ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

প্রকাশ্যে এল এপস্টেইনের ‘কথিত চিরকুট’

২০২৬ মে ০৭ ১৪:১৬:৫৭
প্রকাশ্যে এল এপস্টেইনের ‘কথিত চিরকুট’

নিজস্ব প্রতিবেদক: যৌন অপরাধে অভিযুক্ত মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে থাকা রহস্য আরও গভীর করেছে একটি কথিত ‘সুইসাইড নোট’ বা চিরকুট। দীর্ঘদিন সিলগালা থাকা এই নথি সম্প্রতি আদালতের নির্দেশে জনসমক্ষে আনা হয়েছে।

নিউইয়র্কের হোয়াইট প্লেইনস ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক কেনেথ এম কারাস নথিটি প্রকাশ করেন। এটি এপস্টেইনের সাবেক সহবন্দী নিকোলাস টারটাগ্লিওনির বিরুদ্ধে চলা একটি ফৌজদারি মামলার নথির অংশ ছিল।

হাতে লেখা ওই চিরকুটে এপস্টেইনের নাম উল্লেখ করে বলা হয়, তার বিরুদ্ধে কয়েক মাস ধরে তদন্ত চললেও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এতে আরও দাবি করা হয়, পুরোনো অভিযোগ সামনে এনে তদন্ত চালানো হচ্ছে। চিরকুটের আরেক অংশে নিজের ইচ্ছায় মৃত্যুকে “বিশেষ প্রাপ্তি” হিসেবে দেখার কথা উল্লেখ ছিল। পাশাপাশি হতাশা ও মানসিক চাপের ইঙ্গিত দিয়ে লেখা ছিল—“তোমরা আমার কাছে কী চাও—আমি কান্নায় ভেঙে পড়ি।” শেষে বড় অক্ষরে “নো ফান” এবং “নট ওর্থ ইট” লেখা ছিল।

টারটাগ্লিওনির দাবি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের জুলাইয়ে কারাগারের সেলে এপস্টেইনকে অচেতন অবস্থায় পাওয়ার পর তিনি এই চিরকুটটি খুঁজে পান। কয়েক সপ্তাহ পর নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের মেট্রোপলিটন কারেকশনাল সেন্টারে এপস্টেইনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তখন তার বয়স ছিল ৬৬ বছর।

নিউইয়র্ক টাইমসের আবেদনের পর আদালত নথিটি প্রকাশ করে। টারটাগ্লিওনি দাবি করেছেন, একটি গ্রাফিক নভেলের ভেতর থেকে তিনি চিরকুটটি পেয়েছিলেন।

যদিও নোটটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এতে ব্যবহৃত কিছু শব্দ এপস্টেইনের পূর্বের ইমেইলেও পাওয়া গেছে। মৃত্যুর সময় তার সেল থেকে উদ্ধার হওয়া আরেকটি নোটেও “নো ফান” শব্দটির উল্লেখ ছিল।

নিউইয়র্ক সিটির মেডিকেল এক্সামিনার এপস্টেইনের মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে ঘোষণা করলেও ঘটনাটি ঘিরে কারাগারের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে।

টারটাগ্লিওনি একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা, বর্তমানে একাধিক খুনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন। ঘটনার সময় এপস্টেইন প্রথমে দাবি করেছিলেন, টারটাগ্লিওনি তার ওপর হামলা করেছেন। তবে পরে তিনি কারা কর্মকর্তাদের জানান, তার সেলমেটের সঙ্গে কোনো সমস্যা ছিল না।

টারটাগ্লিওনি শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। পরে তার আইনজীবীরা ২০২১ সালের মে মাসে ওই চিরকুট আদালতে জমা দেন।ম্যানহাটনের মার্কিন অ্যাটর্নি অফিস জানিয়েছে, জনস্বার্থ বিবেচনায় নথিটি প্রকাশে তাদের কোনো আপত্তি ছিল না।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে