ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

চার বছরের নিয়োগ, তিন মাসেই প্রশ্ন! বিএসইসি চেয়ারম্যান নিয়ে বিতর্ক

২০২৬ জুলাই ২৩ ২০:০৮:৩৭
চার বছরের নিয়োগ, তিন মাসেই প্রশ্ন! বিএসইসি চেয়ারম্যান নিয়ে বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খানের দায়িত্ব পালন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বেসরকারি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য হওয়ার পর তিনি বিএসইসি চেয়ারম্যান পদে নিয়োগের শর্ত ভঙ্গ করেছেন কি না—এ নিয়ে আইনি প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি পরিষ্কার করতে তিনি কমিশনের আইন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন।

গত ২০ জুলাই ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় তাদের বোর্ড অব ট্রাস্টিজে নতুন তিন সদস্য যুক্ত হওয়ার তথ্য জানায়। তাদের মধ্যে রয়েছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান, লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের ড. ক্লেয়ার গর্ডন এবং ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ইমরান রহমান।

এরপর প্রশ্ন ওঠে—বিএসইসি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় যে শর্ত ছিল, তা কি এই নতুন দায়িত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক?

মাসুদ খানকে গত ৪ জুন বিএসইসি চেয়ারম্যান হিসেবে চার বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগপত্রে উল্লেখ ছিল, তাকে অন্য সব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগ করতে হবে।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন অনুযায়ী, চেয়ারম্যান বা কমিশনার কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক বা কর্মকর্তা পদে থাকলে যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এ কারণেই ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যপদকে ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

তবে মাসুদ খানের বক্তব্য, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যপদ কোনো চাকরি বা পেশাগত নিয়োগ নয়। এটি সম্মানসূচক, অবৈতনিক ও অ-নির্বাহী দায়িত্ব। তিনি বলেন, বছরে সীমিত সংখ্যক সভায় অংশ নিতে হয় এবং এটি বিএসইসি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করবে না।

মাসুদ খান জানিয়েছেন, যদি আইনি ব্যাখ্যায় দেখা যায় যে ট্রাস্টি পদ গ্রহণে কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হয়েছে, তাহলে তিনি ওই দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবেন। এ নিয়ে তিনি বিএসইসির আইন বিভাগ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিয়োগের শর্ত এবং সংশ্লিষ্ট আইন পর্যালোচনা করে বিষয়টি দেখা হবে। এরপর বিধি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিএসইসি দেশের শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রণকারী প্রধান সংস্থা। চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি যেন কোনো ধরনের স্বার্থের সংঘাতে না জড়ান—এটি নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি পদ যেহেতু অলাভজনক, তাই বিষয়টি সরাসরি চাকরি বা ব্যবসায়িক দায়িত্বের মতো নয়। তবে বিএসইসির সঙ্গে ওই প্রতিষ্ঠানের কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পর্ক আছে কি না, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে।

বর্তমানে তিনটি সম্ভাবনা সামনে রয়েছে—আইনি ব্যাখ্যায় সমস্যা না থাকলে মাসুদ খান দুই দায়িত্বেই থাকতে পারেন।স্বার্থের সংঘাত বা নিয়োগ শর্তের ব্যত্যয় ধরা পড়লে ট্রাস্টি পদ ছাড়তে পারেন।সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

তবে এখন পর্যন্ত বিএসইসি বা সরকারিভাবে তার চেয়ারম্যান পদ নিয়ে কোনো পরিবর্তনের ঘোষণা আসেনি।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে