ঢাকা, সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬

মার্জিন ঋণের নতুন বিধিমালা চূড়ান্ত, গেজেট আসছে চলতি সপ্তাহে

২০২৬ আগস্ট ১৭ ১৯:০০:১২
মার্জিন ঋণের নতুন বিধিমালা চূড়ান্ত, গেজেট আসছে চলতি সপ্তাহে

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের শেয়ারবাজারে মার্জিন ঋণ দেওয়ার যোগ্যতা, ঋণের অনুপাত এবং একক সিকিউরিটিতে অর্থায়নের সীমা নির্ধারণ করে সংশোধিত মার্জিন ঋণ বিধিমালা চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নতুন বিধিমালায় জীবন বীমা কোম্পানির শেয়ারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রাইস টু বুক ভ্যালু রেশিও (পিবি) ৩ এবং জীবন বীমা ছাড়া অন্যান্য সব খাতের শেয়ারের জন্য সর্বোচ্চ প্রাইস আর্নিং রেশিও (পিই) ৪০ নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গত ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার মার্জিন বিধিমালা সংশোধনের চূড়ান্ত খসড়া কমিশন অনুমোদন করেছে। এরপর বিধিমালাটি গেজেট আকারে প্রকাশের জন্য বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) পাঠানো হয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই গেজেট প্রকাশ হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংশোধিত বিধিমালায় সব ধরনের শেয়ার ও সিকিউরিটিজের ক্ষেত্রে মার্জিন ঋণের অনুপাত ১:১ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ একজন বিনিয়োগকারী তার নিজস্ব ইক্যুইটির সমপরিমাণ অর্থ মার্জিন ঋণ হিসেবে নিতে পারবেন।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, জীবন বীমা কোম্পানি ছাড়া অন্য কোনো কোম্পানির শেয়ারের পিই ৪০-এর বেশি হলে সেই শেয়ারে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না। একইভাবে কোনো কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস ঋণাত্মক হলেও ওই শেয়ার মার্জিন সুবিধার জন্য অযোগ্য হবে।

এ ক্ষেত্রে সর্বশেষ ট্রেডিং দিনের সমাপনী মূল্যকে সর্বশেষ ধারাবাহিক চার প্রান্তিকের ইপিএসের যোগফল দিয়ে ভাগ করে ট্রেইলিং পিই নির্ধারণ করতে হবে।

মো. আবুল কালাম বলেন, জীবন বীমা কোম্পানির ক্ষেত্রে পিইর পরিবর্তে পিবি অনুপাতকে মার্জিন ঋণের যোগ্যতা নির্ধারণের ভিত্তি করা হয়েছে। কোনো জীবন বীমা কোম্পানির পিবি ৩-এর বেশি হলে সংশ্লিষ্ট শেয়ারে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না। একইভাবে কোনো জীবন বীমা কোম্পানির নিট সম্পদ মূল্য বা এনএভি ঋণাত্মক হলেও ওই শেয়ার মার্জিন সুবিধার বাইরে থাকবে।

জীবন বীমা কোম্পানির ব্যবসার ধরন ও আর্থিক কাঠামো বিবেচনায় নিয়ে পিইর পরিবর্তে পিবি অনুপাতকে মূল্যায়নের মাপকাঠি করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সর্বশেষ ট্রেডিং দিনের সমাপনী মূল্যকে সর্বশেষ নিরীক্ষিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য দিয়ে ভাগ করে পিবি নির্ধারণ করা হবে। পিবি ৩-এর বেশি হলে সংশ্লিষ্ট শেয়ারে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না। পাশাপাশি কোনো জীবন বীমা কোম্পানির এনএভি ঋণাত্মক থাকলেও ওই শেয়ার মার্জিন ঋণের জন্য অযোগ্য হবে।

নতুন বিধিমালায় মার্জিন অর্থায়ন নেওয়ার ক্ষেত্রে গ্রাহকের হিসাবেও ন্যূনতম বিনিয়োগের শর্ত রাখা হয়েছে। কোনো গ্রাহকের হিসাবে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে কমপক্ষে ৩ লাখ টাকার বিনিয়োগ না থাকলে ওই হিসাবে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না।

এ ছাড়া কোনো গ্রাহক নিজস্ব নগদ অর্থের পরিবর্তে মার্জিন অর্থায়নের অযোগ্য কোনো সিকিউরিটি কিনলে ওই সিকিউরিটির মূল্যকে মার্জিন অর্থায়নের জন্য গ্রাহকের ইক্যুইটি হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

ইক্যুইটি ৫০%-এর নিচে নামলে মার্জিন কল

সংশোধিত বিধিমালায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য মার্জিন কল এবং শেয়ার বিক্রির ক্ষেত্রে আগের তুলনায় কিছুটা বেশি সুযোগ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএসইসির মুখপাত্র।

নতুন নিয়মে কোনো বিনিয়োগকারীর পোর্টফোলিওর ইক্যুইটি ৫০ শতাংশের নিচে নেমে গেলে মার্জিন ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানকে আগাম নোটিস বা মার্জিন কল দিতে হবে। এরপর ইক্যুইটি ২৫ শতাংশের নিচে নেমে গেলে কোনো আগাম নোটিস ছাড়াই ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান ওই বিনিয়োগকারীর শেয়ার বিক্রি করতে পারবে।

তবে এ বিষয়ে বিনিয়োগকারীকে লিখিতভাবে অথবা তার ই-মেইল ঠিকানা ও নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে বার্তা পাঠিয়ে জানাতে হবে। প্রয়োজন হলে ফোন কলের মাধ্যমেও গ্রাহককে অবহিত করা যাবে।

‘জেড’, ‘এন’ ও ‘জি’ শ্রেণির শেয়ারে নেই মার্জিন

সংশোধিত বিধিমালায় ‘জেড’, ‘এন’ ও ‘জি’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ারকে মার্জিন ঋণের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে এসএমই বোর্ড, অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড বা এটিবি এবং ওভার দ্য কাউন্টার বা ওটিসি প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজেও মার্জিন ঋণ পাওয়া যাবে না।

শুধু স্টক এক্সচেঞ্জের মূল বাজারে তালিকাভুক্ত ‘এ’ ও ‘বি’ ক্যাটাগরির শেয়ার মার্জিন সুবিধার জন্য বিবেচিত হবে।

এক সিকিউরিটিতে সর্বোচ্চ ২০% অর্থায়ন

মার্জিন অর্থায়নকারীদের ঝুঁকি কমাতে কোনো একটি সিকিউরিটিতে অর্থায়নের ক্ষেত্রেও সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো মার্জিন অর্থায়নকারী তার মোট বকেয়া মার্জিন অর্থায়নের ২০ শতাংশের বেশি কোনো একটি সিকিউরিটিতে বিনিয়োগ বা অর্থায়ন করতে পারবে না।

মার্জিন চুক্তির মেয়াদ এক বছর

সংশোধিত বিধিমালায় মার্জিন চুক্তির মেয়াদ এক বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। চুক্তির কোনো পক্ষ তা বাতিল না করলে মেয়াদ শেষে চুক্তিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হবে।

মার্জিনের মাধ্যমে নেওয়া অর্থ শুধু মার্জিনযোগ্য সিকিউরিটি কেনার কাজে ব্যবহার করা যাবে। তবে মার্জিন চুক্তিতে নির্ধারিত গ্রাহকের ইক্যুইটি ও মার্জিন অর্থায়নের ন্যূনতম অনুপাত বজায় থাকলে গ্রাহক তার মার্জিন হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন।

এ ছাড়া কোনো শেয়ার মার্জিন ঋণের জন্য যোগ্য না হলেও একজন বিনিয়োগকারী চাইলে নিজের নগদ অর্থ দিয়ে সেই শেয়ার কিনতে পারবেন। তবে পরবর্তী সময়ে ওই শেয়ারকে জামানত বা ইক্যুইটি হিসেবে দেখিয়ে অতিরিক্ত মার্জিন ঋণ নেওয়ার সুযোগ থাকবে না।

সংশোধিত বিধিমালাটি গেজেট আকারে প্রকাশের পর নতুন নিয়মগুলো কার্যকর হবে।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে