×
ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চুরির পর নতুন নোটে খরচ, যেভাবে পুলিশের জালে ধরা পড়ল চক্র

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২১ ১৭:১৯:৩৬
চুরির পর নতুন নোটে খরচ, যেভাবে পুলিশের জালে ধরা পড়ল চক্র

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বাসার পেছনের গ্রিল কেটে নগদ ১৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা ও প্রায় ৫ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আরও একজন আগে থেকেই অন্য একটি মামলায় কারাগারে রয়েছেন। পুলিশের দাবি, চুরির পর নতুন টাকা খরচ করতে গিয়ে তদন্তকারীদের নজরে আসে চক্রটির সদস্যরা।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সুমন, রাসেল ও সানি। আর কারাগারে থাকা ব্যক্তি হলেন মানিক। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মানিকের পরিকল্পনায় অন্য তিনজন মিলে ওই বাসায় চুরি করেন।

পুলিশ জানায়, গত ২৪ জুলাই রাতে মোহাম্মদপুরের চানমিয়া হাউজিংয়ের রোড নম্বর ৩-এর ব্লক-বির ৪১/২২ নম্বর বাসার নিচতলায় চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা বাসার পেছনের গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় তারা বাসার মালিক গোলাম মোস্তফার নগদ ১৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং প্রায় ৫ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়।

চুরি হওয়া স্বর্ণালংকারের মধ্যে ছিল ১৪ আনা ওজনের দুটি চেইন, ৬ আনা ওজনের দুটি আংটি, ৪ আনা ওজনের দুটি কানের দুল এবং ৮ আনা ওজনের দুটি বালা।

ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে এক জোড়া কালো স্যান্ডেল উদ্ধার করে। তবে চোরেরা বাসার পেছনের পথ ব্যবহার করায় আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ থেকেও তাদের শনাক্ত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রাথমিকভাবে পাওয়া যায়নি।

পরে তদন্তে নতুন একটি সূত্র পায় পুলিশ। চুরির পরদিন সকালে সানি, রাসেল ও সুমনকে বিপুল পরিমাণ নতুন নোট নিয়ে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। স্থানীয় বিভিন্ন দোকানেও তারা ওই টাকা খরচ করছিলেন।

পুলিশের দাবি, তাদের একজন একটি দোকানে বন্ধক রাখা মোবাইল ফোন ছাড়িয়ে নিতে ৫০০ ও ২০০ টাকার নোটে টাকা পরিশোধ করেন। পরে দোকানদারকে বকশিশও দেওয়া হয়। বিষয়টি তদন্তকারীদের নজরে আসার পর ওই টাকার সূত্র ধরে ঢাকাসহ বরিশাল ও ভোলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান শুরু করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৯ সেপ্টেম্বর সুমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, আদালতে সোপর্দ করার পর সুমন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সেখানে তিনি মানিকের পরিকল্পনায় রাসেল ও সানির সঙ্গে মিলে ওই বাসায় চুরি করার কথা জানান বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মানিকই চুরির মূল পরিকল্পনাকারী। তিনি বর্তমানে অন্য একটি মামলায় কারাগারে থাকায় এ মামলায় তাকে শোন অ্যারেস্ট দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে। পরে সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কেরানীগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাসেল ও সানিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সহকারী পুলিশ কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চুরি করা টাকা চারজনের মধ্যে সাড়ে চার লাখ টাকা করে ভাগ করা হয়েছিল।

পুলিশ আরও জানায়, চুরির টাকা দিয়ে আসবাবপত্র কেনা, জুয়া খেলা ও মাদক সেবনে অর্থ ব্যয় করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এর মধ্যে রাসেল চুরির টাকায় একটি নতুন অটোরিকশা তৈরি করেন বলে পুলিশের দাবি। অটোরিকশাটি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার কোথায় বিক্রি করা হয়েছে এবং চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। একই সঙ্গে বাকি চোরাই মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে