ঢাকা, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

দুই সপ্তাহের মধ্যেই নতুন নেতৃত্ব পাবে বিএসইসি: অর্থমন্ত্রী

২০২৬ জুন ০২ ১৭:১৫:১৬
দুই সপ্তাহের মধ্যেই নতুন নেতৃত্ব পাবে বিএসইসি: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে শেয়ারবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) নতুন চেয়ারম্যান ও চারজন কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কমিশনকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানো হচ্ছে এবং নেতৃত্ব নির্বাচনে রাজনৈতিক নয়, সম্পূর্ণ পেশাদার বিবেচনাকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘বাজেট ২০২৬-২৭ : প্রত্যাশা ও বাস্তবায়ন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের এমন ব্যক্তিদের মধ্য থেকে নির্বাচন করা হয়েছে, যারা পুঁজিবাজার সম্পর্কে গভীর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা রাখেন। তাদের নেতৃত্বে দেশের ক্যাপিটাল মার্কেটে ইতিবাচক ও দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, “একজন চেয়ারম্যান ও চারজন কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হবে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই আপনারা এর বাস্তব প্রতিফলন দেখতে পাবেন।”

শেয়ারবাজারে ভালো কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়ছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, অতীতে নানা সীমাবদ্ধতা ও অনাস্থার কারণে অনেক সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠান শেয়ারবাজারে আসতে অনাগ্রহী ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তনের ফলে এখন অনেক উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগ্রহ দেখাচ্ছে।

তার ভাষায়, “অনেক উদ্যোক্তা এখন বলছেন, তারা শেয়ারবাজারে আসতে চান। কারণ তারা ক্যাসিনোতে নয়, একটি প্রকৃত স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হতে চান।”

তিনি মনে করেন, অধিকসংখ্যক ভালো কোম্পানি বাজারে এলে ব্যাংকনির্ভর অর্থায়ন কমবে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো শেয়ার ও বন্ডের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি তহবিল সংগ্রহের সুযোগ পাবে।

সিডিবিএল প্রতিষ্ঠার অভিজ্ঞতা

বক্তব্যে শেয়ারবাজারের আধুনিকায়নে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) গঠনের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, একসময় শেয়ার সার্টিফিকেট জালিয়াতি, একই শেয়ার একাধিকবার বিক্রি কিংবা বন্ধক রাখার মতো নানা অনিয়ম বাজারে বিদ্যমান ছিল। এসব সমস্যা দূর করতে কাগজভিত্তিক শেয়ার ব্যবস্থার পরিবর্তে ইলেকট্রনিক পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

অর্থমন্ত্রী জানান, সিডিবিএলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি সরাসরি এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এ জন্য সংসদে আইন পাস করানোসহ বিভিন্ন অংশীজনকে বিষয়টি বোঝাতে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালাতে হয়েছিল।

তিনি বলেন, “তখন অনেকেই বুঝতে চাইতেন না সিডিবিএল কী এবং এর প্রয়োজনীয়তা কোথায়। কিন্তু বর্তমানে অনলাইন ও রিয়েল-টাইম ট্রেডিংয়ের ফলে শেয়ারবাজার অনেক বেশি আধুনিক, স্বচ্ছ ও কার্যকর হয়েছে।”

অনিয়মে দুর্বল হয়েছে ব্যাংক খাত

দেশের ব্যাংকিং খাতের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে অনেক ব্যাংক এখন মূলধন ঘাটতিতে ভুগছে। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক বিনিয়োগকারীও আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ব্যাংকগুলোর পুনঃমূলধনীকরণ এবং বেসরকারি খাতে প্রয়োজনীয় কার্যকর মূলধনের জোগান নিশ্চিত করা।

সরকারের একার পক্ষে এ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি জানান, এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন ফান্ড ম্যানেজারের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে

অর্থমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি), বিভিন্ন বৈশ্বিক ফান্ড ম্যানেজার এবং বড় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বিনিয়োগ সম্ভাবনার প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করছে।

তিনি জানান, বিশ্বের শীর্ষ বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি জেপি মরগানসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সফর করছে এবং দেশের বাজার সম্পর্কে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

তার মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নে বাড়বে শেয়ারবাজারের ভূমিকা

ব্যাংক খাতের ওপর চাপ কমাতে শক্তিশালী শেয়ারবাজার গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অনেক ব্যাংক ১২ থেকে ১৩ শতাংশ সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ প্রদান করছে, যা ব্যাংকিং ব্যবস্থার জন্য টেকসই নয়।

তিনি বলেন, ব্যাংকের আমানতের মেয়াদ সাধারণত স্বল্পমেয়াদি হলেও সেগুলো দিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকার দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের অর্থায়ন মূলত শেয়ারবাজারের মাধ্যমে হওয়া উচিত।

তার মতে, কার্যকর ও গভীর শেয়ারবাজার গড়ে উঠলে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের বড় অংশ শেয়ার ও বন্ড বাজার থেকেই আসবে, ফলে ব্যাংকগুলোর ওপর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।

দেশে তৈরি হবে বৈদ্যুতিক গাড়ি

অর্থমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে ইতোমধ্যে একটি প্রতিষ্ঠান বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে এবং সরকার এ খাতের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে।

তিনি বলেন, দেশে উৎপাদিত ইভি শুধু স্থানীয় বাজারের চাহিদাই পূরণ করবে না, বিদেশেও রপ্তানি করা হবে। এর ফলে সাধারণ মানুষ তুলনামূলক কম দামে আধুনিক প্রযুক্তির যানবাহন ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।

সবশেষে তিনি বলেন, ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়া সহজ কাজ নয়। তবে সরকার সেই লক্ষ্য অর্জনে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে