×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকারি কমিটি থেকে আওয়ামীপন্থীদের সরানোর উদ্যোগ

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৪ ০৯:৩২:৫২
সরকারি কমিটি থেকে আওয়ামীপন্থীদের সরানোর উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, দপ্তর, সংস্থা এবং বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে থাকা বিদ্যমান সরকারি কমিটিগুলো পুনর্গঠন ও হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে পুরোনো কমিটিগুলোর সদস্য তালিকা পর্যালোচনা করে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সভাপতিত্বে থাকা ৯৮টি কমিটিও পুনর্গঠন করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে গত ১৮ আগস্ট এ বিষয়ে একটি চিঠি জারি করা হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা ও বাস্তবায়নের জন্য বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অসংখ্য কমিটি রয়েছে। এসব কমিটির অধিকাংশই কয়েক বছর আগে গঠিত হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে সেগুলো আর হালনাগাদ নেই। আবার কিছু কমিটির প্রজ্ঞাপন ও কার্যক্রম-সংক্রান্ত তথ্যও যথাযথভাবে পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে বিদ্যমান কমিটিগুলো পুনর্গঠন ও হালনাগাদ করার প্রয়োজন হয়েছে।

তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওই চিঠিতে সরাসরি আওয়ামী লীগ বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের বাদ দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে বিদ্যমান কমিটিগুলো পুনর্গঠন, হালনাগাদ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বক্তব্যের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সরিয়ে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠির সঙ্গে সংযুক্ত তালিকায় জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে থাকা ৯৮টি কমিটির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব কমিটিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনর্গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি, জেলা কৃষি উন্নয়নবিষয়ক কোর কমিটি, জেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটি, ধান সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটি, ফলদ বৃক্ষরোপণ পক্ষ ও ফল প্রদর্শনী উদ্‌যাপন কমিটি এবং আম সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ-সংক্রান্ত কমিটি।

এ ছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটি, ওএমএস ডিলার নিয়োগ-সংক্রান্ত জেলা কমিটি, জেলা যুব উন্নয়ন কমিটি, যুব সংগঠনকে অনুদান দেওয়ার আবেদন যাচাই-বাছাই কমিটি, ক্রীড়াবিদদের ভাতা প্রদান-সংক্রান্ত কমিটি এবং জাতীয় যুব পুরস্কার-সংক্রান্ত জেলা কমিটিও তালিকায় রয়েছে।

নতুন করে গঠিত কমিটিগুলোতে স্থানীয় পর্যায়ের তিনজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অন্তত একজন নারী থাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট কমিটির সভাপতি বা আহ্বায়ক ওই তিনজনকে মনোনয়ন দেবেন। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব আরও কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে।

সরকারি কমিটির কাঠামোতে স্থানীয় অংশীজনদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে কমিটিগুলো পুনর্গঠন ও হালনাগাদ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অনেক কমিটি কয়েক বছর আগে গঠিত হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে সেগুলোর সদস্য তালিকা ও কার্যক্রম হালনাগাদ না হওয়ায় কিছু কমিটি কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। আবার কিছু কমিটির প্রজ্ঞাপন, সদস্য তালিকা বা কার্যক্রমের হালনাগাদ তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে না।

এ কারণে সরকারের বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এসব কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুনর্গঠনের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে অংশীজনের প্রতিনিধিত্ব, সমন্বয় ও জবাবদিহিতা আরও কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে।

মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, আগের সরকারের সময় বিভিন্ন সরকারি কমিটিতে রাজনৈতিকভাবে মনোনীত ব্যক্তি ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন অংশীজনকে রাখা হয়েছিল। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এসব কমিটির কিছু সদস্য নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন বা দায়িত্ব পালনে অংশ নিতে পারছেন না—এমন পরিস্থিতির কথাও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

কিছু প্রতিবেদনে কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গঠিত কমিটিগুলোতে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতি ছিল এবং বর্তমান বাস্তবতায় এসব সদস্যের জায়গায় নতুন সদস্য আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইভাবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত কিছু কমিটির সদস্যদেরও পুনর্গঠনের আওতায় আনার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে।

তবে এ বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হওয়ায় এটিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মূল চিঠির সরাসরি ভাষা হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। সরকারি নির্দেশনার প্রকাশিত বিবরণে মূলত কমিটি হালনাগাদ, পুনর্গঠন এবং অংশীজনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।

জেলা প্রশাসকদের নেতৃত্বাধীন কমিটিগুলোর মধ্যে কৃষি, খাদ্য, যুব উন্নয়ন, মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই, ওএমএস, ক্রীড়া এবং বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচি বাস্তবায়নসংক্রান্ত কমিটি রয়েছে।

কৃষি খাতের কমিটিগুলোর মধ্যে সার ও বীজ সরবরাহের নজরদারি, কৃষি উন্নয়ন, কৃষি পুনর্বাসন এবং ধান সংগ্রহের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। আবার জেলা পর্যায়ে ওএমএস ডিলার নিয়োগ, যুব সংগঠনকে অনুদান, ক্রীড়াবিদদের ভাতা এবং জাতীয় যুব পুরস্কারের মতো বিষয়েও এসব কমিটি কাজ করে থাকে।

ফলে কমিটির সদস্য পরিবর্তনের সঙ্গে শুধু প্রশাসনিক কাঠামো নয়, স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচি বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা পাওয়ার পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনে কমিটি পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ইতোমধ্যে কিছু এলাকায় নতুন সদস্য মনোনয়ন ও পুরোনো কমিটির তথ্য হালনাগাদের প্রক্রিয়া চলছে।

সরকারি কমিটিগুলো নিয়মিত হালনাগাদ না থাকলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সভা আয়োজন এবং সরকারি কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। এ কারণে সদস্যদের বর্তমান অবস্থা, প্রতিনিধিত্ব এবং কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা পর্যালোচনা করে নতুন কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনায় দেশের বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কমিটিগুলো নতুন করে সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা ৯৮টি কমিটির পাশাপাশি অন্যান্য বিদ্যমান কমিটিও হালনাগাদ করা হবে। নতুন কমিটিতে স্থানীয় তিনজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং তাঁদের মধ্যে অন্তত একজন নারী রাখার নির্দেশনাও রয়েছে।

এই পুনর্গঠনের মাধ্যমে পুরোনো ও অকার্যকর কমিটিগুলোকে সক্রিয় করার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব ও প্রশাসনিক সমন্বয় বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তবে রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাদ দেওয়ার বিষয়টি মূল সরকারি চিঠিতে সরাসরি উল্লেখ না থাকায় এ অংশটি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও সংবাদ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দেখা হচ্ছে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে