×
ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্যবসায়ীদের জন্য সুখবর, ৫ হাজার কোটি টাকার তহবিলে নতুন সুবিধা

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২১ ০৮:২৫:৪৯
ব্যবসায়ীদের জন্য সুখবর, ৫ হাজার কোটি টাকার তহবিলে নতুন সুবিধা

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) উদ্যোক্তাদের চলতি মূলধনের চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৫ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিলে এবার যোগ হচ্ছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান। নির্ধারিত যোগ্যতা ও শর্ত পূরণ করতে পারলে ব্যাংকের পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও এই তহবিল থেকে অর্থ নিয়ে উদ্যোক্তাদের ঋণ বা বিনিয়োগ সুবিধা দিতে পারবে।

এ বিষয়ে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এর আগে চলতি বছরের জুনে সিএমএসএমই খাতের জন্য ‘চলতি মূলধন পুনঃঅর্থায়ন তহবিল’ নামে ৫ হাজার কোটি টাকার এই তহবিল গঠন করা হয়। এতদিন শুধু বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এ তহবিল থেকে অর্থ নিয়ে উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন করতে পারত। নতুন নির্দেশনার ফলে যোগ্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানও সেই সুযোগ পেল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের শর্ত অনুযায়ী, তহবিল থেকে অর্থ পেতে কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ২০ শতাংশের বেশি হওয়া যাবে না। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে পর্যাপ্ত মূলধন সংরক্ষণ করতে হবে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী নগদ জমা সংরক্ষণ অনুপাত (সিআরআর) ও বিধিবদ্ধ তারল্য সংরক্ষণ অনুপাত (এসএলআর) বজায় রাখতে হবে।

এ ছাড়া একক গ্রাহক ঋণসীমা-সংক্রান্ত নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। তহবিলের আওতায় আসতে চাওয়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কমপক্ষে তিন বছরের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ঋণ-আমানত অনুপাত (এডিআর) ও সামগ্রিক তারল্য ব্যবস্থাপনাও সন্তোষজনক পর্যায়ে থাকতে হবে।

সিএমএসএমই খাতে চলতি মূলধনের সংকট মোকাবিলায় তিন বছর মেয়াদি এই তহবিল গঠন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, শ্রমনির্ভর ও তুলনামূলক কম পুঁজিনির্ভর এই খাতে প্রয়োজনের তুলনায় চলতি মূলধনের জোগান কম থাকায় অনেক উদ্যোক্তা তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেন না। উৎপাদন বাড়ানো, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে অর্থায়ন বাড়ানো এই তহবিলের অন্যতম লক্ষ্য।

তহবিলের অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংক ও যোগ্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান ৪ শতাংশ সুদে নিতে পারবে। এরপর উদ্যোক্তা পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে ঋণ বা বিনিয়োগ সুবিধা দিতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া অর্থের সুদ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে প্রতি তিন মাসে পরিশোধ করতে হবে।

শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক এবং প্রচলিত ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকিং শাখা ও উইন্ডোও নিজস্ব শরিয়াহ কাঠামো অনুসরণ করে এই তহবিলের অর্থ নিয়ে গ্রাহকদের বিনিয়োগ সুবিধা দিতে পারবে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) প্রতিবেদনে কোনো উদ্যোক্তা বা প্রতিষ্ঠান খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হলে তাকে এই তহবিলের আওতায় ঋণ দেওয়া যাবে না।

তবে আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্য কোনো পুনঃঅর্থায়ন বা প্রাক-অর্থায়ন স্কিমের আওতায় চলতি মূলধন ঋণ নেওয়া উদ্যোক্তারাও নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে নতুন তহবিলের সুবিধা নিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে উদ্যোক্তার প্রকৃত ঋণচাহিদা যাচাই করে নির্ধারিত সীমার মধ্যে অর্থায়ন করতে হবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে।

এই তহবিলের আওতায় ঋণ নেওয়া উদ্যোক্তারা তিন থেকে সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত গ্রেস পিরিয়ড পাবেন। অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে তাদের ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হবে না। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত শিডিউল অব চার্জেসের বাইরে উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে কোনো অতিরিক্ত ফি, চার্জ বা কমিশন নেওয়া যাবে না।

নতুন নির্দেশনার ফলে ব্যাংকের পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমেও সিএমএসএমই উদ্যোক্তাদের চলতি মূলধন সরবরাহের সুযোগ বাড়ল। তবে তহবিলের অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে খেলাপি ঋণ, মূলধন পর্যাপ্ততা, তারল্য ও ঋণসীমাসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত সব শর্ত মেনে চলতে হবে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে