ঢাকা, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

বন্ধ ২১ গার্মেন্টস কারখানা চালুতে বিজিএমইএর নতুন পরিকল্পনা

২০২৬ জুলাই ২২ ০৯:০০:১৫
বন্ধ ২১ গার্মেন্টস কারখানা চালুতে বিজিএমইএর নতুন পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামে আর্থিক ও অবকাঠামোগত সংকটে বন্ধ হয়ে যাওয়া বিজিএমইএর তালিকাভুক্ত ২১টি তৈরি পোশাক কারখানা (গার্মেন্টস) পুনরায় চালু করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। এ লক্ষ্যে বন্ধ বা বেসরকারিকরণ প্রক্রিয়াধীন সরকারি শিল্প-কারখানার অব্যবহৃত কিংবা লিজকৃত জমিতে মাল্টি-ফ্যাক্টরি হাব গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম অঞ্চলের ২১টি সদস্য কারখানা বর্তমানে তীব্র আর্থিক সংকটে রয়েছে। ভাড়া করা ভবনে উৎপাদন পরিচালনা, কার্যকর মূলধনের ঘাটতি, ব্যাংকঋণসংক্রান্ত জটিলতা, নেতিবাচক সিআইবি প্রতিবেদন, আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এসব কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ বা স্থবির হয়ে পড়েছে।

সংগঠনটির তথ্য বলছে, এসব প্রতিষ্ঠানের মোট ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ১ হাজার ৫২৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৯৭৬ কোটি টাকা পরিশোধ করা হলেও এখনো প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা খেলাপি বা মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ হিসেবে রয়ে গেছে।

কারখানাভেদে বকেয়া ঋণের পরিমাণ ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা থেকে ৫১৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা পর্যন্ত।

এই পরিস্থিতি থেকে শিল্পকে পুনরুদ্ধারে বিজিএমইএ সরকারের কাছে বন্ধ অথবা বেসরকারিকরণ প্রক্রিয়াধীন সরকারি শিল্প-কারখানার প্লট তাদের ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।

বিজিএমইএর নেতাদের মতে, চট্টগ্রামে ভাড়া করা ভবনে কারখানা পরিচালনা করে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কমপ্লায়েন্স মান বজায় রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। অন্যদিকে, মিরসরাই বা দূরবর্তী অর্থনৈতিক অঞ্চলে স্থানান্তর ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যয়বহুল।

তাদের মতে, বন্ধ সরকারি শিল্প-কারখানার বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহারের সুযোগ পেলে তুলনামূলক কম খরচে উৎপাদন পুনরায় শুরু করা সম্ভব হবে।

বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহসভাপতি এস এম আবু তৈয়ব বলেন, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রামে হওয়ায় এখান থেকে উৎপাদন ও রপ্তানির ব্যয় তুলনামূলক কম। পাশাপাশি বিদেশে পণ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে ‘লিড টাইম’ কমানো সম্ভব। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন কারখানা চট্টগ্রামে না হয়ে অন্য অঞ্চলে স্থানান্তরিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে নেতিবাচক বার্তা যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিজিএমইএর পরিচালক রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য সহজ শর্তে বিনিয়োগের সুযোগ সীমিত। অনেক ক্ষেত্রে কঠিন শর্তের কারণে উদ্যোক্তারা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। তিনি মনে করেন, স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য জমি ও অন্যান্য সুবিধা সহজলভ্য করা হলে চট্টগ্রামে গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হওয়ার প্রবণতা কমবে এবং নতুন বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি হবে, যা জাতীয় অর্থনীতির জন্যও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে