ঢাকা, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

কারসাজির অভিযোগে শ্যামপুর সুগারের লেনদেন স্থগিত

২০২৬ জুন ১২ ০৬:২৪:২৩
কারসাজির অভিযোগে শ্যামপুর সুগারের লেনদেন স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ার কারণে শ্যামপুর সুগার মিলস লিমিটেডের শেয়ার লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্দেশনায় (১১ জুন) এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শেয়ারের সন্দেহজনক লেনদেন ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রোধে নিজেদের নিয়ন্ত্রণমূলক ক্ষমতার আওতায় ডিএসই এই ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানা গেছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) কোম্পানিটির শেয়ারের দাম প্রায় ৮.৭৪ শতাংশ বেড়ে ২৩৮ টাকা ৯০ পয়সায় পৌঁছায়, যা কোম্পানিটির বর্তমান বাস্তব অবস্থার সাথে একেবারেই বেমানান। দীর্ঘদিনের লোকসান এবং জরাজীর্ণ যন্ত্রপাতির কারণে ২০২০-২১ অর্থবছর থেকেই শ্যামপুর সুগার মিলসের চিনি মাড়াইসহ সব ধরনের উৎপাদন কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ফলে মিল পুরোপুরি অচল থাকা সত্ত্বেও শেয়ারের এমন আকাশচুম্বী লাফ সবাইকে অবাক করেছে।

ডিএসই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোম্পানিটির প্রকৃত আর্থিক অবস্থার সাথে শেয়ারের দামের এমন বিস্তর ফারাক বড় ধরনের উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। শেয়ারবাজারের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো কোম্পানির মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) সঠিক সময়ে প্রকাশ না হলে কিংবা বিনিয়োগকারীরা বিভ্রান্তিকর তথ্যের ফাঁদে পড়ার আশঙ্কা থাকলে লেনদেন স্থগিত করা যায়। এ ছাড়া আর্থিক প্রতিবেদন জমায় বিলম্ব, করপোরেট সুশাসনের অভাব, অলিখিত সম্পদ বিক্রি, ঋণখেলাপি বা আদালতের বড় কোনো রায়ের ফলেও লেনদেন বন্ধের নিয়ম রয়েছে।

এদিকে শ্যামপুর সুগারের লেনদেন স্থগিতের এই ঘোষণা পুরো শেয়ারবাজারে বেশ নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। দিনের শুরুতে বাজারের সূচক ইতিবাচক থাকলেও, এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিনিয়োগকারীদের মাঝে বিক্রির চাপ বেড়ে যায়। বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ারের ক্রেতা উধাও হয়ে যাওয়ায় বাজার সাময়িক সংশোধনের মধ্য দিয়ে যায়। নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বাজার সংশ্লিষ্টদের মাঝে অবশ্য মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ব্রোকারেজ হাউসগুলো অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির তদন্তকে স্বাগত জানালেও, পুরো কোম্পানির লেনদেন ব্লক করার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের মতে, ঢালাওভাবে লেনদেন বন্ধ না করে কারসাজির সাথে জড়িত নির্দিষ্ট বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) অ্যাকাউন্টগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল, যাতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হন।

তবে নিজেদের এই শক্ত অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়ে ডিএসই জানিয়েছে, শ্যামপুর সুগারের এই মূল্যবৃদ্ধি তাদের ব্যবসায়িক বা আর্থিক বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এর পেছনে কোনো গোপন মূল্য সংবেদনশীল তথ্য কিংবা বাজার কারসাজি রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতেই এই ব্যবস্থা। ইতোমধ্যে কোম্পানির কাছে ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র চাওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষ করে সন্তোষজনক জবাব পাওয়ার পরই কেবল পুনরায় লেনদেনের অনুমতি দেওয়া হবে।

এই বিষয়ে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুসরাত আনোয়ার গণমাধ্যমকে জানান, অস্বাভাবিক দামের ওঠানামার কারণে লেনদেন স্থগিত করা একটি নিয়মিত আইনি প্রক্রিয়া, কোনো ব্যতিক্রমী ঘটনা নয়। সাধারণত এই নিয়মের ব্যবহার কম হওয়ায় অনেকের কাছে এটি নতুন মনে হতে পারে, তবে বাজারের স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে এটি অত্যন্ত জরুরি। লেনদেন আবার কবে শুরু হবে— তা তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে বিধায় গোপনীয়তার স্বার্থে আগে থেকে তা জানানো সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে