ঢাকা, শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬

৪৫তম বিসিএসের ৫০ প্রার্থীর নিয়োগে অজানা জটিলতা

২০২৬ আগস্ট ২১ ১৮:২৪:০৬
৪৫তম বিসিএসের ৫০ প্রার্থীর নিয়োগে অজানা জটিলতা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ৪৫তম বিসিএসের নন-ক্যাডার প্রক্রিয়ায় সমাজসেবা অফিসার পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ পেয়েও চূড়ান্ত নিয়োগ থেকে বঞ্চিত রয়েছেন ৫০ প্রার্থী। একই বিসিএসে সুপারিশ পাওয়া অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তরের প্রার্থীরা এরই মধ্যে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কর্মস্থলে যোগ দিলেও সমাজসেবা অধিদপ্তরের এই ৫০ পদের নিয়োগ কার্যক্রম অজ্ঞাত প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে আছে।

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ৪৫তম বিসিএসের নন-ক্যাডার তালিকা থেকে ৫৪৫ জনকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি অধিদপ্তরে নিয়োগের জন্য চূড়ান্ত সুপারিশ করে। এর মধ্যে নবম গ্রেডের ৫০টি এবং দশম গ্রেডের ৭টি সরকারি প্রতিষ্ঠানে পদ বণ্টন করা হয়। ওই তালিকায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের সমাজসেবা অফিসার পদে নবম গ্রেডে নিয়োগের জন্য সুপারিশ পান ৫০ জন।

তবে সুপারিশ প্রকাশের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সমাজসেবা অফিসারদের নিয়োগপ্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। অথচ একই তালিকায় সুপারিশ পাওয়া অন্যান্য ক্যাটাগরির প্রার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পুলিশ ভেরিফিকেশনসহ নিয়োগের বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন হয়েছে কিংবা শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অন্যান্য দপ্তরের নিয়োগপ্রক্রিয়া এগিয়ে গেলেও সমাজসেবা অফিসার পদে প্রশাসনিক কার্যক্রম এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। ফলে সুপারিশ পেয়েও চাকরিতে যোগদানের অপেক্ষায় থাকা ৫০ প্রার্থীর মধ্যে তৈরি হয়েছে গভীর হতাশা ও অনিশ্চয়তা।

সুপারিশপ্রাপ্তদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগের অপেক্ষায় থাকায় তাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট হচ্ছে। চাকরিতে যোগদানের নিশ্চয়তা না থাকায় তারা মানসিক ও আর্থিক চাপের মধ্যেও রয়েছেন। দ্রুত প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন করে নিয়োগের গেজেট প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা।

সুপারিশপ্রাপ্ত ৫০ জনের মধ্যে তিনজন প্রার্থীর সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তাদের একজন চিন্ময় কুমার মণ্ডল। তিনি বলেন, গত বছরের ২৭ নভেম্বর ফল প্রকাশের পর দ্রুতই নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে এবং দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সেবায় কাজ করার সুযোগ পাবেন—এমন প্রত্যাশা ছিল তাঁর। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও চূড়ান্ত নিয়োগ কিংবা গেজেট প্রকাশের কোনো অগ্রগতি না থাকায় তিনি হতাশ।

চিন্ময় কুমার মণ্ডলের ভাষ্য, তাদের ফাইল বর্তমানে কোন পর্যায়ে রয়েছে, সে বিষয়ে পিএসসি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কিংবা সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়—কোনো জায়গা থেকেই স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে যোগাযোগ করেও তারা কেবল অনিশ্চয়তার মধ্যেই পড়ছেন। অন্য পদগুলোর নিয়োগ এগিয়ে গেলেও তাদের ক্ষেত্রে দীর্ঘ নীরবতা প্রার্থী ও তাদের পরিবারকে হতাশ করেছে।

তিনি বলেন, পিএসসি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দ্রুত সমন্বয় করে ফাইলটির সুরাহা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দ্রুত গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে তাদের নিয়োগ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে নন-ক্যাডার প্রার্থীদের ফাইল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে কি না জানতে চাইলে পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মতিউর রহমান বলেন, ‘আমরা সব ফাইল সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি।’

পরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হলে তারাও জানায়, পিএসসি থেকে সুপারিশপ্রাপ্ত নন-ক্যাডারদের ফাইল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তবে এ বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্ন তথ্য দিয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘আমরা পিএসসি থেকে কোনো ফাইল পাইনি। আমাদের পিএসসি সরাসরি ফাইল পাঠায়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আমাদের পাঠায় না। পিএসসি আমাদের পাঠালেই আমরা নিয়োগ দিয়ে দেব।’

পিএসসি ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ফাইল পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে—এ তথ্য জানানো হলেও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সুপারিশসংক্রান্ত ফাইল পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। ফলে ফাইলটি আসলে কোন পর্যায়ে রয়েছে এবং ৫০ প্রার্থীর নিয়োগ কেন আটকে আছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন।

সিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে