×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

মুনাফা ও নগদ প্রবাহে বড় উত্থান, ডিভিডেন্ডে বৃদ্ধির প্রত্যাশা তৈরি

২০২৬ অক্টোবর ০১ ১২:৫৮:০২
মুনাফা ও নগদ প্রবাহে বড় উত্থান, ডিভিডেন্ডে বৃদ্ধির প্রত্যাশা তৈরি

নিজস্ব প্রতিবেদক: মুনাফা ও পরিচালন নগদ প্রবাহে আগের বছরের তুলনায় উন্নতি করেছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ। চলতি ২০২৫-২৬ হিসাববছরের প্রথম নয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় এবং শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ উভয়ই বেড়েছে। একই সময়ে বিক্রয়লব্ধ অর্থ সংগ্রহ ও রপ্তানি আয় আদায়ের ক্ষেত্রে উন্নতি হয়েছে। ফলে চলতি বছর কোম্পানিটির ডিভিডেন্ড আগের বছরের তুলনায় বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে চূড়ান্ত ডিভিডেন্ডের পরিমাণ নির্ধারিত হবে পুরো বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক ফলাফল ও পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে।

কোম্পানির প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে সিমটেক্সের শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ২৬ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ২৮ পয়সা। অর্থাৎ প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় কিছুটা কমেছে।

তবে প্রথম প্রান্তিকে পরিচালন নগদ প্রবাহে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৫ সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ হয়েছে ২৯ পয়সা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ঋণাত্মক ৫৫ পয়সা। একই সময়ে আগের বছরের তুলনায় বিক্রয় কার্যক্রম সন্তোষজনক ছিল এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ সংগ্রহও বেড়েছে। এর ফলে কার্যকরী মূলধন ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।

দ্বিতীয় প্রান্তিকেও মুনাফা ও নগদ প্রবাহের ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকে। অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০২৫ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৪১ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩৩ পয়সা। ফলে একক প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ৮ পয়সা।

ছয় মাসের হিসাবে জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫ সময়ে সিমটেক্সের শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ৬৭ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ৬১ পয়সা। অর্থাৎ ছয় মাসে শেয়ারপ্রতি আয় ৬ পয়সা বেড়েছে।

এদিকে, জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫ সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ হয়েছে ১ টাকা ৪ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ঋণাত্মক ৬৩ পয়সা। কোম্পানির মতে, আলোচ্য সময়ে নগদে রূপান্তরের সক্ষমতা উন্নত হয়েছে। পাওনা অর্থ সংগ্রহ বৃদ্ধি এবং রপ্তানি আয়ের অর্থ আদায় বাড়ায় নগদ প্রবাহ শক্তিশালী হয়েছে। যদিও আগের বছরের তুলনায় সরবরাহকারী, কর্মী ও অন্যান্য খাতে নগদ পরিশোধ এবং আয়কর পরিশোধ বেড়েছে, তারপরও মোট নগদ সংগ্রহ বহির্গমনের চেয়ে বেশি ছিল। ফলে শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ বেড়েছে।

তৃতীয় প্রান্তিকে এসে কোম্পানিটির মুনাফার প্রবৃদ্ধি আরও স্পষ্ট হয়েছে। জানুয়ারি-মার্চ ২০২৬ সময়ে সিমটেক্সের শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ২৯ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২৬ পয়সা।

আর জুলাই ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত নয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ৯৬ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ৮৭ পয়সা। অর্থাৎ নয় মাসে শেয়ারপ্রতি আয় ৯ পয়সা বেড়েছে।

নয় মাসে নগদ প্রবাহেও বড় ধরনের অগ্রগতি দেখা গেছে। জুলাই ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ হয়েছে ২ টাকা ৬৭ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ৫৮ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পরিচালন নগদ প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে।

তবে সম্পদের হিসাবে কিছুটা চাপ রয়েছে। ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বা এনএভি দাঁড়িয়েছে ২২ টাকা ৩৯ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৫ তারিখে এই এনএভি ছিল ২২ টাকা ৪৩ পয়সা। অর্থাৎ নয় মাসে শেয়ারপ্রতি এনএভি ৪ পয়সা কমেছে।

এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি এনএভি ছিল ২২ টাকা ৬৯ পয়সা এবং ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে তা ছিল ২২ টাকা ১০ পয়সা।

এদিকে, কোম্পানিটির ঋণমানও সন্তোষজনক অবস্থানে রয়েছে। ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস পিএলসি কোম্পানিটিকে দীর্ঘমেয়াদে ‘এ’ এবং স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-৩’ ঋণমান দিয়েছে। একই সঙ্গে কোম্পানিটির জন্য স্থিতিশীল পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ৩০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং ঘোষণার তারিখ পর্যন্ত অন্যান্য প্রাসঙ্গিক পরিমাণগত ও গুণগত তথ্য বিবেচনায় নিয়ে এই ঋণমান নির্ধারণ করা হয়েছে।

ডিভিডেন্ডের দিক থেকেও চলতি বছর বিনিয়োগকারীদের জন্য বাড়তি প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। ৩০ জুন ২০২৫ সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছিল। সেই সময়ের তুলনায় চলতি ২০২৫-২৬ হিসাববছরের প্রথম নয় মাসে শেয়ারপ্রতি আয় ৮৭ পয়সা থেকে বেড়ে ৯৬ পয়সা হয়েছে এবং শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ ৫৮ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৬৭ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।

ফলে পুরো বছরের আর্থিক ফলাফলে মুনাফা ও নগদ প্রবাহের এই ধারা বজায় থাকলে আগের বছরের ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ডের তুলনায় চলতি বছর ডিভিডেন্ড বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে পরিচালন নগদ প্রবাহে শক্তিশালী উন্নতি ডিভিডডেন্ড প্রদানের সক্ষমতার ক্ষেত্রে ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে চূড়ান্ত ডিভিডেন্ড বাড়বে কি না এবং বাড়লে কত শতাংশ হবে, তা এখনই নিশ্চিত নয়। পুরো বছরের নিরীক্ষিত মুনাফা, নগদ প্রবাহ, আর্থিক অবস্থান এবং পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তের ওপরই বিষয়টি নির্ভর করবে।

এদিকে, আগামী ১০ অক্টোবর ২০২৬ বিকেল সাড়ে ৪টায় কোম্পানিটির বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ৩০ জুন ২০২৬ সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে ডিভিডেন্ডের পরিমাণ।

অর্থাৎ, চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসের আর্থিক ফলাফলে মুনাফা ও পরিচালন নগদ প্রবাহের উন্নতি, পাওনা অর্থ সংগ্রহ বৃদ্ধি এবং রপ্তানি আয় আদায়ে অগ্রগতি সিমটেক্সের বর্তমান আর্থিক অবস্থাকে আগের বছরের তুলনায় তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী করেছে। এখন পুরো বছরের নিরীক্ষিত ফলাফল এবং পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে কোম্পানিটির চূড়ান্ত আর্থিক চিত্র ও সম্ভাব্য ডিভিডেন্ড।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে