ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

পুরানো সিলেবাসের প্রশ্নে এসএসসি পরীক্ষা দিল ১২ পরীক্ষার্থী

২০২৬ এপ্রিল ২৪ ১১:১১:৫৫
পুরানো সিলেবাসের প্রশ্নে এসএসসি পরীক্ষা দিল ১২ পরীক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের শার্শার বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে এসএসসির বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় নিয়মিত ১২ জন পরীক্ষার্থীর মাঝে ভুলক্রমে পুরাতন সিলেবাসের (২০২৫) প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার কলেজটির ২০৬ নম্বর কক্ষে এমন ঘটনা ঘটে।

পরীক্ষা শেষে বিষয়টি জানাজানি হলে ১২ জন পরীক্ষার্থী দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়ে। নিজেদের ফলাফল ও ভবিষ্যৎ নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তায়। বাংলা দ্বিতীয়পত্রে যশোর শিক্ষাবোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ১০ হাজার ২৫৯ জন। এসব পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ১ হাজার ৪৮২ জন অনুপস্থিত ছিল। আর নকল করার দায়ে দুইজন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. আব্দুল মতিন।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জানান, বৃহস্পতিবার বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ওই পরীক্ষায় শার্শার বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রের ২০৬ নম্বর রুমে ২৩ জন নিয়মিত (২০২৬) পরীক্ষার্থীর আসন ছিল। সবাই পরীক্ষায় অংশ নেয়। তারমধ্যে ১১ পরীক্ষার্থী ২০২৬ সালের প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়েছে। ১২ জন পরীক্ষার্থী পুরাতন সিলেবাসের (২০২৫) প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়েছে। পরীক্ষা শেষে পরীক্ষার্থীরা বিষয়টি বুঝতে পারে।

এ দিনের ১ লাখ ১০ হাজার ২৫৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ হাজার ৪৮২ জন অনুপস্থিত ছিল। বাগেরহাট জেলায় একজন ও মেহেরপুর জেলায় একজন পরীক্ষার্থী নকল করার অপরাধে বহিষ্কৃত হয়েছে। অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে খুলনায় ১৬৯ জন, বাগেরহাটে ৯৩ জন, সাতক্ষীরায় ১৫৭ জন, কুষ্টিয়ায় ২৩১ জন, চুয়াডাঙ্গায় ১০৫ জন, মেহেরপুরে ৭৫ জন, যশোরে ২৯১ জন, নড়াইলে ৭৭ জন, ঝিনাইদহে ২১১ জন ও মাগুরায় ৭৩।

বেশ কয়েকজন অভিভাবক জানান, পুরাতন সিলেবাসের প্রশ্নপত্রে নেয়ায় সবাই চিন্তিত। এ ভুলের দায়ভারকে নেবে? যাদের ভুলের জন্য ১২ জন পরীক্ষার্থী দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়েছে অভিভাবকরা দ্রুতই তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। পরবর্তী পরীক্ষায় যেন এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।

বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের হল সুপার ফারুক হোসেন বলেন, আমরাও কনফিউজড যে কিভাবে একই রুমে একই সাবজেক্ট আলাদা দুটি প্রশ্ন আসল। ২০৬ নম্বর রুমে কোন অনিয়মিত পরীক্ষার্থী ছিল না। আমরা এই ১২ জন পরীক্ষার্থীর বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডে যাবো।

এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার নুরুজ্জামান বলেন, তদন্ত ছাড়া এ বিষয়ে কোন ধরনের মন্তব্য করা যাচ্ছে না।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. আব্দুল মতিন বলেন, ‘যশোর শিক্ষাবোর্ডে শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই বাংলা দ্বিতীয়পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে, শার্শার একটি পরীক্ষা কেন্দ্রে কর্মকর্তাদের অসাবধানতার কারণে ১২ পরীক্ষার্থীকে পুরাতন সিলেভাজের প্রশ্নে পরীক্ষা দিতে হয়েছে। বিষয়টি আমাকে অবগত করা হয়েছে। আমি জানার সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে একটি তদন্ত কমিটি করে দ্রুতই প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছি। প্রতিবেদন পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারব।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে