন নতুন প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা শুরু করার আগেই নতুন ভিসা নেওয়ার প্রয়োজন হবে। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে।

স্টুডেন্ট ভিসাধারীদের পরিবারের সদস্যদের অস্ট্রেলিয়ায় নেওয়ার ক্ষেত্রেও নিয়ম পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় অধিকাংশ শিক্ষার্থী পরবর্তী সময়ে স্বামী-স্ত্রী বা সন্তানকে নিজের স্টুডেন্ট ভিসার সঙ্গে যুক্ত করে অস্ট্রেলিয়ায় নেওয়ার সুযোগ পাবেন না। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিতে চাইলে মূল স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন করার সময়ই তাদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

তবে পিএইচডি শিক্ষার্থী, অস্ট্রেলিয়া বা বিদেশি সরকারের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীসহ নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির জন্য বিশেষ ছাড় রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় একসঙ্গে থাকা পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রেও আলাদা ব্যবস্থা থাকবে।

আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও নাগরিকত্ববিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিল বলেছেন, স্টুডেন্ট ভিসার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে পড়াশোনা। এক ভিসা থেকে অন্য ভিসায় পরিবর্তনের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় অস্ট্রেলিয়ায় থাকার প্রবণতা কমানো এবং দেশটির আন্তর্জাতিক শিক্ষা ব্যবস্থার মান ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতেই নতুন নিয়ম করা হয়েছে।

তবে নতুন বিধান কার্যকর হওয়ার আগে, অর্থাৎ ২ অক্টোবরের আগে জমা দেওয়া স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন আগের নিয়ম অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা হবে।

নতুন নিয়ম কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের জন্য আলাদাভাবে করা হয়নি। ফলে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করে ভিসার ধরন পরিবর্তন, নতুন স্টুডেন্ট ভিসা নেওয়া কিংবা পড়াশোনার স্তর পরিবর্তনের সুযোগ আগের তুলনায় আরও সীমিত হলো।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

প্রবাস এর সর্বশেষ খবর

প্রবাস - এর সব খবর

উ
প
রে