×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়ে যা বললেন আম্মার

২০২৬ অক্টোবর ০১ ১৭:৪০:২৫
২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়ে যা বললেন আম্মার

নিজস্ব প্রতিবেদক: নিজের বিরুদ্ধে ওঠা পদবাণিজ্য ও চাঁদাবাজির অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার। তিনি বলেছেন, নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ দিয়ে কেউ তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি বা অর্থের বিনিময়ে পদ দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণ করতে পারলে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পৃথক দুটি স্ট্যাটাসে এ চ্যালেঞ্জ জানান আম্মার। প্রথম স্ট্যাটাসে তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সমালোচনা করে তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কোনো পদ টাকার বিনিময়ে দেওয়ার অভিযোগের প্রমাণ দিতে বলেন।

আম্মার দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে, সেগুলোর পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করা উচিত। তিনি শিবিরের উদ্দেশে অন্তত একটি পদবাণিজ্যের প্রমাণ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ করার চ্যালেঞ্জ জানান।

অন্য একটি স্ট্যাটাসে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মাধ্যমে তাকে ‘চাঁদাবাজ’ হিসেবে আখ্যায়িত করার বিষয়টি তুলে ধরেন আম্মার। তিনি দেশের গোয়েন্দা সংস্থা, ছাত্রশিবির, রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ থাকলে কোনো ভুক্তভোগীকে সামনে এনে সুস্পষ্ট ও যাচাইযোগ্য তথ্য-প্রমাণ প্রকাশ করা হোক।

তিনি আরও বলেন, কেউ নির্ভরযোগ্য প্রমাণসহ প্রমাণ করতে পারলে যে তিনি কারও কাছ থেকে চাঁদা নিয়েছেন, তাহলে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিচ্ছেন। অর্থাৎ অভিযোগের পরিবর্তে প্রমাণ উপস্থাপনের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

আম্মারের বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন তার সঙ্গে ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পর্ক এবং সংগঠনটির পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে নেওয়া আগের সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রকাশিত শিবিরের সাংগঠনিক চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে আম্মারের ‘সাথী’ পদ প্রথমে স্থগিত এবং পরে বাতিল করা হয়। শিবিরের নথি ও সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ, নৈতিক পদস্খলন, অবৈধ আর্থিক লেনদেনসহ একাধিক অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তার ‘সাথী’ পদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে অভিযোগের বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হওয়ার কথা উল্লেখ করে একই বছরের সেপ্টেম্বরে পদটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে শিবিরের চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা নিয়ে আম্মার আপত্তি জানিয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে প্রমাণ না দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।

এর আগে ২০২৫ সালের রাকসু নির্বাচনে ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ প্যানেল থেকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন সালাহউদ্দিন আম্মার। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ ও সেগুলোর বিষয়ে তার পাল্টা বক্তব্য নিয়ে ক্যাম্পাসে আলোচনা চলছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে আম্মারের বক্তব্য হলো—অভিযোগ নয়, নির্ভরযোগ্য প্রমাণ সামনে আনা উচিত।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে