ঢাকা, রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬

"দেশের ভবিষ্যতের চেয়েও আপনার গায়ের চামড়া বেশি উজ্জ্বল"

২০২৬ আগস্ট ০২ ১০:২৯:১২

নিজস্ব প্রতিবেদক: দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহারের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ক্ষমা করার আহ্বান জানিয়ে মোদির প্রকাশিত ভিডিও বার্তার পর ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক প্রশ্ন তুলেছেন—ক্ষমা কি শুধু ভিডিওতেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাও প্রত্যাহার করা হবে?

শুক্র ও শনিবার প্রকাশিত সেলফি-স্টাইলের ভিডিওর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দীপক লেখেন, "বন্ধু, শুধু রিলসেই ক্ষমা করবেন, নাকি মামলাও তুলে নেবেন?"

বিতর্কের সূত্রপাত দিল্লির যন্তর মন্তরে পরীক্ষা-সংক্রান্ত সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে। বিক্ষোভ চলাকালে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে কটূক্তি করার অভিযোগে নয়ডার এক ১৫ বছর বয়সী কিশোরের বিরুদ্ধে পুলিশে মামলা হয়।

ঘটনার পর নিজের ইনস্টাগ্রাম ও এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, আন্দোলনের সময় কিছু কিশোর অত্যন্ত অশালীন ভাষা ব্যবহার করেছে, যা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি দাবি করেন, তাঁকে এবং তাঁর প্রয়াত মাকেও গালিগালাজ করা হয়েছে।

তবে একই সঙ্গে মোদি বলেন, ভুল পথে পরিচালিত তরুণদের স্থায়ীভাবে অপরাধী হিসেবে না দেখে তাদের সঠিক পথে ফেরানোর চেষ্টা করা উচিত। তিনি বলেন, "তাদের আদালতে টেনে নেওয়া বা সমাজে একঘরে করে রাখলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না। আমি তাদের ক্ষমা করে দিতে চাই।" শিক্ষার্থীদের এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

মোদির এই অবস্থানকে 'সস্তা প্রচারণা' বলে আখ্যা দিয়ে সমালোচনা করেন অভিজিৎ দীপক। তাঁর দাবি, শুধু আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করেই প্রশাসন দ্বিমুখী নীতির পরিচয় দিচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিজেপির আইটি সেলের যেসব সদস্য দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীদের উদ্দেশে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কেন একই ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

ভিডিও বার্তার সঙ্গে প্রকাশিত পোস্টে সিজেপিও জানতে চায়, অনলাইনে ঘৃণাত্মক ভাষা ছড়ানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও পুলিশ কি একইভাবে এফআইআর দায়ের করবে? দীপকের মতে, কটূক্তির ঘটনাকে তাৎক্ষণিকভাবে ফৌজদারি মামলায় রূপ দেওয়া উচিত নয়। যদি একই মানদণ্ড প্রয়োগ করা হয়, তবে বহু বিজেপি নেতা ও আইটি সেলের সদস্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, মোদির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট নিয়ে অভিজিৎ দীপকের কটাক্ষ নতুন নয়। এর আগেও পরীক্ষা-সংক্রান্ত নতুন প্রশ্নফাঁসবিরোধী আইন নিয়ে মোদির একটি ভিডিওর মন্তব্যে তিনি লিখেছিলেন, "দেশের ভবিষ্যতের চেয়েও আপনার গায়ের চামড়া বেশি উজ্জ্বল।"

মোদির ক্ষমার বার্তা এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা ঘিরে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে