ঢাকা, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
Sharenews24

দুই বছরেও নেই আইপিও, কবে আসবে শেয়ারবাজারে নতুন কোম্পানি?

২০২৬ মার্চ ২৯ ১৫:১৫:৫৫
দুই বছরেও নেই আইপিও, কবে আসবে শেয়ারবাজারে নতুন কোম্পানি?

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের শেয়ারবাজারে আইপিও খরা কাটার কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। নতুন বিধিমালা কার্যকর হলেও সহসাই নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তির সম্ভাবনা নেই। ফলে প্রায় দুই বছর ধরে চলমান স্থবিরতা আরও দীর্ঘায়িত হতে যাচ্ছে। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, আইপিও অনুমোদনের পরও একটি কোম্পানির তালিকাভুক্ত হতে প্রায় এক বছর সময় লেগে যেতে পারে।

তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের প্রথমভাগে সর্বশেষ পাঁচটি কোম্পানি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছিল—সিকদার ইনস্যুরেন্স, এনআরবি ব্যাংক, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, বেস্ট হোল্ডিং ও টেকনো ড্রাগ। এর মধ্যে টেকনো ড্রাগ ওই বছরের জুলাইয়ে সর্বশেষ তালিকাভুক্ত হয়। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত আর কোনো নতুন কোম্পানি বাজারে আসেনি।

আইপিও প্রক্রিয়া সহজ করতে অন্তর্বর্তী সরকার নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করেছিল। একই সঙ্গে বহুজাতিক ও সরকারি কোম্পানিকে বাজারে আনার উদ্যোগও নেওয়া হয়। কিন্তু না জটিলতায় এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে প্রত্যাশা থাকলেও ফলাফল ছিল শূন্য।

বর্তমানে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলেও শেয়ারবাজার উন্নয়নে দৃশ্যমান কোনো বড় পদক্ষেপ এখনো দেখা যায়নি। অন্যান্য খাতে সংস্কারের উদ্যোগ থাকলেও শেয়ারবাজারে তেমন কার্যকর পরিবর্তন চোখে পড়ছে না। এমনকি সমালোচনার মুখে থাকা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর পক্ষ থেকেও উল্লেখযোগ্য কোনো সংস্কার উদ্যোগ দৃশ্যমান নয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

বর্তমান বিধিমালা অনুযায়ী, আইপিও আবেদনের জন্য প্রসপেক্টাসে সংযুক্ত নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ১২০ দিনের বেশি পুরোনো হতে পারবে না। এছাড়া শুধু অর্ধবার্ষিক বা প্রান্তিক নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন দিয়ে আবেদন করার সুযোগ নেই, যা অনেক কোম্পানির জন্য একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আয়কর (পরিপত্র) ২০১৫ অনুযায়ী ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের হিসাব বছর শেষ হয় ৩১ ডিসেম্বর এবং অন্যান্য কোম্পানির ক্ষেত্রে ৩০ জুন। এ হিসাবে ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো এপ্রিল পর্যন্ত এবং মার্চে হিসাব বছর শেষ হওয়া বহুজাতিক কোম্পানিগুলো জুলাই পর্যন্ত আইপিও আবেদনের সুযোগ পায়।

তবে বাস্তবে এসব কোম্পানির আইপিওতে আসার সম্ভাবনা খুবই কম বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ তালিকাভুক্তির জন্য সর্বশেষ অর্থবছরে মুনাফা থাকা এবং কোনো সঞ্চিত লোকসান না থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এ শর্ত পূরণ করা কঠিন।

অন্যদিকে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য তালিকাভুক্তি বাধ্যতামূলক নয় এবং তারা এ বিষয়ে খুব বেশি আগ্রহীও নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সরকারি মালিকানাধীন বহুজাতিক কোম্পানির শেয়ার ছাড়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বোর্ড অনুমোদন ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় তা বাস্তবায়িত হয়নি।

এ পরিস্থিতিতে আগামী ৩০ জুনে হিসাব বছর শেষ হওয়া কোম্পানিগুলোর ওপরই আইপিও বাজার অনেকটা নির্ভর করছে। এসব কোম্পানি সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে আবেদন করতে পারবে। তবে আবেদন জমার পর যাচাই-বাছাই শেষে অনুমোদন পেতে দেড় থেকে দুই বছর পর্যন্ত সময় লেগে যায়।

নতুন বিধিমালায় স্টক এক্সচেঞ্জের সুপারিশ বাধ্যতামূলক করা হলেও পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কয়েক মাস সময় লাগে। ফলে চলতি বছর নতুন কোনো কোম্পানির তালিকাভুক্তি ও লেনদেন শুরুর সম্ভাবনা খুবই কম। এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ২০২৫ সালের মতো ২০২৬ সালও আইপিওশূন্য থাকতে পারে, যা দেশের শেয়ারবাজারের ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমী নজির হয়ে দাঁড়াবে।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে