ঢাকা, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

অনিয়মে ক্ষতিগ্রস্ত বিজিআইসি, মুনাফা অর্ধেকে নেমেছে

২০২৬ মে ০৬ ১৮:১৪:০১
অনিয়মে ক্ষতিগ্রস্ত বিজিআইসি, মুনাফা অর্ধেকে নেমেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি (বিজিআইসি)-এর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়মের কারণে কোম্পানিটির মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, যার প্রভাব সরাসরি পড়েছে শেয়ারহোল্ডারদের ওপর।

বীমা আইন এবং আন্তর্জাতিক হিসাব মান (আইএএস) লঙ্ঘনের বিষয়ও উঠে এসেছে কোম্পানিটির কার্যক্রমে। ফলে কোম্পানির আর্থিক অবস্থান নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত দেশের প্রথম বেসরকারি সাধারণ বীমা কোম্পানি বিজিআইসি দীর্ঘ চার দশক পার করলেও ব্যবসায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর পেছনে ব্যবস্থাপনার অদক্ষতা ও দুর্বল প্রশাসনিক কাঠামো বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় বছরের মধ্যে ২০২১ সালে কোম্পানিটির সর্বোচ্চ শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ১ টাকা ৯২ পয়সায়। ওই বছর শেয়ারহোল্ডারদের সর্বোচ্চ ১২.৫০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেওয়া হয়। সর্বশেষ ২০২৫ সালে ইপিএস কমে দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৫১ পয়সায় এবং ডিভিডেন্ড ঘোষণা করা হয়েছে ১১ শতাংশ।

শেয়ারবাজারে ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগও কোম্পানির আর্থিক ক্ষতির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিজিআইসির শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ ছিল ২৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, যার বাজারমূল্য নেমে আসে ১২ কোটি ৪৭ লাখ টাকায়। এতে প্রায় ১১ কোটি ৪০ লাখ টাকা বা ৪৮ শতাংশ লোকসান হয়েছে।

কোম্পানিটির ২০২৪ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে ব্যবস্থাপনার নানা অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে। নিরীক্ষক জানিয়েছেন, আইডিআরএ-এর এসআরও নং ২৮০-ল/২০১৮-এ নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে ব্যবস্থাপনা খাতে অতিরিক্ত ১০ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এই অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে কোম্পানির মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

তথ্য অনুযায়ী, এই অনিয়ম না হলে ২০২৪ সালে কোম্পানিটির মুনাফা ৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ১৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকায় পৌঁছাতে পারত। অর্থাৎ ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্তের কারণে শেয়ারহোল্ডাররা সম্ভাব্য বড় মুনাফা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

এদিকে শ্রম আইন অনুসরণ না করার অভিযোগও রয়েছে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে। ২০০৬ সালের শ্রম আইনের ২৩২ ধারা অনুযায়ী ওয়ার্কার্স প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ড (ডব্লিউপিপিএফ) গঠন বাধ্যতামূলক হলেও বিজিআইসি তা বাস্তবায়ন করেনি। ফলে কর্মীরাও তাদের প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

যদিও বীমা খাতে এই আইন প্রযোজ্য কি না, তা নিয়ে শ্রম মন্ত্রণালয়ের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে এবং বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনও এ বিষয়ে আবেদন করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত নির্দেশনা না থাকলেও কোম্পানিটি ফান্ড গঠন করেনি।

আন্তর্জাতিক হিসাব মান লঙ্ঘনের ঘটনাও সামনে এসেছে। কোম্পানিটি গ্র্যাচুইটি ফান্ড গঠন করলেও আইএএস-১৯ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অ্যাকচুয়ারিয়াল ভ্যালুয়েশন সম্পন্ন করেনি, যা একটি গুরুতর অনিয়ম হিসেবে বিবেচিত।

এ বিষয়ে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ সাইফুদ্দীন চৌধুরী জানিয়েছেন, ১৯৯৬ সালের শেয়ারবাজার ধসের পরও কোম্পানির বিনিয়োগ নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। এছাড়া শ্রম আইন বীমা খাতে একইভাবে প্রযোজ্য নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বিজিআইসির বর্তমান পরিশোধিত মূলধন ৫৪ কোটি ৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৬৬.৬০ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে