×
ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এবার ঢাকার এমন সাহসে কাঁপছে দিল্লি!

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২১ ১৭:০৫:১০
এবার ঢাকার এমন সাহসে কাঁপছে দিল্লি!

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গত ১৫ বছরে স্বাক্ষরিত ১০১টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) পুনরায় পর্যালোচনা করছে সরকার। জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে এসব চুক্তি পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সরকারের সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার কথাও বলা হয়েছে।

জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধান হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি এমওইউ ও চুক্তি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পর্যালোচনার ফলাফল শিগগিরই জানানো হবে বলেও তিনি জানান।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চুক্তিগুলো পর্যালোচনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বৈরিতার দিকে না নিয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিক স্বার্থভিত্তিক সম্পর্ক বজায় রাখার লক্ষ্য রয়েছে।

চুক্তি পর্যালোচনার বিষয়টি সামনে আসার পর ভারতের পক্ষ থেকেও প্রতিক্রিয়া এসেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, বাংলাদেশ চুক্তিগুলো পর্যালোচনা করছে—এ বিষয়ে গণমাধ্যমের প্রতিবেদন তারা দেখেছেন। তবে ভারতকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ভারতের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

চট্টগ্রাম বন্দরসহ বিভিন্ন খাতের সহযোগিতা চুক্তি নিয়েও নতুন করে আলোচনা হচ্ছে। প্রধান হুইপ নূরুল ইসলাম মনি চট্টগ্রাম বন্দরের একটি ব্যবস্থার উদাহরণ দিয়ে বলেন, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের জাহাজ বাংলাদেশি জাহাজের তুলনায় অগ্রাধিকার পাওয়ার সুযোগ ছিল বলে তিনি মনে করেন। এ ধরনের ব্যবস্থাগুলো বাংলাদেশের স্বার্থের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা পর্যালোচনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এ ছাড়া ভারতের ঋণে নির্মিত একটি সড়ক নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন প্রধান হুইপ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই ঋণের অর্থ সুদসহ বাংলাদেশকে পরিশোধ করতে হচ্ছে, অথচ বাংলাদেশি যানবাহন সেই সড়ক ব্যবহার করতে পারছে না। এসব উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, আগের চুক্তিগুলোর ক্ষেত্রে কোথায় বাংলাদেশের স্বার্থ যথাযথভাবে বিবেচিত হয়েছে এবং কোথায় পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে বাণিজ্য, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, বন্দর ব্যবহার, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন রয়েছে। বিশেষ করে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা থাকায় পানি নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কেও নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশ সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের পাশাপাশি চীন, যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদারের চেষ্টা করছে। ফলে পররাষ্ট্রনীতিতে বহুমুখী সম্পর্ক বজায় রাখা এবং প্রতিটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তিতে দেশের স্বার্থ নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

তবে ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনার অর্থ সব চুক্তি বাতিল করা নয়। কোন চুক্তি বহাল থাকবে, কোনটিতে সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে এবং কোন বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে আলোচনা দরকার—তা পর্যালোচনা শেষে স্পষ্ট হবে। সরকার এখন পর্যন্ত এসব চুক্তি বাতিলের কোনো সামগ্রিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে