ঢাকা, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬

বিরল সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব, দেখা যাবে যেসব দেশে

২০২৬ আগস্ট ১২ ১৬:৩৮:১০
বিরল সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব, দেখা যাবে যেসব দেশে

নিজস্ব প্রতিবেদক: মহাকাশপ্রেমীদের জন্য আজ বুধবার (১২ আগস্ট) বিশেষ একটি দিন। পৃথিবীর নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চল থেকে দেখা যাবে বিরল পূর্ণ সূর্যগ্রহণ। এ সময় চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে এসে সূর্যের উজ্জ্বল চাকতি পুরোপুরি ঢেকে দেবে। ফলে পূর্ণগ্রাসের পথে থাকা এলাকাগুলোতে দিনের আলো সাময়িকভাবে অনেকটাই কমে গিয়ে রাতের মতো অন্ধকার পরিবেশ তৈরি হবে। নাসার তথ্য অনুযায়ী, এবারের পূর্ণ সূর্যগ্রহণের পথ গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও স্পেনের ওপর দিয়ে যাবে।

সূর্যগ্রহণের মূল কারণ হলো সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবীর প্রায় একই সরলরেখায় অবস্থান। চাঁদ যখন পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে চলে আসে, তখন চাঁদের ছায়া পৃথিবীর ওপর পড়ে। সেই ছায়ার সবচেয়ে অন্ধকার অংশের মধ্যে থাকা মানুষ সূর্যের পুরো চাকতি চাঁদের আড়ালে দেখতে পান। এই অবস্থাকেই বলা হয় পূর্ণ সূর্যগ্রহণ।

এবারের গ্রহণের পূর্ণগ্রাসের পথ তুলনামূলকভাবে সরু। নাসার তথ্য অনুযায়ী, উত্তর রাশিয়ার একটি প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে চাঁদের ছায়া গ্রিনল্যান্ড ও আইসল্যান্ড অতিক্রম করে উত্তর স্পেনের দিকে যাবে। পর্তুগালের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তের একটি ছোট অংশ থেকেও পূর্ণগ্রাস দেখা যেতে পারে।

এর বাইরে ইউরোপের বেশির ভাগ অঞ্চল এবং উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন জায়গা থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। অর্থাৎ এসব এলাকায় চাঁদ সূর্যের একটি বড় অংশ ঢেকে দেবে, কিন্তু পুরো সূর্যকে ঢেকে দিতে পারবে না।

গ্রিনল্যান্ড ও আইসল্যান্ডে বিকেল থেকে সন্ধ্যার দিকে সূর্যগ্রহণের পূর্ণগ্রাস দেখা যাবে। অন্যদিকে স্পেন ও পর্তুগালের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সূর্যাস্তের অল্প আগে পূর্ণগ্রাস হওয়ার কারণে দৃশ্যটি আরও ব্যতিক্রমী হতে পারে। অর্থাৎ সেখানে একই সময়ে সূর্যগ্রহণ ও সূর্যাস্তের আবহ তৈরি হবে।

আইসল্যান্ডের পশ্চিমাঞ্চল, বিশেষ করে স্নেফেলসনেস উপদ্বীপের মতো এলাকায়ও পূর্ণগ্রাস দেখার সুযোগ রয়েছে। নাসার তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বিকেল প্রায় ৫টা ৪৫ মিনিটে আইসল্যান্ডের পশ্চিম প্রান্তে পূর্ণগ্রাস শুরু হওয়ার কথা।

পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ—যখন চাঁদ পুরো সূর্যকে ঢেকে দেয়—অধিকাংশ এলাকায় দুই মিনিটের কম স্থায়ী হবে। তবে গ্রহণের কেন্দ্রীয় পথের কাছাকাছি গ্রিনল্যান্ড, উত্তর রাশিয়া ও উত্তর আটলান্টিকের কিছু এলাকায় এই সময় দুই মিনিটের বেশি হতে পারে। মোট সময় সর্বোচ্চ প্রায় আড়াই মিনিটের কম থাকবে।

পূর্ণগ্রাসের সময় সূর্যের উজ্জ্বল অংশ সম্পূর্ণ ঢাকা পড়ে গেলে সূর্যের বাইরের বায়ুমণ্ডল বা করোনা দৃশ্যমান হতে পারে। স্বাভাবিক অবস্থায় সূর্যের তীব্র আলোয় এই করোনা দেখা যায় না। এ কারণেই পূর্ণ সূর্যগ্রহণ বিজ্ঞানীদের কাছেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি করে।

শুধু দর্শকদের জন্য নয়, বিজ্ঞানীদের জন্যও এবারের সূর্যগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। নাসার গবেষকরা উচ্চ উচ্চতায় বিশেষ বিমান ও বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে সূর্যের করোনা পর্যবেক্ষণ করবেন। গবেষকদের লক্ষ্য করোনার গঠন, দ্রুত পরিবর্তন, সৌর পদার্থের প্রবাহ এবং সূর্যের বাইরের বায়ুমণ্ডল কীভাবে উত্তপ্ত হয়—এসব বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ করা।

নাসার একটি গবেষণা বিমান প্রায় ৫০ হাজার ফুট উচ্চতায় উঠে সূর্যগ্রহণের সময় করোনা পর্যবেক্ষণ করবে। এতে এমন কিছু তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তথ্য সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হবে, যা ভূপৃষ্ঠ থেকে পর্যবেক্ষণ করা কঠিন।

এবারের পূর্ণ সূর্যগ্রহণের পূর্ণগ্রাস বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে না। কারণ পূর্ণগ্রাসের মূল পথ উত্তর আটলান্টিক, গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, উত্তর রাশিয়া ও স্পেনের নির্দিষ্ট অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত। নাসার গ্রহণের মানচিত্রেও বাংলাদেশ পূর্ণগ্রাসের পথে নেই।

তাই বাংলাদেশে বসে আকাশে পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সেই অন্ধকার দৃশ্য দেখার সুযোগ থাকবে না। তবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সম্প্রচার ও নাসার লাইভ কভারেজের মাধ্যমে ঘটনাটি অনুসরণ করা যাবে।

সূর্যগ্রহণ দেখার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চোখের নিরাপত্তা। আংশিক সূর্যগ্রহণের সময় খালি চোখে সূর্যের দিকে তাকানো নিরাপদ নয়। সাধারণ সানগ্লাসও সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে চোখকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়।

নাসার পরামর্শ অনুযায়ী, আংশিক গ্রহণ দেখার সময় অবশ্যই অনুমোদিত সোলার ভিউয়িং গ্লাস বা নিরাপদ সোলার ফিল্টার ব্যবহার করতে হবে। ক্যামেরা, দূরবীন বা টেলিস্কোপের মাধ্যমে সূর্য দেখতে হলে সেগুলোর সামনের অংশে উপযুক্ত সোলার ফিল্টার ব্যবহার করা জরুরি।

শুধু পূর্ণগ্রাসের অতি সংক্ষিপ্ত সময়ে, যখন চাঁদ সূর্যের উজ্জ্বল চাকতি পুরোপুরি ঢেকে দেয়, তখন সরাসরি দেখার সুযোগ থাকে। পূর্ণগ্রাস শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আবার চোখের সুরক্ষা ব্যবহার করতে হবে।

সব মিলিয়ে ১২ আগস্টের এই পূর্ণ সূর্যগ্রহণ উত্তর গোলার্ধের নির্দিষ্ট কিছু এলাকার মানুষের জন্য বিরল এক মহাজাগতিক অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, উত্তর স্পেন ও উত্তর রাশিয়ার নির্দিষ্ট অঞ্চলে দিনের আলো হঠাৎ ম্লান হয়ে অল্প সময়ের জন্য রাতের মতো পরিবেশ তৈরি হবে। আর পৃথিবীর অন্য অনেক অঞ্চলের মানুষ আংশিক গ্রহণ কিংবা সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে এই বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে