×
ঢাকা, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

দিল্লির উত্তাল বিক্ষোভে সোচ্চার বিরোধীরা, কঠোর অবস্থানে পুলিশ!

২০২৬ অক্টোবর ০২ ১৯:১৫:৫৭
দিল্লির উত্তাল বিক্ষোভে সোচ্চার বিরোধীরা, কঠোর অবস্থানে পুলিশ!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে শুক্রবার ব্যাপক রাজনৈতিক বিক্ষোভ হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর-মন্তরে জড়ো হন বিরোধী রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দিল্লি পুলিশ সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অতিশী, আম আদমি পার্টির (এএপি) দিল্লি প্রধান সৌরভ ভরদ্বাজ, সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব এবং অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) সভাপতি নেহা বোরাসহ ৭০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করে।

স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর কার্যক্রমে কথিত অনিয়ম এবং বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় নানা অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে। এসব অভিযোগের জবাবদিহি দাবি করে তারা সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের আহ্বান জানান।

কর্মসূচির জন্য পুলিশের অনুমতি না থাকায় আগেই যন্তর-মন্তরসহ মধ্য দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল। নিউ দিল্লি জেলায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস)-এর ১৬৩ ধারা জারি করা হয়। এর আওতায় নির্ধারিত সীমার বাইরে মানুষের জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।

বিক্ষোভ শুরুর আগে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় এএপির দিল্লি প্রধান সৌরভ ভরদ্বাজ বলেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। তাঁর দাবি, সমাবেশ করার অনুমতি চেয়ে এএপি ছয় দিন আগেই আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছিল। তবে দিল্লি পুলিশের বক্তব্য ছিল, যন্তর-মন্তরে ওই কর্মসূচির অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

এএপির পাশাপাশি ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেস এবং বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন। এআইএসএ, এসএফআই, এনএসইউআইসহ বিভিন্ন ছাত্র ও যুব সংগঠনের সদস্যদেরও বিক্ষোভে দেখা যায়।

রাইসিনা রোডে ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেসের কার্যালয় থেকে যন্তর-মন্তরের উদ্দেশে মিছিল বের করার চেষ্টা করা হলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। সংগঠনটির সভাপতি উদয় ভানু চিবের নেতৃত্বে এই কর্মসূচি পালিত হয়। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় ঘেরাওয়ের ঘোষণাও দিয়েছিল সংগঠনটি।

উদয় ভানু চিব বলেন, প্রতিটি ভোটের মর্যাদা রক্ষা করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। ভোটার তালিকা নিয়ে কমিশনের ভেতরেই যখন প্রশ্ন উঠছে, তখন দেশের মানুষের কাছে বিষয়টির ব্যাখ্যা ও জবাবদিহি প্রয়োজন। নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিলে তরুণরা নীরব থাকতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিক্ষোভকারীরা এক জায়গায় ১০ জন বা তার বেশি সংখ্যায় জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। পরে আটক অনেক বিক্ষোভকারীকে বাসে করে দিল্লির বিভিন্ন থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

পুলিশের হাতে আটক ব্যক্তিদের বাদরপুর এবং দিল্লির উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন থানায় নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আটকদের মধ্যে সাবেক দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অতিশী, এএপি নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ, সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব এবং এআইএসএ সভাপতি নেহা বোরাও রয়েছেন।

এদিকে জনপথ এলাকাতেও পরে বিক্ষোভকারীদের জটলা তৈরি হয়। সেখানে কয়েক ডজন মানুষ অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ চালিয়ে যান। তাদের পার্লামেন্ট স্ট্রিট ও যন্তর-মন্তরের দিকে অগ্রসর হতে দেয়নি পুলিশ।

বিক্ষোভের প্রভাব পড়েছে দিল্লির গণপরিবহন ব্যবস্থাতেও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যন্তর-মন্তর, রাজীব চৌক ও সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েটসহ কেন্দ্রীয় দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়। বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লি মেট্রোর বেশ কয়েকটি স্টেশনের প্রবেশ ও বহির্গমন পথ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

এ ছাড়া বিক্ষোভস্থল ও আশপাশের এলাকায় ইন্টারনেট সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় কেন্দ্রীয় দিল্লির বিভিন্ন স্থানে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হয়।

একই ইস্যুতে মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কেও আলাদা কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) সেখানে ‘জেল ভরো আন্দোলন’ কর্মসূচি ঘোষণা করে। দলটি এসআইআর প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়ম এবং ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছে।

বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এসআইআর কার্যক্রমের মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়েছে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম ও এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। নির্বাচন কমিশন অবশ্য অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং তাদের সিদ্ধান্ত ও প্রক্রিয়া নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে।

দিল্লির এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে একদিকে বিরোধী দল ও সংগঠনগুলো নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি দাবি করছে, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে এভাবেই ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

মিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর

উ
প
রে