ঢাকা, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

শেয়ারবাজার সংস্কারে অর্থমন্ত্রীর মেগা প্ল্যান: আসছে ডিজিটাল আইপিও

২০২৬ জুন ১২ ০৬:৪০:০৮
শেয়ারবাজার সংস্কারে অর্থমন্ত্রীর মেগা প্ল্যান: আসছে ডিজিটাল আইপিও

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের শেয়ারবাজারের খোলনলচে বদলে ফেলতে এবং লিস্টিং বা তালিকাভুক্তির জটিলতা দূর করতে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে এক উচ্চাভিলাষী রোডম্যাপ ঘোষণা করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম এই বাজেটে (১১ জুন) ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল ব্যয় বরাদ্দের পাশাপাশি শেয়ারবাজারকে আধুনিকায়নের ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী সংসদে স্পষ্ট করে বলেন, বিগত সরকারের আমলের "লুটপাট, অব্যবস্থাপনা এবং ভুল নীতিমালার" কারণে বাজার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তাই বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে এনে একটি টেকসই ও আধুনিক আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার দেশের বিনিয়োগ কাঠামোকে ঋণ-নির্ভরতা থেকে কমিয়ে ইক্যুইটি বা মূলধন-ভিত্তিক ব্যবস্থায় রূপান্তর করতে চায়, যা সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) আকৃষ্ট করতে সাহায্য করবে। এই রূপান্তরকে সহজ করতে আইপিও (প্রাথমিক গণপ্রস্তাব) প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে আবেদন, যাচাই-বাছাই, অনুমোদন এবং ফি জমা দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি একটি সমন্বিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। এর পাশাপাশি পুঁজিবৃদ্ধির আইনি খরচ এবং অস্পষ্টতা কমিয়ে প্রক্রিয়াটিকে আরও সহজ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আনতে পেনশন ফান্ড, বীমা কোম্পানি এবং অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ফার্মের মতো প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

শেয়ারবাজারকে বিশ্বমানের করে গড়ে তুলতে লেনদেন নিষ্পত্তির সময়সীমা বর্তমানের ‘টি+২’ (T+2) থেকে কমিয়ে ‘টি+০’ (T+0)-এ নামিয়ে আনার বড় ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা একই দিনের মধ্যে তাদের শেয়ার কেনাবেচার সম্পূর্ণ নিষ্পত্তি করতে পারবেন, যা উন্নত বিশ্বের বাজারগুলোর মতোই গতিশীল হবে। বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে অনিবাসী বিনিয়োগকারী টাকা অ্যাকাউন্ট (নিটা)-এর মাধ্যমে মাত্র এক দিনে অর্থ দেশে ফেরত নেওয়া বা পুনঃবিনিয়োগের সুবিধা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সাথে বাংলাদেশী কোম্পানিগুলো যাতে বিদেশী বাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করতে পারে, সেজন্য আঞ্চলিক দ্বৈত তালিকাভুক্তি (ডুয়াল লিস্টিং) চালুর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমাতে করপোরেট বন্ডের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় সরকার ও নগর অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ‘মিউনিসিপ্যাল বন্ড’ চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের অর্থায়নে সুকুক (ইসলামী বন্ড) এবং অবকাঠামো ফান্ডের ব্যবহার আরও বিস্তৃত করা হবে। এছাড়া বাজারে আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে নিরীক্ষক (অডিটর), মূল্যায়নকারী (ভ্যালুয়ার) এবং ইস্যু ম্যানেজারদের জন্য পেশাদার দায়বদ্ধতার কাঠামো এবং বাধ্যতামূলক ‘লায়াবিলিটি ইন্স্যুরেন্স’ ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে, যা বিনিয়োগকারীদের সঠিক তথ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করবে।

সালাউদ্দিন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে