×
ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জামায়াত থেকে বহিষ্কার, এবার এমপি পদ হারাচ্ছেন নজরুল

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২১ ০৭:৫০:০১
জামায়াত থেকে বহিষ্কার, এবার এমপি পদ হারাচ্ছেন নজরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নৈতিক স্খলনের অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের পর তার সংসদ সদস্য পদ থাকবে কি না, তা নিয়ে আইনি প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। দল থেকে বহিষ্কারের পর শুধু নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি দিলেই তার সংসদ সদস্য পদ সরাসরি শূন্য হবে কি না, নাকি নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে—এ নিয়েও আলোচনা চলছে। ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংবিধান বা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে রাজনৈতিক দল থেকে বহিষ্কারের কারণে সরাসরি এমপি পদ বাতিলের পৃথক বিধান নেই। ফলে বিষয়টি ‘সংসদ সদস্যপদ বিরোধ নিষ্পত্তি আইন-১৯৮০’-এর আওতায় নিষ্পত্তির প্রয়োজন হতে পারে।

সংবিধানের ৬৬(৪) অনুচ্ছেদে কোনো সংসদ সদস্য নির্বাচনের পর নির্দিষ্ট অযোগ্যতার আওতায় পড়েছেন কি না কিংবা সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার আসন শূন্য হবে কি না—এ নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে বিষয়টি শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য নির্বাচন কমিশনে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত এ ক্ষেত্রে চূড়ান্ত বলে সংবিধানে উল্লেখ রয়েছে।

এ কারণে দলীয় বহিষ্কারের বিষয়টি সরাসরি ইসির কাছে পাঠালেই কমিশন নিজ উদ্যোগে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে পারবে—এমনটি নয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রথমে বিষয়টি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে উত্থাপনের প্রয়োজন হতে পারে। এরপর আইন অনুযায়ী স্পিকার সংশ্লিষ্ট বিরোধের বিস্তারিত বিবরণী প্রস্তুত করে তা নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠালে কমিশন নির্ধারিত বিচারিক প্রক্রিয়ায় বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে পারবে।

‘সংসদ সদস্যপদ বিরোধ নিষ্পত্তি আইন-১৯৮০’-এর বিধান অনুযায়ী, বিরোধের বিষয় সামনে এলে স্পিকার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পরিচয়, বিরোধের বিষয় ও প্রয়োজনীয় তথ্যসংবলিত একটি বিবরণী প্রস্তুত করবেন। এরপর তা নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হবে। ইসিতে নথি পৌঁছানোর পর কমিশন উভয় পক্ষকে লিখিত বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেবে এবং শুনানির জন্য নির্ধারিত তারিখ, সময় ও স্থান জানাবে।

শুনানির সময় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো নিজেরা উপস্থিত হয়ে অথবা আইনজীবীর মাধ্যমে বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারবেন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ দাখিল এবং সাক্ষীদের জেরা করার সুযোগও থাকবে। অর্থাৎ, গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও প্রমাণ পর্যালোচনার সুযোগ থাকবে।

আইন অনুযায়ী, এ ধরনের বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন দেওয়ানি আদালতের মতো কিছু বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সমন জারি করে তলব করা, শপথের মাধ্যমে জবানবন্দি গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় নথি বা দলিল উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়ার মতো ক্ষমতা রয়েছে। ফলে বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোতে পারে।

আইনে এ প্রক্রিয়ার জন্য সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। স্পিকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নথি পাওয়ার পর সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে তাদের সিদ্ধান্ত বা মতামত স্পিকারের কাছে পাঠানোর বিধান রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্তের পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অতীতেও সংসদ সদস্যদের দলীয় বহিষ্কারকে কেন্দ্র করে সংসদ সদস্য পদ নিয়ে একই ধরনের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের নজির রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০০০ সালে তৎকালীন বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য মো. আখতারুজ্জামানকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কারের পর বিষয়টি স্পিকারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনে যায় এবং শুনানি শেষে তার সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছিল। ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগ থেকে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর বহিষ্কারের ঘটনাতেও বিষয়টি স্পিকারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছিল। তবে ইসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগেই তিনি পদত্যাগ করেন।

এদিকে গাজী নজরুল ইসলামের সদস্যপদ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, স্পিকারের দিকনির্দেশনা বা আনুষ্ঠানিক রেফারেন্স পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনও জানিয়েছিলেন, স্পিকারের আনুষ্ঠানিক রেফারেন্স পেলে কমিশন আইন অনুযায়ী বিষয়টি দেখবে।

তাই জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের ঘটনাটি গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করেছে—এমন সিদ্ধান্ত এখনই বলা যায় না। বিষয়টি সাংবিধানিক বিধান ও ‘সংসদ সদস্যপদ বিরোধ নিষ্পত্তি আইন-১৯৮০’ অনুযায়ী নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোতে হবে। শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের ওপরই সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য পদ নিয়ে চূড়ান্ত অবস্থান নির্ভর করবে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে