×
ঢাকা, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বক্তৃতায় বাজার সংস্কারের কথা, বাস্তবে টানা দরপতন

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৬ ১৪:৫৪:৩৩
বক্তৃতায় বাজার সংস্কারের কথা, বাস্তবে টানা দরপতন

নিজস্ব প্রতিবেদক : সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বড় ধরনের দরপতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু হয়েছে দেশের শেয়ারবাজারে। এদিন প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সবকটি সূচক কমার পাশাপাশি টাকার অংকে লেনদেনও কমেছে। একই সঙ্গে লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমেছে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, রোববারের দরপতনের মাত্রা ছিল অনাকাঙ্ক্ষিত। সূচকের কিছুটা ওঠানামা স্বাভাবিক হলেও এভাবে ব্যাপক দরপতন কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাদের মতে, এদিনের পরিস্থিতিকে শুধু দরপতন হিসেবে দেখলে ভুল হবে; বরং এটিকে বাজারে এক ধরনের ধস বলেই অভিহিত করা যায়।

বাজারসংশ্লিষ্টরা আরও বলেন, গত মাসের মধ্যভাগ থেকেই শেয়ারবাজারে ধারাবাহিক দরপতনের কারণে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এক-দুদিন সূচক কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হলেও তা বাজারে স্থায়ী ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিশনের চেয়ারম্যানসহ অন্যরা বাজার উন্নয়ন ও সংস্কার নিয়ে বড় বড় বক্তব্য দিলেও বাজারের স্থিতিশীলতা ফেরাতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান হচ্ছে না।

তাদের অভিযোগ, বাজারের চলমান অস্থিরতা থেকে উত্তরণে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর উদ্যোগের অভাব বিনিয়োগকারীদের হতাশ করেছে। বাজারের পরিস্থিতির প্রতিবাদে ইতোমধ্যে বিনিয়োগকারীরা বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করলেও তাতেও নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্ষমতা ও দায়িত্ব পালনের বিষয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে। তাদের দাবি, বাজার স্থিতিশীল করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তা সম্ভব না হলে ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগের বিষয়টিও বিবেচনা করা উচিত। বর্তমান পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার করণীয় কী হওয়া উচিত, সেটি তাদের নিজেদেরই গুরুত্ব দিয়ে ভেবে দেখা প্রয়োজন।

তাদের আশঙ্কা, শেয়ারবাজারের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সামনে আরও বড় ধরনের ধস নামতে পারে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ারবাজারের প্রতি আস্থা আবারও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, রোববার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১০৩ দশমিক ৬৪ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৫৮ দশমিক ৪৪ পয়েন্টে নেমে এসেছে।

এদিন ডিএসইর অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস ২২ দশমিক ৬৪ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১১৫ দশমিক ৩৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসই-৩০ সূচক ২৪ দশমিক ৫৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১১৬ দশমিক ১৯ পয়েন্টে।

রোববার ডিএসইতে মোট ৩৮৯টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে ২০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বেড়েছে, ৩৪৮টির কমেছে এবং ২১টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিন ডিএসইতে প্রায় ৫৪৫ কোটি ২৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর আগের কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭২০ কোটি ৯২ লাখ টাকা। ফলে আগের দিনের তুলনায় রোববার ডিএসইতে লেনদেন কমেছে প্রায় ১৭৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

অন্যদিকে দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) রোববার মোট ১৭ কোটি ৩০ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে সিএসইতে শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১৫ কোটি ২৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় সিএসইতে লেনদেন বেড়েছে।

এদিন সিএসইতে মোট ২০৪টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৩০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে, ১৫৭টির দর কমেছে এবং ১৭টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

তবে দিনের লেনদেনে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৭১ পয়েন্ট বেড়ে ১৫ হাজার ১ দশমিক ৫৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর আগের কার্যদিবসে সিএএসপিআই সূচক ১৪ দশমিক ০৩ পয়েন্ট বেড়েছিল।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে