ঢাকা, শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য সুখবর

২০২৬ আগস্ট ২২ ১০:৪৯:৩৩
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য সুখবর

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিতের ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত বাতিল করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। আদালত বলেছে, এই নীতি প্রণয়নে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তার আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) নিউইয়র্কের সাদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ম্যানহাটন আদালতের বিচারক জিনেট ভার্গাস এ রায় দেন। তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের জানুয়ারিতে নেওয়া এই নীতিকে ‘স্পষ্টতই বেআইনি’ বলে উল্লেখ করেন। আদালতের মতে, ফেডারেল অভিবাসন আইনের সঙ্গে নীতিটি সাংঘর্ষিক।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত করে। ২১ জানুয়ারি থেকে এই নীতি কার্যকর হয়।

মার্কিন প্রশাসনের যুক্তি ছিল, এসব দেশের অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি বিভিন্ন সুবিধার ওপর নির্ভরশীল বা ‘পাবলিক চার্জ’ হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। সেই আশঙ্কা থেকে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল।

এই তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি পাকিস্তান, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, উরুগুয়ে, আলবেনিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশ ছিল।

বিচারক ভার্গাসের রায়ের মূল বিষয় ছিল—জাতীয়তার ভিত্তিতে কোনো দেশের নাগরিকদের জন্য একসঙ্গে অভিবাসী ভিসা স্থগিত করার মতো ক্ষমতা পররাষ্ট্র দপ্তরের নেই।

রায়ে বলা হয়, ফেডারেল অভিবাসন আইন কনসুলার কর্মকর্তাদের ভিসা প্রক্রিয়ার ওপর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন সরাসরি হস্তক্ষেপের ক্ষমতা সীমিত করেছে। ফলে শুধু আবেদনকারীর জাতীয়তার ভিত্তিতে অভিবাসী ভিসা না দেওয়ার নীতি বিদ্যমান আইনি কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

আদালত আরও মনে করেছে, কোনো ব্যক্তির ভিসা আবেদন মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও আইনগত যোগ্যতা বিবেচনা করার পরিবর্তে পুরো একটি দেশের নাগরিকদের ওপর একই নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করা আইনসম্মত নয়।

আদালতের এই রায় বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী ভিসা পাওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে পরিবারভিত্তিক বা স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের উদ্দেশ্যে আবেদন করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে স্থগিত নীতির কারণে তৈরি বাধা দূর হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তবে আদালতের রায়ের অর্থ এই নয় যে ৭৫ দেশের সব আবেদনকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা পেয়ে যাবেন। যেসব আবেদন ওই স্থগিত নীতির কারণে আটকে বা প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল, সেগুলোকে আইন অনুযায়ী আবার বিবেচনার সুযোগ তৈরি হবে; আবেদনকারীদের অন্যান্য ভিসা-সংক্রান্ত যোগ্যতাও পূরণ করতে হবে।

এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। এই সিদ্ধান্ত অভিবাসী ভিসা নিয়ে—অর্থাৎ যারা স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের উদ্দেশ্যে যেতে চান, তাদের ভিসা।

এটি সাধারণ পর্যটন, ব্যবসা বা স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের জন্য দেওয়া নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ওপর সরাসরি প্রযোজ্য নয়। জানুয়ারিতে ৭৫ দেশের ভিসা স্থগিতের ঘোষণার সময়ও মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, পর্যটক বা স্বল্পমেয়াদি ভিসাধারীরা এই স্থগিতাদেশের আওতায় ছিলেন না।

এই নীতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী অধিকার সংগঠন, ভিসা আবেদনকারী এবং তাদের মার্কিন নাগরিক স্বজনদের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ৭৫ দেশের নাগরিকদের জাতীয়তার ভিত্তিতে একযোগে অভিবাসী ভিসা স্থগিত করা ফেডারেল আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

শুক্রবারের রায়ে বিচারক ভার্গাস সেই নীতিকে বাতিল করে দেন। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিতে এটি আদালতের বড় ধরনের আইনি বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে রায়ের পর মার্কিন প্রশাসন পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে কী করবে, তা নিয়ে আরও আইনি প্রক্রিয়া হতে পারে। ফলে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য বাস্তবে ভিসা প্রক্রিয়া কত দ্রুত স্বাভাবিক হবে, সেটি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পরবর্তী নির্দেশনার ওপর নির্ভর করবে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে