×
ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অপ্রতিম হত্যার নেপথ্যে ৫ হাজার টাকা! তদন্তে মিলল নতুন তথ্য

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২১ ১৫:৩৯:৫০
অপ্রতিম হত্যার নেপথ্যে ৫ হাজার টাকা! তদন্তে মিলল নতুন তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন কিছু তথ্য সামনে এসেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, একটি আইফোন এবং ৫ হাজার টাকা ধার নিয়ে বিরোধের সূত্র ধরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এই বিরোধই হত্যার মূল কারণ কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

এ ঘটনায় এক আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তার মুঠোফোনে আসা কলের সূত্র ধরে আরও দুজনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুরুতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করলেও জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তুহিন নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। তবে অন্যদের নাম প্রকাশ করতে তিনি অনাগ্রহ দেখান। তদন্তকারীদের কাছে তিনি দাবি করেন, অন্যদের নাম প্রকাশ না করার বিষয়ে তিনি ‘ওয়াদাবদ্ধ’ ছিলেন।

পুলিশ জানায়, শনিবার সকাল ৯টার দিকে তুহিনকে হেফাজতে নেওয়া হয়। সে সময় অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি তদন্তকারীদের জানা ছিল না। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়।

তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন আসে। তদন্তকারীদের নজরে আসে, ফোনগুলো করছিল অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে কাজ করা এক কিশোর। পরে তাকেও হেফাজতে নেওয়া হয়। ওই সময় তার পরনে ছিল অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানের নাম লেখা একটি টি-শার্ট।

এরপর তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও একজনকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। বর্তমানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে অপ্রতিমের কাছে থাকা আইফোন এবং ৫ হাজার টাকা ধার দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের তথ্য পাওয়া গেছে। অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ বিক্রির প্রতিষ্ঠান ইয়েসটেকে ওই কিশোর কাজ করত। তদন্তে জানা গেছে, অপ্রতিম তাকে ৫ হাজার টাকা ধার দিয়েছিল। পরে টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।

তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, টাকা ফেরত চাওয়ার কারণে ওই কিশোরের মধ্যে অপ্রতিমের প্রতি বিরক্তি তৈরি হয়ে থাকতে পারে। এমনকি অপ্রতিম না থাকলে ধার করা টাকা ফেরত দিতে হবে না—এ ধরনের চিন্তাও তার মধ্যে তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তদন্তকারীরা। তবে এসব এখনো তদন্তের অংশ এবং হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত কারণ হিসেবে নিশ্চিত করা হয়নি।

গত শুক্রবার বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিম। পরে তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২০ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটসংলগ্ন ম্যাজিক প্যারাডাইসের পাশে দক্ষিণ সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘটনাস্থলটি অপ্রতিমের বাসা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের পর হত্যাকাণ্ডের কারণ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়।

পুলিশ বলছে, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ কী এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের পর ঘটনার বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে