ঢাকা, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
Sharenews24

নবীজির রওজায় সবুজ গম্বুজ যেভাবে এলো

২০২৬ এপ্রিল ০৪ ১৯:১২:১৭
নবীজির রওজায় সবুজ গম্বুজ যেভাবে এলো

নিজস্ব প্রতিবেদক: মদিনার মসজিদে নববী-এর আকাশে আজ যে সবুজ গম্বুজ দৃশ্যমান, তা মুসলিম বিশ্বের এক অনন্য প্রতীক। এই গম্বুজের নিচেই শায়িত আছেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)।

এই গম্বুজ শুধু একটি স্থাপত্য নয়; এটি ইতিহাস, শ্রদ্ধা, ভক্তি এবং মুসলিম চেতনার গভীর আবেগের প্রতীক। তবে এটি শুরু থেকেই এমন ছিল না—বরং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পরিবর্তন ও পুনর্নির্মাণের মধ্য দিয়ে বর্তমান রূপ লাভ করেছে।

৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে মহানবীর ইন্তেকালের পর তাকে দাফন করা হয় তার স্ত্রী আয়েশা (রা.)-এর কক্ষে। সে সময় সেখানে কোনো গম্বুজ বা জাঁকজমকপূর্ণ স্থাপনা ছিল না; বরং এটি ছিল একেবারেই সরল কাঠামো, যা ইসলামের সরলতা ও আড়ম্বরবিমুখতার প্রতিফলন।

পরবর্তীতে উমাইয়া খলিফা আল-ওয়ালিদ ইবনে আবদুল মালিক-এর সময় (৭০৭–৭০৯ খ্রি.) মসজিদে নববীর সম্প্রসারণ করা হয় এবং নবীজির কক্ষটি মসজিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তখনও কোনো গম্বুজ নির্মিত হয়নি।

প্রথম গম্বুজ নির্মাণ করা হয় ১২৭৯ খ্রিষ্টাব্দে, মামলুক শাসক সুলতান আল-মানসুর কালাওন-এর নির্দেশে। এটি ছিল কাঠের তৈরি এবং বাইরে সীসা দিয়ে আবৃত।

পরবর্তীতে ১৪৮১ সালের অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর মামলুক সুলতান আল-আশরাফ কায়তবায় গম্বুজটি পুনর্নির্মাণ করেন এবং এটিকে আরও দৃঢ় ও স্থায়ী রূপ দেন।

অটোমান আমলে এসে গম্বুজটি বর্তমান পরিচয়ের দিকে এগিয়ে যায়। ১৮১৭ সালে সুলতান মাহমুদ দ্বিতীয়-এর নির্দেশে গম্বুজটি পুনর্নির্মাণ করা হয় এবং তখনই এটি সবুজ রঙে রঞ্জিত করা হয়। এর আগে গম্বুজটি সাদা, ধূসর বা সীসার স্বাভাবিক রঙে ছিল।

এই সবুজ রঙের কারণেই এটি “গ্রিন ডোম” বা “কুব্বাতুল খাদরা” নামে পরিচিতি পায়।

আজকের দিনে এই গম্বুজ মুসলিম বিশ্বের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। এটি কোনো উপাসনার বস্তু নয়; বরং মহানবীর স্মৃতি, ইসলামের ইতিহাস এবং আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন।

মদিনার এই সবুজ গম্বুজ তাই শুধু একটি স্থাপনা নয়—এটি এক দীর্ঘ ইতিহাসের নীরব সাক্ষী, যা যুগে যুগে মুসলমানদের হৃদয়ে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার আলো জ্বালিয়ে রেখেছে।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

ধর্ম ও জীবন এর সর্বশেষ খবর

ধর্ম ও জীবন - এর সব খবর



রে