ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

চার দিনে ৬ দফা ভূমিকম্প; বড় বিপদের ইঙ্গিত

২০২৬ জুন ২৩ ১১:৩৫:২০
চার দিনে ৬ দফা ভূমিকম্প; বড় বিপদের ইঙ্গিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি জুন মাসে রাজধানী ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কয়েক দফা ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে একাধিক কম্পন অনুভূত হওয়ায় অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছে—এগুলো কি বড় কোনো ভূমিকম্পের পূর্বাভাস, নাকি স্বাভাবিক ভূ-প্রাকৃতিক ঘটনা?

সবশেষ সোমবার (২২ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া না গেলেও নগরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এর আগে ১৮ জুন রাত ৯টা ২৯ মিনিটে রিখটার স্কেলে ৪.৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের মণিপুর অঞ্চলে, যা ঢাকা থেকে প্রায় ৩৬১ কিলোমিটার দূরে।

১১ জুন ভারতের শিলচর এলাকায় উৎপত্তি হওয়া ৪.৫ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প সিলেট, ময়মনসিংহ ও ঢাকার কিছু এলাকায় অনুভূত হয়। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার।

এ ছাড়া ৭ জুন ভুটানকেন্দ্রিক ৫.৬ মাত্রার একটি মাঝারি ভূমিকম্প বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রবলভাবে অনুভূত হয়েছিল। সে সময় অনেক মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে চলে আসেন।

যদিও এসব ভূমিকম্পে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, তবে স্বল্প সময়ের মধ্যে বারবার কম্পন মানুষের মধ্যে নতুন করে ভূমিকম্প-ভীতি তৈরি করেছে।

ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার-এর মতে, বাংলাদেশের প্রধান ভূমিকম্প ঝুঁকির উৎস দুটি—উত্তরের ডাউকি ফল্ট এবং পূর্বাঞ্চলের সাবডাকশন জোন, যা সিলেট থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতীয় প্লেট ও বার্মা প্লেটের সংযোগস্থলে দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ ভূতাত্ত্বিক শক্তি জমা হচ্ছে, যা তাত্ত্বিকভাবে ৮.২ থেকে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প সৃষ্টি করতে সক্ষম।

তিনি বলেন, সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো সংশ্লিষ্ট ফল্ট লাইনের কিছু অংশ দীর্ঘদিন ধরে ‘লকড’ অবস্থায় রয়েছে। ফলে শক্তি ধীরে ধীরে নির্গত না হয়ে জমা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত হয়ে বহুতল ভবন থেকে দৌড়ে নিচে নামা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এর পরিবর্তে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত “ড্রপ, কাভার অ্যান্ড হোল্ড” পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত।

ড্রপ: কম্পন শুরু হলে দ্রুত নিচু হয়ে বসে পড়ুন।

কাভার: শক্ত টেবিল, খাট বা নিরাপদ আসবাবের নিচে আশ্রয় নিন এবং মাথা-ঘাড় সুরক্ষিত রাখুন।

হোল্ড: কম্পন শেষ না হওয়া পর্যন্ত আশ্রয়স্থল শক্তভাবে ধরে রাখুন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্প মোকাবিলায় শুধু অবকাঠামোগত প্রস্তুতি নয়, জনসচেতনতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত মহড়া, স্থানীয় পর্যায়ে দুর্যোগ প্রস্তুতি কর্মসূচি এবং প্রযুক্তিনির্ভর সচেতনতামূলক উদ্যোগ মানুষের ঝুঁকি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে