ঢাকা, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬

মেলার নামে চাঁদাবাজি, কাঠগড়ায় তিন ছাত্রদল নেতা

২০২৬ আগস্ট ১২ ১৬:১৪:৪৯
মেলার নামে চাঁদাবাজি, কাঠগড়ায় তিন ছাত্রদল নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে ডিআইটি মার্কেটসংলগ্ন এলাকায় ঈদুল আজহা উপলক্ষে বসানো অস্থায়ী একটি মেলাকে ঘিরে জনদুর্ভোগ, সড়ক ও জায়গা দখল এবং অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। মেলার স্টল থেকে নিয়মিত টাকা নেওয়া ও অনুমোদনহীন বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রুবেল এবং কবি নজরুল সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সদস্যসচিব নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে।

ঈদের আগে শুরু হওয়া এই মেলা প্রায় আড়াই মাস ধরে চললেও কবে এটি শেষ হবে, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের। তাদের ভাষ্য, মেলার কারণে ডিআইটি মার্কেট ও লক্ষ্মীবাজারের গুরুত্বপূর্ণ চলাচলের জায়গার বড় একটি অংশ দখল হয়ে গেছে। ফলে পথচারী, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের প্রতিদিনই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে ডিআইটি মার্কেটসংলগ্ন এলাকায় মেলার বিভিন্ন স্টল দেখা যায়। সেখানে এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মেলায় মোট চারটি স্টল রয়েছে। প্রতিটি স্টলের জন্য প্রতিদিন ৩ হাজার ৩৫০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানদার জানান, মেলা শুরুর পর থেকেই প্রতিদিন স্টল ভাড়া বাবদ ৩ হাজার ৩৫০ টাকা করে দিতে হচ্ছে। তার দাবি, ছাত্রদলের জসিম, রুবেল ও নাজমুল তাদের মালিকদের কাছ থেকে এই অর্থ নিচ্ছেন।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মেলা পরিচালনার সঙ্গে কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাদের দাবি, ওই তিন নেতার নেতৃত্বে প্রতিটি স্টল থেকে প্রতিদিন ৩ হাজার ৩৫০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। তবে এ অর্থ আদায়ের বৈধ অনুমোদন বা লিখিত কোনো নথি ব্যবসায়ীরা দেখাতে পারেননি।

এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, মেলায় স্থাপিত দোকানগুলোতে অনুমোদন ছাড়াই বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। যথাযথ অনুমোদন ছাড়া এমন সংযোগ ব্যবহার জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলেও মনে করছেন তারা।

মেলার কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। লক্ষ্মীবাজার ও জনসন রোডের সংযোগকারী এই পথ দিয়ে মহানগর মহিলা কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার্স গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সেন্ট গ্রেগরিজ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত চলাচল করেন।

সেন্ট গ্রেগরিজ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষার্থী বলেন, আগে ওই এলাকায় কোচিং সেন্টার ছিল। মেলা ও মার্কেটের জায়গা দখলের কারণে কোচিং সেন্টারের কক্ষগুলো ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে। তার অভিযোগ, পুরো মার্কেট এলাকাই দখল হয়ে গেছে।

সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থী ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, মেলা আয়োজনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট স্থান ও সময়সীমা থাকা প্রয়োজন। তার মতে, প্রায় আড়াই মাস ধরে মেলা চলায় এটি অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।

ডিআইটি মার্কেটের পাশের এক ফুটপাত ব্যবসায়ী জানান, মেলার কারণে তারাও ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেক সময় মেলার ভিড় তাদের দোকানের সামনেও চলে আসে বলে জানান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে কবি নজরুল সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সদস্যসচিব নাজমুল হাসান অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও পরিকল্পিত। এলাকায় রাজনীতি করার কারণে একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের নামে এসব অভিযোগ করছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানেন না বলে জানান নাজমুল।

সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রুবেল বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। তবে বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্টদের মেলা সরিয়ে নেওয়ার জন্য আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। দোকান না সরালে সেখানে গিয়ে ভেঙে দেওয়ার কথা তাদের জানানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তার আশা, সংশ্লিষ্টরা নিজেরাই দোকান সরিয়ে নেবেন; অন্যথায় তারা ব্যবস্থা নেবেন।

সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি একটি অনুষ্ঠানে থাকার কথা জানিয়ে পরে কথা বলবেন বলে জানান।

মেলার বৈধতা, অর্থ আদায়, জায়গা দখল এবং অনুমোদনহীন বিদ্যুৎ সংযোগের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে