ঢাকা, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

একটি মশার কামড়েই বিপদ!

২০২৬ জুলাই ১১ ১০:০৭:৩১
একটি মশার কামড়েই বিপদ!

নিজস্ব প্রতিবেদক: একসময় ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশাকে বলা হতো ‘বনেদি মশা’। কারণ, ধারণা ছিল—এটি শুধু শহরের অভিজাত এলাকায় জন্মায় এবং সেখানকার মানুষই বেশি আক্রান্ত হন। সময়ের সঙ্গে সেই ধারণা বদলে গেছে। এখন এডিস মশা শহর থেকে গ্রাম, জেলা থেকে উপজেলা—দেশের প্রায় সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে।

এডিস মশা সাধারণত পরিষ্কার ও স্থির পানিতে বংশবিস্তার করে। যেমন—ফ্রিজের নিচের ট্রে, এসির পানি জমার স্থান, ফুলের টব, মানিপ্ল্যান্টের বোতল, পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা কিংবা ভবন নির্মাণস্থলের পানিভর্তি চৌবাচ্চা। এসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার না করলে সহজেই সেখানে এডিসের লার্ভা জন্ম নেয়।

বাংলাদেশে ২০০০ সালে প্রথম বড় আকারে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এরপর ২০১৯ এবং বিশেষ করে ২০২৩ সালে রোগটি ভয়াবহ রূপ নেয়। ওই বছর লাখো মানুষ আক্রান্ত হন এবং প্রায় এক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। তবে দেশে ডেঙ্গুর ইতিহাস আরও পুরোনো। ১৯৬৪ সালে প্রথম এ রোগ শনাক্ত হয়, যা তখন ‘ঢাকা ফিভার’ নামে পরিচিত ছিল। এরও বহু আগে, ১৮২৪ সালে কলকাতায় ডেঙ্গুর প্রথম প্রাদুর্ভাবের তথ্য পাওয়া যায়।

সময়ের সঙ্গে এডিস মশার বিস্তার ও আচরণেও পরিবর্তন এসেছে। আগে এটি মূলত দিনের বেলায় কামড়াত, এখন অনেক ক্ষেত্রেই সন্ধ্যা ও রাতেও সক্রিয় থাকে। ফলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি আগের চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত।

চলতি বছরও ডেঙ্গু উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ইতোমধ্যে সারা দেশে প্রায় সাত হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ জন। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার কারণে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। তাঁদের মতে, শুধু ফগিং করে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; বরং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে—প্রজননস্থল ধ্বংস, সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের তথ্য সমন্বয়, উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা জোরদার, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, আক্রান্ত এলাকায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ, হাসপাতালের প্রস্তুতি নিশ্চিত করা, সমন্বিত উদ্যোগ এবং জ্বর হলে দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ব্যক্তিগত ও সামাজিক সচেতনতা। কোথাও যাতে তিন থেকে পাঁচ দিনের বেশি পরিষ্কার পানি জমে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি মশারি ব্যবহার, ফুলহাতা পোশাক পরা এবং বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়; এটি প্রতিটি নাগরিকেরও দায়িত্ব। গণমাধ্যম, সামাজিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগই পারে এই রোগের বিস্তার রোধ করতে।

সচেতনতাই ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় শক্তি। আমরা যদি নিজেদের বাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশ পরিষ্কার রাখি এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করি, তবে ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। মানুষ বাঁচলে দেশ বাঁচবে—এই অঙ্গীকারই হোক সবার।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে