ঢাকা, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট শাখায় আমানত নিয়ে বড় অভিযোগ

২০২৬ জুলাই ২৭ ১৩:৩১:৩৫
ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট শাখায় আমানত নিয়ে বড় অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাটে ইসলামী ব্যাংকের একটি এজেন্ট শাখায় গ্রাহকদের জমা করা কয়েক কোটি টাকা হিসাব থেকে গায়েব হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শতাধিক গ্রাহকের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। টাকা ফেরত ও ঘটনার দ্রুত তদন্তের দাবিতে ব্যাংকের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

রোববার (২৬ জুলাই) বিকেলে ধাপেরহাট বাজারে অবস্থিত ওই এজেন্ট শাখায় কয়েকজন গ্রাহক নিজেদের জমা করা অর্থের হিসাব নিয়ে অসঙ্গতি দেখতে পান। পরে বিষয়টি অন্য গ্রাহকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে সন্ধ্যার পর ব্যাংক প্রাঙ্গণে ভিড় বাড়তে থাকে। রাত ১০টা পর্যন্ত শতাধিক গ্রাহক সেখানে অবস্থান করেন বলে স্থানীয়রা জানান।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তাদের অনেকের কাছে টাকা জমা দেওয়ার রসিদ ও অন্যান্য কাগজপত্র থাকলেও ব্যাংকের হিসাব বিবরণীতে সেই অর্থের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে না। এতে শতাধিক গ্রাহকের কয়েক কোটি টাকার আমানত অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে দাবি করেছেন তারা। তবে অভিযোগের প্রকৃত পরিমাণ এবং কতজন গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ধাপেরহাট ইউনিয়নের হাসানপাড়ার বাসিন্দা সোলেমান সরকার বলেন, তিনি নিয়মিতভাবে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা রাখতেন। কিন্তু নিজের হিসাব যাচাই করতে গিয়ে জমা দেওয়া অর্থের সঙ্গে ব্যাংকের হিসাবের মিল পাননি।

তিনি বলেন, ‘ব্যাংকে যে টাকা জমা দিয়েছি, অফিসের কাগজের সঙ্গে তার কোনো মিল নেই। আমার মতো আরও অনেক গ্রাহক একই অবস্থায় পড়েছেন।’

আরেক ভুক্তভোগী আব্দুল লতিফ বলেন, দীর্ঘদিনের সঞ্চয়ের টাকা তিনি ওই ব্যাংকের মাধ্যমে জমা রেখেছিলেন। কিন্তু হিসাব যাচাই করতে গিয়ে টাকা না পাওয়ায় তিনি দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

তার ভাষায়, ‘দীর্ঘদিনের সঞ্চয় জমা ছিল এই ব্যাংকে। আজ হিসাব দেখে বুঝলাম টাকা নেই। এখন কী হবে? কীভাবে পরিবার চালাব?’

ঘটনার পর স্থানীয় গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা করতে হবে।

ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা দরকার।’

এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে এজেন্ট শাখার ব্যবস্থাপক অলিউর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে ইসলামী ব্যাংকের গাইবান্ধা শাখার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রকৃত হিসাব যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামীণ পর্যায়ে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসব এজেন্ট শাখার মাধ্যমে অনেক গ্রাহক নিয়মিত সঞ্চয় ও বিভিন্ন ধরনের আর্থিক লেনদেন করে থাকেন। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার অনেক মানুষ সরাসরি ব্যাংকের মূল শাখায় না গিয়ে এজেন্টদের ওপর নির্ভর করেই টাকা জমা দেন।

এ কারণে এ ধরনের অভিযোগ গ্রাহকদের আর্থিক নিরাপত্তা ও এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর আস্থার বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি গ্রাহকদের জমা করা অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রশাসনও বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, গ্রাহকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হবে।

ঘটনার পর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। তারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ, জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং জমা করা অর্থ ফেরতের দাবি জানিয়েছেন। তবে এজেন্ট শাখায় ঠিক কী কারণে হিসাবের এই অসঙ্গতি তৈরি হয়েছে এবং প্রকৃতপক্ষে কত টাকা অনিয়ম হয়েছে, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যাবে না।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে