ঢাকা, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

বিমা খাতে ইতিবাচক উন্নতি: বাড়ছে বিমাদাবি পরিশোধের হার

২০২৬ এপ্রিল ১৭ ০৭:১০:৫৯
বিমা খাতে ইতিবাচক উন্নতি: বাড়ছে বিমাদাবি পরিশোধের হার

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের জীবন বীমা খাতে দীর্ঘদিনের আস্থাহীনতা কাটিয়ে উঠতে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) বিমাদাবি পরিশোধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এই অগ্রগতির মাঝেও প্রায় ১১ লাখ ৮৫ হাজার গ্রাহক এখনও তাদের পাওনা টাকার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন, যা এই খাতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (ইডরা)-এর অনিরীক্ষিত তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর শেষে জীবন বীমা খাতে মোট দাবির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ১৫৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে কোম্পানিগুলো ৮ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা পরিশোধ করতে সক্ষম হয়েছে। এখনো ৪ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা অপরিশোধিত অবস্থায় রয়েছে। শতাংশের হিসেবে বিমাদাবি পরিশোধের হার পূর্ববর্তী প্রান্তিকের মাত্র ৩৫ শতাংশ থেকে লাফিয়ে ৬৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া মোট ২৮.৪৩ লাখ পলিসির মধ্যে ১৬.৫৮ লাখ গ্রাহক তাদের দাবি বুঝে পেয়েছেন। বিমা সংশ্লিষ্টদের মতে, বছর শেষে লাইসেন্স নবায়নের চাপ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়মিত তদারকি কোম্পানিগুলোকে বিমাদাবি পরিশোধে বাধ্য করেছে। এছাড়া বছরের শেষ দিকে ব্যবসার ভলিউম বাড়ায় কোম্পানিগুলোর হাতে ক্যাশ প্রবাহ বৃদ্ধি পায়, যা পাওনা মেটাতে সহায়ক হয়েছে।

খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গুটি কয়েক কোম্পানি সময়মতো বিমাদাবি মেটানোর বিষয়ে আপসহীন হলেও বড় একটি অংশ এখনো বেশ উদাসীন। বিমা বিশেষজ্ঞ এস এম জিয়াউল হকের মতে, সাধারণত বছরের শেষ তিন মাসে বিমা খাতের প্রায় ৪০-৪৫ শতাংশ ব্যবসা সম্পন্ন হয়। ফলে কোম্পানিগুলোর আর্থিক তারল্য বৃদ্ধি পায় এবং তারা দাবি পরিশোধে বেশি সদিচ্ছা দেখায়। তবে কিছু দুর্বল কোম্পানির দীর্ঘসূত্রিতার কারণে পুরো খাতের ওপর সাধারণ মানুষের নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে।

শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলোর মধ্যে মেটলাইফ বাংলাদেশ ৯৮.৩ শতাংশ বিমাদাবি পরিশোধ করে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছে। কোম্পানিটি ২০২৫ সালে সর্বোচ্চ ২,৮৫৩ কোটি টাকা বিমাদাবি মিটিয়েছে। একইভাবে প্রগতি লাইফ ইনস্যুরেন্স ৯৮.৫ শতাংশ এবং গার্ডিয়ান লাইফ ৯৭.৫ শতাংশ দাবি পরিশোধ করে গ্রাহকদের আস্থার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের মতে, ডিজিটাল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ৩ থেকে ৫ দিনের মধ্যে পেমেন্ট নিশ্চিত করাই তাদের সাফল্যের চাবিকাঠি।

অন্যদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইডরা বেশ কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সংস্থাটির মুখপাত্র সাইফুন্নাহার সুমি জানিয়েছেন, বিমা কোম্পানিগুলোর জন্য গ্রেডিং পদ্ধতি চালু, দুর্বল কোম্পানিগুলোর বিশেষ অডিট এবং ভালো কোম্পানিগুলোকে পুরস্কৃত করার মাধ্যমে স্বচ্ছতা ফেরানোর চেষ্টা চলছে। এছাড়া 'বীমা কোম্পানি রেজোলিউশন আইন' এবং বিমা আইনের সংশোধন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে নির্ধারিত সময়ে দাবি পরিশোধ না করলে কঠোর জরিমানার বিধান রাখা হচ্ছে।

বর্তমান অর্থবছর শেষ হওয়ার আগে গ্রাহকদের সকল বকেয়া পরিশোধের লক্ষে নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিয়মিত মনিটরিং ও ফলোআপ চালিয়ে যাচ্ছে। বিমা খাতের হারানো গৌরব ও আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন মূল লক্ষ্য।

রিমন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে