ঢাকা, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

কোষ্ঠকাঠিন্যে সহজ সমাধান জানালেন তাসনিম জারা

২০২৬ এপ্রিল ১৭ ১৯:৩০:০৯
কোষ্ঠকাঠিন্যে সহজ সমাধান জানালেন তাসনিম জারা

নিজস্ব প্রতিবেদক: মলত্যাগে অস্বস্তি বা কোষ্ঠকাঠিন্যকে অনেকেই তুচ্ছ সমস্যা মনে করলেও এটি দীর্ঘদিন অবহেলা করলে পাইলস কিংবা ফিশারের মতো জটিলতায় রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসক তাসনিম জারা।

সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় তাসনিম জারা এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি, প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ ব্যবহারের দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, মল অত্যন্ত শক্ত হয়ে গেলে মলত্যাগের সময় তীব্র ব্যথা হতে পারে এবং পায়ুপথে ফাটল বা ফিশার তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। অনেক রোগী এ সময় ‘ছুরির মতো ধারালো’ ব্যথা অনুভব করেন। এমন অবস্থায় জোর করে মলত্যাগ করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

জরুরি অবস্থায় গ্লিসারিন সাপোজিটরি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে তিনি জানান, এটি সহজলভ্য একটি ওষুধ যা ফার্মেসিতে প্রেসক্রিপশন ছাড়াই পাওয়া যায়। সঠিকভাবে ব্যবহার করলে এটি প্রায় ১৫ মিনিটের মধ্যে মল নরম করতে সহায়তা করতে পারে।

ব্যবহারের নিয়ম হিসেবে তিনি বলেন, সাপোজিটরিটি হালকা পানিতে ভিজিয়ে বাম কাতে শুয়ে পায়ুপথে প্রবেশ করাতে হবে এবং অন্তত ১৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। তবে এটি কার্যকর না হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

তিনি আরও জানান, এ ধরনের ওষুধ নিয়মিত ব্যবহারের জন্য নয়, বরং জরুরি পরিস্থিতিতে সীমিতভাবে ব্যবহার করা উচিত।

কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে তিনটি স্বাভাবিক উপায় উল্লেখ করে তাসনিম জারা বলেন—নিয়মিত হাঁটাচলা, পর্যাপ্ত পানি পান এবং আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, মানুষের পরিপাকতন্ত্র মুখ থেকে পায়ুপথ পর্যন্ত প্রায় ৩০ ফুট দীর্ঘ, যা শরীরের উচ্চতার তুলনায় অনেক বেশি। এই দীর্ঘ পথে খাবার প্রক্রিয়াজাত হয়ে বের হওয়ার জন্য শারীরিক চলাফেরা সহায়ক ভূমিকা রাখে। তাই প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটার পরামর্শ দেন তিনি।

পানি স্বল্পতার কারণে মল শক্ত হয়ে যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, পর্যাপ্ত পানি পান করা কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

খাদ্যতালিকায় আঁশের ঘাটতি পূরণে ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এটি দিনে দুইবার ভরাপেটে খেতে হবে এবং পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। তবে তিন দিনের মধ্যে উন্নতি না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ওষুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে তিনি ল্যাকটুলোজ ও সোনাপাতা (সেনা) ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেন। ল্যাকটুলোজ অন্ত্রে পানি টেনে এনে মল নরম করে এবং সাধারণত দুই দিনের মধ্যে কার্যকর হয়। অন্যদিকে সেনা দ্রুত কাজ করে এবং ৮ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে ফল দেয়।

তবে এসব ওষুধ দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে এবং অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

সবশেষে তাসনিম জারা বলেন, কোষ্ঠকাঠিন্য দীর্ঘস্থায়ী হলে বা ব্যথা বাড়তে থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে, কারণ এর পেছনে পাইলস বা ফিশারের মতো জটিল রোগ থাকতে পারে।

সিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

স্বাস্থ্য এর সর্বশেষ খবর

স্বাস্থ্য - এর সব খবর



রে