×
ঢাকা, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মোজাফফরের সঙ্গে শেখ হাসিনার সাক্ষাৎ, সামনে এলো নতুন তথ্য

২০২৬ সেপ্টেম্বর ৩০ ০৯:৪৬:৪১
মোজাফফরের সঙ্গে শেখ হাসিনার সাক্ষাৎ, সামনে এলো নতুন তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন দেশে ফেরার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সাক্ষাতে মোজাফফর কী করবেন জানতে চাইলে শেখ হাসিনা তাকে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া এবং আত্মসমর্পণের পরামর্শ দিয়েছিলেন।

প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা জানান, গত ১৩ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় জিজ্ঞাসাবাদের সময় মোজাফফর নিজেই এসব তথ্য জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৯৭ বা ১৯৯৮ সালে দেশে ফেরার পর শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করেন মোজাফফর। পরে সিরাজগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবে মিল্লাতের মাধ্যমে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে তাদের সাক্ষাৎ হয়। সেখানে মোজাফফর শেখ হাসিনাকে স্যালুট করেন এবং এরপর কী করবেন, তা জানতে চান।

তখন শেখ হাসিনা তাকে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন এবং আত্মসমর্পণের কথাও বলেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন মোজাফফর। পরে তিনি আত্মসমর্পণ করেন। সেনা সদর থেকে এ বিষয়ে একটি চিঠিও পাঠানো হয়েছিল। তবে কোনো কারণে তাঁর যোগদানের বিষয়টি গ্রহণ করা হয়নি অথবা প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত হয়। এরপর তিনি বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্যে যুক্ত হন বলে প্রসিকিউটরের বক্তব্যে জানা যায়।

এদিকে, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর তাঁর মরদেহ চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস থেকে পাহাড়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়েও মোজাফফর জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মোজাফফর বলেছেন, তৎকালীন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মতিউর রহমান তাকে মরদেহ পাহাড় থেকে ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে সেই নির্দেশ পালন না করে পরে একজন ইমামকে ডেকে এনে জিয়াউর রহমানসহ তিনজনের মরদেহ একটি কবরে দাফন করা হয়। ইমামকে মরদেহগুলোর পরিচয় জানানো হয়নি বলেও মোজাফফর জানিয়েছেন বলে প্রসিকিউটর দাবি করেন।

১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল সেনা কর্মকর্তা তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেন। দীর্ঘ ৪৫ বছর পর গত ১৫ জুলাই রাজধানীর বনানী থেকে মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা আরও জানিয়েছেন, মোজাফফরের বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও পাসপোর্ট রয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর সঙ্গে শেখ হাসিনা ও তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য যাচাই করতে এর আগে মেটার কাছেও তথ্য চেয়েছিল প্রসিকিউশন।

তবে এসব তথ্য বর্তমানে মূলত প্রসিকিউশনের বক্তব্য এবং জিজ্ঞাসাবাদে মোজাফফরের দেওয়া বলে দাবি করা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত হয়েছে। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় এসব বক্তব্যের গ্রহণযোগ্যতা ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে বিষয়গুলো মূল্যায়ন হবে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে