ঢাকা, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

ইউরোপে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন দুঃসংবাদ!

২০২৬ জুন ০৫ ১১:১২:৫৯
ইউরোপে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন দুঃসংবাদ!

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ইতিহাসের অন্যতম কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। নতুন নীতিমালার আওতায় আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত বা বৈধ কাগজপত্রবিহীন অভিবাসীদের দ্রুত বহিষ্কার করার পাশাপাশি ইউরোপের বাইরে স্থাপিত বিশেষ ‘রিটার্ন হাব’ বা প্রত্যাবাসন কেন্দ্রে পাঠানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত ফ্রান্সসহ ইউরোপে অবস্থানরত অনিয়মিত বাংলাদেশিদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত।

সম্প্রতি ইউরোপীয় কমিশন, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে নতুন প্রত্যাবাসন নীতিতে সমঝোতা হয়েছে। প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ইউরোপে অবস্থানের বৈধতা হারানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে। নতুন নিয়মে একজন অভিবাসীকে শুধু তার নিজ দেশে নয়, বরং ইউরোপের বাইরে কোনো তৃতীয় দেশে স্থাপিত প্রত্যাবাসন কেন্দ্রেও পাঠানো যেতে পারে।

ইইউর তথ্য অনুযায়ী, যেসব বিদেশিকে ইউরোপ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়, তাদের একটি বড় অংশ বাস্তবে নিজ দেশে ফিরে যায় না। ফলে বহিষ্কার আদেশ কার্যকর করতে দীর্ঘ সময় লাগে এবং অনেক ক্ষেত্রেই প্রশাসন কাঙ্ক্ষিত ফল পায় না। এই বাস্তবতায় ইউরোপীয় নেতারা প্রত্যাবাসন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

নতুন আইন কার্যকর হলে সদস্য রাষ্ট্রগুলো বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আরও বেশি ক্ষমতা পাবে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মধ্যে তথ্য বিনিময় ও প্রশাসনিক সহযোগিতা বাড়ানো হবে, যাতে একজন ব্যক্তি এক দেশ থেকে অন্য দেশে গিয়ে বহিষ্কার এড়াতে না পারেন।

নতুন নীতিমালার সবচেয়ে আলোচিত অংশ হলো ‘রিটার্ন হাব’ ব্যবস্থা। এর আওতায় ইউরোপের বাইরে নির্দিষ্ট কিছু দেশে প্রত্যাবাসন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। যাদের আশ্রয় আবেদন চূড়ান্তভাবে বাতিল হয়েছে অথবা যাদের ইউরোপে থাকার বৈধ অধিকার নেই, তাদের এসব কেন্দ্রে পাঠানো হতে পারে। সেখান থেকে পরবর্তীতে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইতালির আলবেনিয়া মডেল এবং বিভিন্ন ইউরোপীয় দেশের পূর্ববর্তী পরিকল্পনাগুলোই এই নতুন ব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।

নতুন নীতির তীব্র সমালোচনা করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। তাদের আশঙ্কা, তৃতীয় দেশে স্থাপিত প্রত্যাবাসন কেন্দ্রগুলোতে অভিবাসীদের আইনি সুরক্ষা দুর্বল হতে পারে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি আটক, জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে তারা মনে করছে।

তবে ইউরোপীয় কমিশনের দাবি, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য কোনোভাবেই মানবাধিকার খর্ব করা নয়; বরং যাদের ইউরোপে থাকার আইনগত ভিত্তি নেই তাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াকে কার্যকর ও দ্রুত করা।

ফ্রান্স, ইতালি, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম ও স্পেনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কয়েক লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছেন। তাদের বড় অংশ বৈধভাবে কর্মসংস্থান, ব্যবসা কিংবা শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত। তবে একটি অংশ এখনও আশ্রয় আবেদন, নিয়মিতকরণ প্রক্রিয়া বা কাগজপত্রসংক্রান্ত জটিলতায় রয়েছেন।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে যাদের আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, যাদের রেসিডেন্স পারমিট নবায়ন হয়নি অথবা যারা দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মিতভাবে বসবাস করছেন, তারা আগের তুলনায় বেশি প্রশাসনিক নজরদারির আওতায় আসতে পারেন। ফলে বহিষ্কার বা প্রত্যাবাসনের ঝুঁকিও বাড়বে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেসব বাংলাদেশির কাগজপত্রে সমস্যা রয়েছে বা যাদের আইনি অবস্থান অনিশ্চিত, তাদের দ্রুত অভিবাসন আইনজীবী বা সংশ্লিষ্ট পরামর্শক সংস্থার সহায়তা নেওয়া উচিত। বৈধতার সুযোগ থাকলে তা নিয়মিত করার উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি ভুয়া কাগজপত্র, অবৈধ কর্মসংস্থান বা পরিচয় গোপনের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

ইইউর নতুন নীতিমালা এখন আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের চূড়ান্ত ধাপের দিকে এগোচ্ছে। এটি কার্যকর হলে ইউরোপের অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে অনিয়মিত অভিবাসীদের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক তৎপরতা, নজরদারি এবং প্রত্যাবাসন কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক বছরে ইউরোপে অভিবাসন নীতির কেন্দ্রবিন্দু হবে ‘প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দ্রুত প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা’।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে