ঢাকা, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

খামেনির জানাজা ঘিরে চাঞ্চল্য, মরদেহ সংরক্ষণ নিয়ে যা জানা গেল

২০২৬ জুলাই ০৪ ১১:২২:১৫
খামেনির জানাজা ঘিরে চাঞ্চল্য, মরদেহ সংরক্ষণ নিয়ে যা জানা গেল

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর চার মাসেরও বেশি সময় পর আগামী ৯ জুলাই রাজধানী তেহরানে তার জানাজা ও দাফনের প্রস্তুতি চলছে। দীর্ঘ সময় মরদেহ সংরক্ষণ এবং দাফরে বিলম্বের কারণ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত হওয়ার পর প্রায় চার মাস ধরে খামেনির মরদেহ জনসমক্ষে আনা হয়নি। সম্প্রতি তার কফিন জনসমক্ষে প্রদর্শন করা হয়েছে। ইরান সরকার জানিয়েছে, সাত দিনব্যাপী জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান দেশটির ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ আনুষ্ঠানিক আয়োজন হতে যাচ্ছে।

জর্জ ওয়াশিংটন প্রোগ্রামের চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ ওমর ফক্স নিউজ ডিজিটালকে বলেন, খামেনির মরদেহ রাসায়নিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হয়নি। বরং উন্নত শীতলীকরণ ব্যবস্থায় রাখা হয়েছিল বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইসলামে রাসায়নিকভাবে মরদেহ সংরক্ষণের অনুমতি নেই। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে শিয়া ইসলামী বিধান অনুযায়ী দাফন বিলম্বিত করা এবং হিমায়িত বা শীতলীকরণ ব্যবস্থায় মরদেহ সংরক্ষণ করা যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, দাফনের সময় ও স্থান বারবার পরিবর্তন এবং দীর্ঘ সময় আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দেওয়ার ঘটনাগুলো নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

ইসলামী রীতিতে সাধারণত মৃত্যুর পর দ্রুত দাফন সম্পন্ন করা হয়। তবে খামেনির ক্ষেত্রে দীর্ঘ বিলম্বের পেছনে যুদ্ধ পরিস্থিতি, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের প্রস্তুতিকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মরদেহ সাময়িকভাবে দাফন করা হয়েছিল—এমন গুঞ্জন ছড়ায়, ইরানি কর্তৃপক্ষ তা অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, পুরো সময় ধর্মীয় ও আইনি বিধান মেনেই মরদেহ যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

জানাজা ও দাফনকে ঘিরে ইরানে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দেশটির ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা এ সময় ইসরাইলকে কোনো ধরনের ‘ভুল হিসাব’ না করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন।

এদিকে জানাজার নামাজে কে ইমামতি করবেন, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে ধারণা করা হচ্ছে, নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি এ দায়িত্ব পালন করতে পারেন। তবে এ বিষয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিকতা শেষে খামেনিকে মাশহাদের ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হবে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে