ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

৫ বছর পর এমসি কলেজ ধর্ষণ মামলার রায় ঘোষণা

২০২৬ জুলাই ১৪ ১৫:২২:৪১
৫ বছর পর এমসি কলেজ ধর্ষণ মামলার রায় ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আরও তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাইফুর রহমান (২৮) মামলার প্রধান আসামি। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— মাহবুবুর রহমান রনি (২৫), তারেকুল ইসলাম তারেক (২৮) ও অর্জুন লস্কর (২৬)।

আদালত যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত তিন আসামিকে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডও দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পিপি আবুল হোসেন।

তবে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় মামলার চার আসামি রবিউল ইসলাম (২৫), মাহফুজুর রহমান মাসুম (২৫), আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল (২৬) এবং মিজবাউল ইসলাম রাজন (২৭) খালাস পেয়েছেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে স্বামীর সঙ্গে সিলেটের এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে ঘুরতে গিয়েছিলেন এক গৃহবধূ। সেখানে কয়েকজন তাকে জোর করে তুলে নিয়ে ছাত্রাবাসে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে।

ঘটনার পরদিন ভুক্তভোগীর স্বামী বাদী হয়ে শাহপরাণ থানায় মামলা করেন। মামলায় ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর রহমানকে প্রধান আসামি করে ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং আরও দুজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।

ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। বিভিন্ন সামাজিক, মানবাধিকার ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এ ঘটনার প্রতিবাদ জানায়।

ঘটনার পর আসামিরা পালিয়ে গেলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে তিন দিনের মধ্যে ছয় আসামি ও সন্দেহভাজন দুইজনকে গ্রেপ্তার করে।

মামলায় গ্রেপ্তার আট আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। তদন্ত নথি অনুযায়ী, প্রধান আসামি সাইফুর রহমান, তারেকুল ইসলাম তারেক, মাহবুবুর রহমান রনি ও অর্জুন লস্কর ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন।

এ ছাড়া ডিএনএ পরীক্ষায় আট আসামির মধ্যে ছয়জনের ডিএনএ নমুনার মিল পাওয়া যায় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

ঘটনার দুই মাস আট দিন পর ২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর আট আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। পরে মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।

মামলায় মোট ২৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ভুক্তভোগী নারী, তার স্বামী, তদন্ত কর্মকর্তা, জবানবন্দি গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিৎসক ও এমসি কলেজের শিক্ষক ছিলেন।

রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী শাহ মোশাহিদ আলী। তিনি দাবি করেন, আসামিদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ নেই এবং ভুক্তভোগীও আসামিদের শনাক্ত করেননি। তিনি জানান, এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে