×
ঢাকা, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

খেলাপি ঋণ আদায়ে নতুন উদ্যোগ, বিশেষ এক্সিট পলিসি জারি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

২০২৬ জুন ৩০ ১৩:১৫:৪০
খেলাপি ঋণ আদায়ে নতুন উদ্যোগ, বিশেষ এক্সিট পলিসি জারি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

নিজস্ব প্রতিবেদক :দেশের ব্যাংক খাতে ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমানো এবং দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা ঋণ দ্রুত আদায়ের লক্ষ্যে বিশেষ এক্সিট পলিসি চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এ নীতিমালার আওতায় আর্থিক সংকটে থাকা, তবে ব্যবসা পরিচালনায় সক্ষম খেলাপি ঋণগ্রহীতারা এককালীন অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে ঋণ নিষ্পত্তির সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি ঋণের ওপর আরোপিত ও অনারোপিত সুদের উল্লেখযোগ্য অংশ মওকুফের সুবিধাও রাখা হয়েছে।

এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার সোমবার (২৯ জুন) জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, ৩০ জুন ২০২৬ ভিত্তি তারিখে 'মন্দ' ও 'ক্ষতিজনক' মানে শ্রেণিকৃত সব খেলাপি ঋণ এ বিশেষ সুবিধার আওতায় আসবে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন এবং ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে এ সুবিধা দেওয়া হবে।

নীতিমালার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো, ঋণগ্রহীতাকে এককালীন পুরো ঋণের দায় পরিশোধ করতে হবে। এর বিনিময়ে ঋণের ওপর আরোপিত এবং অনারোপিত সুদের উল্লেখযোগ্য অংশ মওকুফ করার সুযোগ থাকবে। এ সুবিধা বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক আগের কিছু কঠোর শর্তও শিথিল করেছে।

এ ছাড়া ৬ আগস্ট ২০২৪ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ সময়ের মধ্যে পুনঃতফসিল করা ঋণও এ বিশেষ এক্সিট পলিসির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষি খাতের স্বল্পমেয়াদি ঋণ এবং সিএমএসএমই খাতের কটেজ, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ এ সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, উৎপাদনশীল খাতে ঋণপ্রবাহ বৃদ্ধি এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে খেলাপি ঋণের হার কমানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে খেলাপি ঋণের উচ্চমাত্রা ব্যাংকগুলোর সম্পদের গুণগত মান, তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং নতুন ঋণ বিতরণের সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এ বাস্তবতায় ব্যাংকগুলোর আটকে থাকা অর্থ দ্রুত আদায় এবং সক্ষম ঋণগ্রহীতাদের নতুনভাবে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ করে দিতেই বিশেষ এ এক্সিট পলিসি চালু করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশা, এ উদ্যোগের ফলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, উৎপাদন সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রকৃত আর্থিক সংকটে থাকা ঋণগ্রহীতাদের জন্য এ উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান বজায় রাখা জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতে নৈতিক ঝুঁকি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সার্কুলার অনুযায়ী, বিশেষ এ এক্সিট সুবিধা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এ সময়ের মধ্যে সম্ভাব্য সুবিধাভোগী ঋণগ্রহীতাদের অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ প্রান্তিক শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা হয়েছে, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ। এটি দেশের ব্যাংকিং খাতের ইতিহাসে সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের রেকর্ড।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে