ঢাকা, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

ইউরোপে ধাক্কা খেল বাংলাদেশ, সুযোগ নিচ্ছে ভারত

২০২৬ জুলাই ০১ ১৩:০২:১২
ইউরোপে ধাক্কা খেল বাংলাদেশ, সুযোগ নিচ্ছে ভারত

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। একই সময়ে ভারত, চীন ও ভিয়েতনাম তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থান ধরে রাখায় ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ইউরোস্ট্যাটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি-এপ্রিল সময়ে ইইউতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৬.০৯ বিলিয়ন ইউরো, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৭.৫৫ বিলিয়ন ইউরো। অর্থাৎ এক বছরে রপ্তানি কমেছে ১.৪৭ বিলিয়ন ইউরো বা ১৯.৪ শতাংশ।

একই সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মোট পোশাক আমদানি কমেছে ১০.৪ শতাংশ। অর্থাৎ বাজার সংকুচিত হলেও বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে বাজারের গড় পতনের প্রায় দ্বিগুণ হারে।এর ফলে ইইউ বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব ২৪.৪ শতাংশ থেকে কমে ২১.৯ শতাংশে নেমে এসেছে।

ইউরোপীয় বাজারে ভারতের রপ্তানিও কিছুটা কমেছে। তবে পতনের হার ছিল ১২.১ শতাংশ, যা বাংলাদেশের তুলনায় অনেক কম।

শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের অবস্থান শক্ত হওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে—ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের মুক্ত বাণিজ্য , চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে অগ্রগতি, ম্যান-মেড ফাইবার (এমএমএফ) পোশাক উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈচিত্র্যময় পণ্য রপ্তানি শক্তিশালী কাঁচামাল সরবরাহ ব্যবস্থা, তুলনামূলক কম উৎপাদন ব্যয় ও দ্রুত সরবরাহ সক্ষমতা, চীন ও ভিয়েতনামও এগিয়ে।

প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর মধ্যে চীনের রপ্তানি কমেছে মাত্র ৪.৬ শতাংশ। ফলে ইইউ বাজারে দেশটির অংশীদারিত্ব ২৬.৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৮.৬ শতাংশে পৌঁছেছে।

অন্যদিকে ভিয়েতনামের রপ্তানি কমেছে মাত্র ০.৭ শতাংশ। বরং নিটওয়্যার রপ্তানি বেড়েছে ২.৩ শতাংশ, যার ফলে দেশটির বাজার অংশীদারিত্ব ৪.৪ শতাংশ থেকে ৪.৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইইউ-ভিয়েতনাম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (ইভিএফটিএ), আধুনিক সরবরাহ ব্যবস্থা এবং উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদন ভিয়েতনামকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে।শুধু রপ্তানির পরিমাণই নয়, বাংলাদেশের পোশাকের গড় রপ্তানি মূল্যও কমেছে।

চার মাসে প্রতি কেজি পোশাকের গড় মূল্য ১৫.৫৯ ইউরো থেকে ১৩.৯৬ ইউরোতে নেমে এসেছে। অর্থাৎ রপ্তানিকারকদের কম অর্ডারের পাশাপাশি কম দামেও পণ্য বিক্রি করতে হয়েছে।

শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদ, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট, কাঁচামাল আমদানিতে বিলম্ব, বন্দরের জট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং এলডিসি উত্তরণ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে দুর্বল করছে।

বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, শুধু অর্ডার কমে যাওয়া নয়, ইউনিট মূল্য কমে যাওয়াও রপ্তানি হ্রাসের বড় কারণ। তিনি উৎপাদন ব্যয় কমানো, বন্দর ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং উচ্চমূল্যের মূল্যসংযোজনকারী পণ্যে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন।

অন্যদিকে বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বলেন, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও ব্যাংকিং সংকটের কারণে বাংলাদেশের অনেক প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগীদের মতো মূল্যছাড় দেওয়ার সক্ষমতা হারিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৯ সালে এলডিসি থেকে উত্তরণের পর ইউরোপীয় বাজারে বাংলাদেশের বর্তমান শুল্কমুক্ত সুবিধা থাকবে না। তাই এখনই উৎপাদন দক্ষতা, অবকাঠামো, জ্বালানি নিরাপত্তা, সরবরাহ ব্যবস্থা ও পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়াতে না পারলে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও দুর্বল হতে পারে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে