ঢাকা, রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬

শেয়ারবাজারে বড় পরিবর্তনের পথে সরকার, আসছে নতুন আইন

২০২৬ আগস্ট ০২ ১০:৫২:১৯
শেয়ারবাজারে বড় পরিবর্তনের পথে সরকার, আসছে নতুন আইন

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং অব্যবহৃত আর্থিক সম্পদের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড আইন, ২০২৬’-এর খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত আইনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড (সিএমএসএফ)-কে আরও কার্যকর, স্বয়ংসম্পূর্ণ ও আইনি কাঠামোর আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

খসড়াটি বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ে যাচাই ও নীতিগত পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আইনটি কার্যকর হলে সিএমএসএফ দেশের শেয়ারবাজারে একটি আধুনিক ক্যাশ ডিভিডেন্ড বিতরণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করতে পারবে। এর মাধ্যমে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ক্যাশ ডিভিডেন্ড বিতরণ প্রক্রিয়া আরও ডিজিটাল, স্বচ্ছ ও কেন্দ্রীভূত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

প্রস্তাবিত আইনে বিনিয়োগকারীদের সুবিধার জন্য ডিভিডেন্ড ব্যবস্থাপনায় নতুন ব্যবস্থা চালুর কথা বলা হয়েছে। এর আওতায় বিনিয়োগকারীরা একটি অর্থ বছরে প্রাপ্ত ডিভিডেন্ডের বিপরীতে উৎসে কর্তন করা করের সম্পূর্ণ কর চালান এবং কর কর্তন সনদ একটি একক প্ল্যাটফর্ম থেকে পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

এতে করসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সহজ হবে এবং বিনিয়োগকারীদের তথ্য ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়বে।

খসড়া আইনে সিএমএসএফকে একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে ফান্ডের কার্যক্রম, সম্পদ ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক কাঠামো, পরিচালনা, তদারকি ও জবাবদিহির বিষয়গুলো আইনি কাঠামোর আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, শেয়ারবাজারে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত থাকা ক্যাশ ডিভিডেন্ড, বোনাস শেয়ার, রাইটস শেয়ার, রিফান্ড অর্থ, আইপিও এবং কোয়ালিফায়েড ইনভেস্টর অফার (কিউআইও)-এর অনাদায়ী অর্থসহ বিভিন্ন আর্থিক সম্পদ সিএমএসএফের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা করা হবে।

তবে এসব সম্পদের প্রকৃত মালিক বা বৈধ উত্তরাধিকারীরা নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন করলে যাচাই-বাছাই শেষে তা ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

খসড়া আইনে সিএমএসএফ পরিচালনার জন্য একটি বোর্ড গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত বোর্ডে চেয়ারম্যান, কমিশনের প্রতিনিধি, আর্থিক ও শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং স্বতন্ত্র সদস্য রাখার কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) নেতৃত্বে ফান্ডের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, সিএমএসএফের অর্থ শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষা, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং কমিশনের অনুমোদনক্রমে নিরাপদ ও অনুমোদিত খাতে বিনিয়োগ করা যাবে।

ফান্ড পরিচালনায় নিরীক্ষা, হিসাব সংরক্ষণ, বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ এবং প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।

খসড়া আইনে নির্ধারিত বিধান লঙ্ঘন, তথ্য গোপন, বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান এবং ফান্ড-সংশ্লিষ্ট সম্পদের অপব্যবহারের ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার প্রস্তাব করা হয়েছে।

একই সঙ্গে বিদ্যমান বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড) বিধিমালা, ২০২১ বাতিল করে নতুন আইন কার্যকর করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন আইন কার্যকর হলে সিএমএসএফের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে, বিনিয়োগকারীদের অব্যবহৃত সম্পদের সুশাসন নিশ্চিত হবে এবং দেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে।

সিএমএসএফের অপারেশন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. ওয়াসি আজম বাসসকে বলেন, প্রস্তাবিত আইন কার্যকর হলে সিএমএসএফ একটি আধুনিক ক্যাশ ডিভিডেন্ড বিতরণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাবে। এর মাধ্যমে তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্যাশ ডিভিডেন্ড বিতরণ প্রক্রিয়া আরও সহজ, ডিজিটাল ও স্বচ্ছ হবে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে