×
ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিদেশি কোম্পানি ঠেকাতে বাফার ৫ দফা দাবি, যা আছে প্রস্তাবে

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২১ ০৭:৫৭:৪৩
বিদেশি কোম্পানি ঠেকাতে বাফার ৫ দফা দাবি, যা আছে প্রস্তাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশীয় উদ্যোক্তাদের সুরক্ষা এবং দেশের অর্থনীতিতে নিট সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন কোম্পানিকে ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং লাইসেন্স না দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাফা)। সংগঠনটির মতে, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবা খাত হওয়ায় এ খাতে বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ থাকলেও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং লাইসেন্সিং বিধিমালা নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে বৈঠকের আগে খাতটির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পাঁচটি নীতি প্রস্তাব দেয় বাফা। এসব প্রস্তাবের মধ্যে শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন কোম্পানিকে ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং লাইসেন্স না দেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়।

বাফার সাবেক সভাপতি কবির আহমেদ খান বলেন, মূলধন, আধুনিক প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জ্ঞান স্থানান্তরের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার সুযোগ থাকায় তারা বৈদেশিক বিনিয়োগের বিরোধিতা করছেন না। তবে ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিংয়ের মতো সংবেদনশীল সেবা খাতে শতভাগ বিদেশি মালিকানা দেওয়ার ক্ষেত্রে নীতিগত বিধিনিষেধ থাকা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

বাফার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের অবস্থান বিদেশি বিনিয়োগ বন্ধ করা নয়। বরং বাংলাদেশে বিনিয়োগের ফলে দেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক সুবিধা কতটা নিশ্চিত হচ্ছে, সেটিই তাদের মূল বিবেচনা। সংগঠনটির মতে, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং খাত তুলনামূলকভাবে কম মূলধননির্ভর এবং এ খাতে পেশাগত দক্ষতা, প্রশিক্ষিত জনবল ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কয়েক দশকে স্থানীয় উদ্যোক্তারা নিজেদের সক্ষমতা তৈরি করেছেন বলেও জানিয়েছে বাফা।

এ কারণে এ খাতে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন আনার আগে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ, বিদেশি কোম্পানির অর্জিত মুনাফা নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর পরিমাণ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বাজারে প্রতিযোগিতার পরিবেশ এবং দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক স্থায়িত্ব—এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলেছে তারা।

ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং খাতের অন্যান্য সমস্যার কথাও এনবিআরের কাছে তুলে ধরেছে বাফা। সংগঠনটির দাবির মধ্যে গ্রস বিলিংয়ের ওপর আরোপিত ১ শতাংশ উৎসে কর (টিডিএস) প্রত্যাহার, অভ্যন্তরীণ আকাশপথে পণ্য পরিবহনের ভাড়া মার্কিন ডলারের পরিবর্তে বাংলাদেশি টাকায় নির্ধারণ এবং বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে আনা সেবামূল্যের ওপর ৫ শতাংশ বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

তবে শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন কোম্পানিকে ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং ব্যবসায় প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে বাফার অবস্থানের সঙ্গে একমত নন ইনভেস্ট বাংলাদেশ অথরিটির (সাবেক বিডা) কর্মকর্তারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিষ্ঠানটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, বিদেশি মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোকে এই খাতে কাজের সুযোগ দেওয়া হলে দক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, বাংলাদেশে ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিংসহ বিভিন্ন ধরনের এজেন্ট ব্যবসা এখনো অনেকাংশে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে। তার মতে, বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই খাতে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হলে প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক চর্চার মাধ্যমে এজেন্ট ব্যবসার আধুনিকায়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ফলে ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং খাতে সামনে মূলত দুটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি উঠে এসেছে। বাফা স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা ও ব্যবসায়িক স্থায়িত্ব রক্ষার পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগের প্রকৃত অর্থনৈতিক সুবিধা মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। অন্যদিকে ইনভেস্ট বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার মতে, বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ বাড়লে প্রতিযোগিতা, দক্ষতা ও স্বচ্ছতার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এখন লাইসেন্সিং বিধিমালায় সরকার কোন ধরনের নীতি গ্রহণ করে, তার ওপরই খাতটির ভবিষ্যৎ কাঠামো অনেকাংশে নির্ভর করবে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে