ঢাকা, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

একীভূত ইসলামী ব্যাংকের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল বাংলাদেশ ব্যাংক

২০২৬ জুলাই ২২ ১১:১৯:১৪
একীভূত ইসলামী ব্যাংকের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল বাংলাদেশ ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক: দুর্বল অবস্থায় থাকা একীভূত পাঁচ ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রশাসক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী আগস্টের মধ্যেই পর্যায়ক্রমে এসব ব্যাংক থেকে প্রশাসকদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগামী সপ্তাহে এক্সিম ব্যাংক থেকে প্রশাসক প্রত্যাহার করা হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে একীভূত পাঁচ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে রোববার পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসকদের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন গভর্নর।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের একটি অংশ মনে করছে, প্রশাসকদের আরও কিছুদিন দায়িত্বে রাখা প্রয়োজন। তাদের মতে, ব্যাংকগুলোর সংস্কার কার্যক্রম এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি।

বৈঠকে পাঁচ ব্যাংকের বর্তমান কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, কোর ব্যাংকিং সিস্টেম (সিবিএস) বাস্তবায়ন এবং পুনর্গঠন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিদের মধ্যে ভবিষ্যৎ পরিচালনা কাঠামো নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, প্রশাসক প্রত্যাহারের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে একসঙ্গে নয়, ধাপে ধাপে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। আগস্টের মধ্যেই তা শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা মনে করছেন, সিবিএস বাস্তবায়ন পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসকদের রাখা হলে কাজ আরও কার্যকরভাবে সম্পন্ন হতে পারে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসকরা ব্যাংকগুলোর সংস্কার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

তার মতে, নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের জন্য ব্যাংকগুলোর বর্তমান অবস্থা, সংস্কার কার্যক্রম এবং পুনর্গঠন পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রশাসকদের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

একীভূত পাঁচ ব্যাংক হলো—এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক

জানা গেছে, আগের সরকারের সময়ে এক্সিম ব্যাংক বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে ছিল। অন্য চারটি ব্যাংক ছিল এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে। পরবর্তীতে এসব ব্যাংকে আর্থিক সংকট তৈরি হলে অন্তর্বর্তী সরকার শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠনের উদ্যোগ নেয়।

ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিচ্ছে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের শেয়ারের মাধ্যমে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া আমানত বীমা তহবিল থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যবহার করে এসব ব্যাংকের আমানতকারীদের সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এ তহবিল থেকে এখন পর্যন্ত ৮ লাখ ২২ হাজার আমানতকারীকে ৩ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার গ্রাহককে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত ডিসেম্বর শেষে পাঁচ ব্যাংকের মোট ঋণ স্থিতি ছিল প্রায় ১ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এসব ঋণের বিপরীতে জামানত রয়েছে মাত্র ৪৭ হাজার ৯০০ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের প্রায় ২৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ। বর্তমানে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৮৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

এদিকে পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীরা মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ করেন। পরে তারা মিছিল নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে যান এবং পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি জমা দেন।

স্মারকলিপিতে তারা ‘হেয়ারকাট’ বাতিলের ঘোষণা দ্রুত কার্যকর করা, আমানত মুনাফা পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব বাতিল এবং অন্যান্য তফসিলি ব্যাংকের মতো স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চালুর দাবি জানান।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে