ঢাকা, রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬

নির্বাহী পরিচালকদের ক্ষমতা বাড়িয়ে নতুন নির্দেশনা বিএসইসির

২০২৬ আগস্ট ০২ ১৬:৫০:২০
নির্বাহী পরিচালকদের ক্ষমতা বাড়িয়ে নতুন নির্দেশনা বিএসইসির

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারের কার্যক্রম আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে প্রশাসনিক ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রিতা কমাতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালকদের ক্ষমতা ও কার্যকরী ভূমিকা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।

সম্প্রতি বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ বিষয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। আদেশটি সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর ২০(এ) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জারি করা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এখন থেকে শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্ট অধিকাংশ আবেদন, প্রতিবেদন, বিবরণী, চিঠিপত্র এবং অন্যান্য নিয়মিত ও অনিয়মিত নথি সরাসরি সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান, অর্থাৎ নির্বাহী পরিচালকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দাখিল করতে হবে।

কমিশনের ভাষ্য, শেয়ারবাজারের উন্নয়ন, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং বাজার-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের আবেদন ও বিষয় দ্রুত, দক্ষ, সুশৃঙ্খল এবং স্বচ্ছভাবে নিষ্পত্তি করতেই এই প্রশাসনিক পরিবর্তন আনা হয়েছে।

এর আগে আত্ম-নিয়ামক সংস্থা, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটির ইস্যুয়ার, অন্যান্য সিকিউরিটির ইস্যুয়ার, নিবন্ধিত বাজার মধ্যস্থতাকারী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া আবেদন ও চিঠিপত্র প্রথমে কমিশনের চেয়ারম্যান বা কোনো কমিশনারের দপ্তরে জমা হতো। পরে সেগুলো সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হতো।

এই কেন্দ্রীভূত ব্যবস্থার কারণে নথিপত্র গ্রহণ, স্থানান্তর এবং পরবর্তী কার্যক্রমে অতিরিক্ত সময় লাগত। নতুন ব্যবস্থায় সেই অতিরিক্ত প্রশাসনিক ধাপ বাদ দিয়ে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী পরিচালকের কাছে সরাসরি নথি জমা দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ দ্রুত নথি যাচাই, পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, এ উদ্যোগের ফলে বিএসইসির অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে গতি বাড়বে এবং বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও দ্রুত হবে। একই সঙ্গে কমিশনের সঙ্গে শেয়ারবাজারের অংশীজনদের যোগাযোগ ও সেবা প্রদান প্রক্রিয়াও আরও কার্যকর হবে।

তবে সব ধরনের আবেদন বা নথি নির্বাহী পরিচালকের কাছে জমা দেওয়া যাবে না। গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল পাঁচ ধরনের বিষয় আগের মতোই সরাসরি কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে দাখিল করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে—যেকোনো অভিযোগ, তথ্য প্রকাশকারীর দেওয়া তথ্য, ঘোষণা বা অভিযোগ, কমিশনের নির্দেশে পরিচালিত অনুসন্ধান বা তদন্ত প্রতিবেদন, বিশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদন এবং কমিশন কর্তৃক বিশেষভাবে নির্ধারিত অন্যান্য বিষয়।

এ ছাড়া কমিশনের নির্ধারিত অনলাইন ব্যবস্থার আওতাভুক্ত আবেদন, প্রতিবেদন ও অভিযোগগুলো অনলাইন প্ল্যাটফর্মেই জমা দিতে হবে। বিএসইসির মতে, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বিভাগীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার ফলে প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়বে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দ্রুত নিজ নিজ বিভাগের বিষয় নিষ্পত্তি করতে পারবেন এবং শেয়ারবাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কার্যকারিতা আরও শক্তিশালী হবে।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে