ঢাকা, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

ব্যাংকে টাকা রাখাও ঝুঁকিপূর্ণ: জেনে নিন নিরাপদ ব্যাংকের তালিকা

২০২৬ মে ০৬ ১০:৪৪:২৯
ব্যাংকে টাকা রাখাও ঝুঁকিপূর্ণ: জেনে নিন নিরাপদ ব্যাংকের তালিকা

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের ব্যাংকিং খাতে সাম্প্রতিক নানা ঘটনার পর সাধারণ আমানতকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। ব্যাংকে জমা রাখা টাকা তুলতে না পারার অভিযোগ নতুন নয়; এমনকি গ্রাহকদের ক্ষোভে কিছু শাখায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। বিশেষ করে আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা-তে বিক্ষোভ পরিস্থিতি এই সংকটকে আরও দৃশ্যমান করেছে। ফলে এখন অনেকের মনে প্রশ্ন—কোন ব্যাংকে টাকা রাখা সবচেয়ে নিরাপদ?

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি সত্ত্বেও ব্যাংকিং ব্যবস্থাই সঞ্চয়ের সবচেয়ে নিরাপদ মাধ্যম। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা হলো—সব ব্যাংক সমানভাবে শক্তিশালী নয়। তাই ব্যাংক নির্বাচন করার ক্ষেত্রে সচেতনতা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি জরুরি হয়ে উঠেছে।

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৩১টি ব্যাংকের ২০২৪ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পারফরম্যান্স ও স্থিতিশীলতার দিক থেকে কয়েকটি ব্যাংক এগিয়ে রয়েছে। এর মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সিটি ব্যাংক। এছাড়া তালিকায় রয়েছে প্রাইম ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক এবং ডাচ-বাংলা ব্যাংক।

অন্যদিকে, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও টেকসই ব্যাংকিং কার্যক্রমে ভালো অবস্থানে রয়েছে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক এবং শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক। এসব ব্যাংক ধারাবাহিকভাবে স্থিতিশীল পারফরম্যান্স ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

বর্তমান বাজার পরিস্থিতি, মূলধন শক্তি, খেলাপি ঋণের হার ও তারল্য বিবেচনায় ২০২৬ সালে কিছু ব্যাংককে তুলনামূলক নিরাপদ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বেসরকারি খাতের মধ্যে ব্র্যাক, সিটি, ইস্টার্ন, ডাচ-বাংলা, প্রাইম, পূবালী, মিউচুয়াল ট্রাস্ট, যমুনা ও ট্রাস্ট ব্যাংক উল্লেখযোগ্য। অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মধ্যে সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক এবং জনতা ব্যাংক তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বলে মনে করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে ঝুঁকি কম থাকে, কারণ প্রয়োজনে সরকার সরাসরি সহায়তা প্রদান করে।

সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন আমানত স্কিমও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে নিয়মিত ছোট অঙ্ক জমা করে বড় সঞ্চয় গড়ে তোলা সম্ভব। যেমন রূপালী ব্যাংক নতুন ডিপোজিট পেনশন স্কিম চালু করেছে, যেখানে নির্দিষ্ট সময় ধরে মাসিক জমার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ পাওয়া যেতে পারে। তবে এ ধরনের স্কিমে মূলধনের নিরাপত্তা বেশি থাকলেও মুনাফা তুলনামূলক কম হতে পারে।

ব্যাংক নির্বাচন করার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাংকের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, বাংলাদেশ ব্যাংক-এর তদারকি ও রেটিং, ব্যাংকের সুনাম, গ্রাহকসেবা এবং তারল্য পরিস্থিতি। শুধু উচ্চ সুদের হার দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলেও তারা সতর্ক করেছেন।

বর্তমান বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, মানুষ শুধু ব্যাংক খুঁজছে না—বরং খুঁজছে নিরাপত্তা, আস্থা এবং প্রয়োজনে দ্রুত অর্থ উত্তোলনের নিশ্চয়তা। এ কারণে অনেক বিশেষজ্ঞ একাধিক ব্যাংকে সঞ্চয় ভাগ করে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন, যা ঝুঁকি কমানোর একটি কার্যকর উপায় হিসেবে বিবেচিত।

সবশেষে বলা যায়, নিরাপদ থাকতে চাইলে উচ্চ মুনাফার প্রলোভনে না পড়ে বরং শক্তিশালী, সুশাসিত এবং দীর্ঘদিন ধরে ভালো পারফরম্যান্স করা ব্যাংকেই সঞ্চয় রাখা উচিত। সচেতন সিদ্ধান্তই হতে পারে আপনার কষ্টার্জিত অর্থের সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে