ঢাকা, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

নর্দার্ন ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে একাধিক অনিয়ম

২০২৬ জুন ৩০ ২২:৩৪:৩০
নর্দার্ন ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে একাধিক অনিয়ম

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নর্দার্ন ইসলামী ইন্স্যুরেন্স পিএলসি-এর ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক বিবরণীর ওপর নিরীক্ষক ‘Qualified Opinion’ (যোগ্যতাসাপেক্ষ মতামত) প্রদান করেছেন। একই সঙ্গে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ‘Emphasis of Matter’ (গুরুত্বপূর্ণ বিষয়) শিরোনামে কয়েকটি বিষয়ও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোম্পানির ৮৮২টি স্থায়ী আমানত (এফডিআর), যার মোট পরিমাণ ৯৫ কোটি ৯২ লাখ ৮৪ হাজার ১৮০ টাকা, এর বিপরীতে ব্যালেন্স নিশ্চিতকরণের জন্য অনুরোধ পাঠানো হয়। এর মধ্যে ১৩৫টি এফডিআরের, মোট ১৩ কোটি ৩৭ লাখ ৫৫ হাজার ৫০৯ টাকা-এর নিশ্চয়ন পাওয়া গেলেও বাকি ৭৪৭টি এফডিআরের, মোট ৮২ কোটি ৫৫ লাখ ২৮ হাজার ৬৭১ টাকা-এর নিশ্চয়ন পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট এফডিআর স্টেটমেন্ট ও ইন্সট্রুমেন্ট নিরীক্ষক পর্যালোচনা করেছেন।

এছাড়া, অন্যান্য বীমা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রাপ্য চলতি সম্পদ হিসেবে ৫৩ কোটি ১৩ লাখ ২৪ হাজার ৬৬৮ টাকা এবং অন্যান্য বীমা প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রদেয় চলতি দায় হিসেবে ১৫ কোটি ৯ লাখ ৮৯ হাজার ৮৩৫ টাকা-সংক্রান্ত তৃতীয় পক্ষের নিশ্চয়নপত্র চাওয়া হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের তারিখ পর্যন্ত তা পাওয়া যায়নি।

নিরীক্ষক আরও উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) করপোরেট গভর্ন্যান্স কোড, ২০১৮-এর ধারা ১(২)(ক) অনুসারে পরিচালনা পর্ষদের অন্তত এক-পঞ্চমাংশ স্বতন্ত্র পরিচালক হওয়ার কথা। ১৬ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদে যেখানে ন্যূনতম চারজন স্বতন্ত্র পরিচালক থাকা বাধ্যতামূলক, সেখানে কোম্পানিটির পর্ষদে বর্তমানে মাত্র দুইজন স্বতন্ত্র পরিচালক রয়েছেন। তবে বিদ্যমান পর্ষদ বীমা আইন, ২০১০-এর বিধান অনুযায়ী গঠিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ১৪-১৬ এবং ১৯-২৩ অনুযায়ী চাকরি-পরবর্তী কর্মী সুবিধার (Post-employment Benefits) জন্য প্রয়োজনীয় দায় সংরক্ষণ (Provision) না রাখার বিষয়টিও নিরীক্ষক প্রতিবেদনে তুলে ধরেছেন। এর ফলে কর্মচারী সুবিধা-সংক্রান্ত দায় কম দেখানো হয়েছে এবং আর্থিক বিবরণী প্রযোজ্য আইনি বিধানের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মন্তব্য করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ‘Emphasis of Matter’ অংশে নিরীক্ষক কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (২০১৩ ও ২০১৮ সালে সংশোধিত) অনুযায়ী ওয়ার্কার্স প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ড গঠন না করার কারণ, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডে ১৬ লাখ টাকা এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডে ১ কোটি ৬৬ লাখ ৪ হাজার ৯০ টাকা এফডিআর বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আইএফআরএস-৯ অনুযায়ী ইম্পেয়ারমেন্ট টেস্ট না করার কারণ, আইএফআরএস-১৬ (লিজ) থেকে বিচ্যুতির কারণ এবং দীর্ঘদিনের অনাদায়ী লভ্যাংশ ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডে স্থানান্তর না করার বিষয়। তবে এসব বিষয়ে নিরীক্ষকের মূল মতামতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে