ঢাকা, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

সর্বজনীন পেনশন নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত

২০২৬ মে ১৩ ১৭:৩৪:১১
সর্বজনীন পেনশন নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্থবির হয়ে পড়া সর্বজনীন পেনশন স্কিমকে নতুন করে গতিশীল করতে বড় উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বাড়াতে প্রায় ১ হাজার ২২৭ কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থায়নে সম্মত হয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

মঙ্গলবার (১২ মে) অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিমের অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা’ বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভায় এ তথ্য জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এডিবির অর্থায়নে ‘সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ’ নামে একটি প্রকল্প নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। এতে এডিবি ১০ কোটি মার্কিন ডলার সহজশর্তে ঋণ দেবে, পাশাপাশি সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকেও অর্থায়ন করা হবে।

সরকারের লক্ষ্য, এই অর্থায়নের মাধ্যমে দেশের বিপুল অনানুষ্ঠানিক শ্রমশক্তিকে পেনশন ব্যবস্থার আওতায় আনা এবং এর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, অবকাঠামো ও সেবার পরিধি বাড়ানো।

উল্লেখ্য, দেশের বয়স্ক জনগোষ্ঠীর জন্য দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০২৩ সালের আগস্টে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচি চালু করা হয়। তবে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া চালুর কারণে শুরু থেকেই এ কর্মসূচি নিয়ে সমালোচনা দেখা দেয়।

প্রথম দিকে কিছুটা সাড়া মিললেও পরবর্তীতে অংশগ্রহণের গতি কমে যায়। বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে সরকার পরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। এরপর কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দেয়।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান সভায় সর্বশেষ অগ্রগতি তুলে ধরেন।

তিনি জানান, ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা—এই চারটি স্কিমে মোট ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৫৪৫ জন নিবন্ধন করেছেন। এসব স্কিমে জমা হয়েছে প্রায় ২৫৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা এবং বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৭৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

সভায় বলা হয়, দেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৮৫ শতাংশ এখনো অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বয়স্ক জনগোষ্ঠী দ্রুত বাড়বে—এ কারণে টেকসই সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলতে পেনশন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

২০৩০ সালের মধ্যে দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের অন্তত একজন সদস্যকে পেনশন স্কিমের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণের নির্দেশ দেন অর্থমন্ত্রী।

এছাড়া শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালু, নমিনিদের জন্য আজীবন পেনশন সুবিধা এবং আউটসোর্সিং কর্মীদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও আলোচনা হয়।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘমেয়াদে টেকসই পেনশন ফান্ড গড়ে তুলতে আস্থা বৃদ্ধি, প্রচার কার্যক্রম জোরদার, সাইবার নিরাপত্তা এবং দক্ষ জনবল নিশ্চিত করা জরুরি।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে